বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > বাংলাতেই পা রাখত ‘এলিয়েন’,পারল না স্রেফ স্পিলবার্গের জন্য! আক্ষেপ ছিল সত্যজিতের
সত্যজিৎ রায় ও 'ইটি' ছবির একটি দৃশ্য। ছবি সৌজন্যে - হিন্দুস্তান টাইমস
সত্যজিৎ রায় ও 'ইটি' ছবির একটি দৃশ্য। ছবি সৌজন্যে - হিন্দুস্তান টাইমস

বাংলাতেই পা রাখত ‘এলিয়েন’,পারল না স্রেফ স্পিলবার্গের জন্য! আক্ষেপ ছিল সত্যজিতের

'ইটি'-র পরিচালক স্পিলবার্গের বিরুদ্ধে তাঁর লেখা গল্প চুরির অভিযোগ এনেছিলেন সত্যজিৎ রায় স্বয়ং। সত্যজিতের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন বিশ্ববিখ্যাত কল্পবিজ্ঞান লেখক আর্থার সি ক্লার্কও!

বাংলা তথা ভারতীয় সিনেমাকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দেওয়া থেকে তাঁকে সুউচ্চ স্থানে প্রতিষ্ঠান করার ব্যাপারে সত্যজিৎ রায়ের মতো এত সফল এখনও পর্যন্ত অন্য কোনও ভারতীয় ছবি পরিচালক পারেননি। ভারতীয় সিনেমার তো বটেই বিশ্ব সিনেমার ইতিহাসেও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম সত্যজিৎ রায়। 'পথের পাঁচালী','নায়ক', 'গুপি গাইন বাঘা বাইন','অরণ্যের দিনরাত্রি' এর মতো অজস্র মাস্টারপিস ছবির নাম জুড়ে রয়েছে তাঁর সঙ্গে। ছবির জগতে অবদানের জন্য তাঁকে অস্কার সম্মানেও ভূষিত করা হয়েছিল।

সুতরাং বলাই বাহুল্য সত্যজিতের পরিচালিত ছবির গুরুত্ব যতটা এ দেশে ঠিক ততটাই বিদেশেও। প্রখ্যাত হলিউডি পরিচালক ওয়েস অ্যান্ডারসন তো একাধিক সাক্ষাৎকারেই স্বীকার করেছেন সত্যজিতের পরিচালনা থেকে ফিল্ম তৈরির একাধিক পাঠ নিয়েছেন তিনি। তাঁর পরিচালিত 'দ্য দার্জিলিং লিমিটেড' ও একাধিক ছবিতে 'রে'-এর উদ্দেশে শ্রদ্ধার্ঘ্য জ্ঞাপন করেছেন তিনি। তালিকায় রয়েছে অস্কার বিজয়ী পরিচালক মার্টিন স্করসেসির নামও। বিভিন্ন সময়ে 'সত্যজিৎ ভক্ত' হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়েছেন 'ট্যাক্সি ড্রাইভার','দ্য রেজিং বুল'-এর পরিচালক।

 

'রে' । ছবি সৌজন্যে - হিন্দুস্তান টাইমস
'রে' । ছবি সৌজন্যে - হিন্দুস্তান টাইমস

তবে এক বিশ্ববিখ্যাত ও বহুল জনপ্রিয় হলিউড পরিচালকের ব্যবহারে মনঃক্ষুণ্ন হয়েছিলেন সত্যজিৎ। শুধু মনখারাপই নয় সেই পরিচালকের কাণ্ডে অত্যন্ত আঘাত পাওয়ার পাশাপাশি বিস্মিতও হয়েছিলেন তিনি। ওই পরিচালকটি আর কেউ নয়, অস্কার বিজয়ী পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ স্বয়ং! ১৯৮২ সালে স্পিলবার্গ পরিচালিত সাই-ফাই ছবি 'ইটি: দ্য এক্সট্রা টেরেস্ট্রিয়াল'। ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পরেই রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে গেছিলেন এই পরিচালক। সারা দুনিয়া জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়ে গেছিল এই ছবি ঘিরে। বক্স অফিসেও তৈরি হয়েছিল একের পর এক রেকর্ড। তবে এই ছবি মুক্তির পরপরই এক বিশ্ব বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের থেকে ফোন কল পেয়েছিলেন 'চারুলতা'-র পরিচালক।

 

'ইটি'- ছবির সেই পোস্টার । ছবি সৌজন্যে - ফেসবুক
'ইটি'- ছবির সেই পোস্টার । ছবি সৌজন্যে - ফেসবুক

ফোনটি করেছিলেন বিখ্যাত কল্পবিজ্ঞান লেখক আর্থার সি ক্লার্ক। ফোনের ওপর থেকে রীতিমতো উত্তেজিতভাবে তিনি সত্যজিতকে জানিয়েছিলেন যে স্পিলবার্গের 'ইটি'-র গল্পের সঙ্গে অদ্ভুত মিল সত্যজিতের লেখা 'দ্য এলিয়েন' ছবির চিত্রনাট্যের। উল্লেখ্য, হলিউডের একটি বিখ্যাত প্রযোজনা সংস্থার জন্য 'দ্য এলিয়েন' ছবির গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেলেন 'রে'। তবে শেষপর্যন্ত নানান কারণে সেই ছবি তৈরি হয়নি। তবে যা সর্বনাশ হওয়ার হয়ে গেছিল। সত্যজিতের লেখা 'এলিয়েন'-এর চিত্রনাট্য 'লিক' হয়ে গেছিল।

১৯৮৩ সালে 'ইন্ডিয়া টুডে'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সত্যজিৎ 'ইটি' প্রসঙ্গে বলেন,' আমার লেখা এলিয়েনের চিত্রনাট্য ছাড়া এই ছবিই তৈরি করতে পারতেন না স্পিলবার্গ।' তাঁর লেখা এই ছবির চিত্রনাট্যে যে পশ্চিমি দুনিয়ার নানান জায়গায় দেদার বিকোচ্ছে সেকথাও জানিয়েছিলেন তিনি। সেই সাক্ষাৎকারেই আর্থার সি ক্লার্কের ফোন করার ঘটনাটিও সামনে আনেন সত্যজিৎ। ' লন্ডন থেকে আর্থার তো ফোনে বলেওছিলেন আমি যেন এই বিষয়টিকে মোটেই হালকা করে না নিয়ে বসে থাকি। বরং কপিরাইটের মামলা ঠুকি ইটি-র বিরূদ্ধে!' কাটা কাটা শব্দে জানিয়েছিলেন ' অভিযান'-এর পরিচালক। তবে শেষপর্যন্ত স্পিলবার্গের বিরুদ্ধে কোনওরকম মামলা দায়ের করেননি সত্যজিৎ। শুধু বলেছিলেন অকারণে 'ইটি'-র ছবির পল্ট কঠিন করেছেন স্পিলবার্গ। সাই-ফাই ছবির গল্প যত সহজ হবে তত বেশি জনপ্রিয় হবে বলে তাঁর বিশ্বাস ছিল। 

 

 

স্টিভেন স্পিলবার্গ। ছবি সৌজন্যে - রয়টার্স
স্টিভেন স্পিলবার্গ। ছবি সৌজন্যে - রয়টার্স

অন্যদিকে স্পিলবার্গ এই 'চুরির অভিযোগ' সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছিলেন। যুক্তি হিসেবে বলেছিলেন তিনি তখন স্কুলের ছাত্র যখন 'দ্য এলিয়েন'-এর চিত্রনাট্য বাজারে 'লিক' হয়ে গেছিল। উল্লেখ্য,' দ্য এলিয়েন'-এর চিত্রনাট্যে রাখা হয়েছিল বাংলার এক গ্রামের পটভূমিকায় নেমে আসবে ভিনগ্রহের এক জীব। তার সন্ধান পাবে গ্রামেরই এক ছোট ছেলে। সেখান থেকেই ছবি এগোবে তাদের বন্ধুত্বের হাত ধরেই।

বন্ধ করুন