বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > Soumitrisha Kundu: কোনও সেলিব্রিটি নয়, ফ্যাশন সেন্স কে শিখিয়েছেন, মিঠাই-এর উত্তরে চমকে যাবেন
শিক্ষক দিবসে কলম ধরলেন সৌমিতৃষা।

Soumitrisha Kundu: কোনও সেলিব্রিটি নয়, ফ্যাশন সেন্স কে শিখিয়েছেন, মিঠাই-এর উত্তরে চমকে যাবেন

  • কাজ হোক বা ব্যক্তিজীবন, জীবনের প্রতিটি ধাপে সততাকে সঙ্গী করার পাঠ দিয়েছেন মা-বাবা। মাটির কাছাকাছি থাকতে শিখিয়েছেন ওঁরা।

সৌমিতৃষা কুণ্ডু

জীবনের পথে চলতে গিয়ে আমরা প্রত্যেকের কাছেই কিছু না কিছু শিখি। তবে আমার জীবনের প্রথম শিক্ষক আমার মা-বাবা। আমার অস্তিত্বের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে তাঁরা। ওঁরা যা শিখিয়েছেন, তা এখনও অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করি।

কাজ হোক বা ব্যক্তিজীবন, জীবনের প্রতিটি ধাপে সততাকে সঙ্গী করার পাঠ দিয়েছেন মা-বাবা। মাটির কাছাকাছি থাকতে শিখিয়েছে। বলেছিলেন, সাফল্য পেয়ে নিজের শিকড় যাতে ভুলে না যাই। ওঁদের সেই উপদেশ আমি মেনে চলেছি। আগামী দিনেও মেনে চলব। শৈশব থেকেই একজন ভালো মানুষ হয়ে ওঠার শিক্ষা দিয়েছেন ওঁরা। আমার মনে হয়, ওঁদের দেখানো পথে আমি চলতে পেরেছি। তাই হয়তো মানুষ আমাকে এত ভালোবাসেন।

আমার মায়ের থেকে আমি আরও একটি জিনিস পেয়েছি। ফ্যাশন সেন্স। ছোটবেলায় যখন মাকে সাজতে দেখতাম, মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতাম। এখনও আমি মায়ের মতো করেই সাজগোজ করি। অন্তত চেষ্টা তেমনই থাকে।

আমার পেশাগত জীবনে কয়েকজনের কথা না বললেই নয়। 'মিঠাই'-এ অভিনয়ের সুবাদে আমি অনেক কিছু শিখেছি। বিশ্বজিৎ আঙ্কল (চক্রবর্তী), স্বাগতাদি (বসু), অর্পিতাদিরা (মুখোপাধ্যায়) আমাকে কত কিছু শিখিয়েছে! সেটে এত হইহুল্লোড় করেও কী ভাবে নিজের কাজটা মন দিয়ে করা যায়, তা ওঁদের দেখেই শিখি। এত বড় মাপের শিল্পী হয়েও সকলের সঙ্গে মিশে যেতে পারেন ওঁরা। কোনও সংলাপকে কী ভাবে আরও বিশ্বাসযোগ্য করা যায়, অনেক সময় তা বিশ্বজিৎ আঙ্কল আমাদের দেখিয়ে দেন। সেটের প্রত্যেককে উনি সাহায্য করেন। আরও ভালো কাজ করতে উৎসাহ জোগান প্রতিনিয়ত।

একবার একটা সঙ্কটের দৃশ্য শ্যুট হচ্ছে। সিদ্ধার্থকে সান্ত্বনা দিতে তার মাথায় হাত রাখে মিঠাই। স্বাগতাদি তখন আমায় বললেন, 'মাথায় হাত রাখিস না। ওর হাতটা শক্ত করে ধর'। আমি তা-ই করেছিলাম। দৃশ্যটা সত্যিই যেন আরও আবেগঘন হয়ে উঠেছিল। এমন শিক্ষক ক'জনই বা পায়!

আমাদের পরিচালক রাজেনদা (রাজেন্দ্র প্রসাদ দাস) আমার অন্যতম শিক্ষক। অভিনয় জীবনের প্রতিটি ধাপে ওই মানুষটিকে দেখে শিখেছি। অনুপ্রাণিত হয়েছি। ওঁর প্রতি আমি কতটা কৃতজ্ঞ, তা হয়তো শব্দে প্রকাশ করতে পারব না!

সব শেষে আসি আমার অনুরাগীদের কথায়। অনুরাগী বলাটা বোধ হয় ঠিক হবে না। তাঁরা আমার বৃহত্তর পরিবার। ওঁদের সঙ্গে আমার রক্তের সম্পর্ক নেই। তবু আমাকে মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসেন ওঁরা। একটু দেখা করার জন্য অনেকে অসুস্থ শরীর নিয়ে স্টুডিয়োর বাইরে অপেক্ষা করেন। এমন নিঃস্বার্থ ভাবে ভালোবাসার পাঠ আর কোথায় পাব বলুন তো? তাই ওঁদের জন্যও বরাদ্দ থাকল শিক্ষক দিবসের শুভেচ্ছা।

বন্ধ করুন