বাড়ি > বায়োস্কোপ > 'ভাইয়ের এক ডাকে আমাদের ফেলে চলে যেত শ্বেতা',রিয়ার দাবি খারিজ অভিনেতার জামাইবাবুর
শ্বেতা সিং কীর্তি ও মীতু সিংয়ের সঙ্গে সুশান্ত (ছবি-টুইটার)
শ্বেতা সিং কীর্তি ও মীতু সিংয়ের সঙ্গে সুশান্ত (ছবি-টুইটার)

'ভাইয়ের এক ডাকে আমাদের ফেলে চলে যেত শ্বেতা',রিয়ার দাবি খারিজ অভিনেতার জামাইবাবুর

  • 'পাঁচবার আমাদের একা ফেলে দেশে চলে গিয়েছিলো শ্বেতা ' সুশান্তের পারিবারিক বন্ধনকে কুর্নিশ জানালেন অভিনেতার জামাইবাবু, বিশাল কীর্তি।

সুশান্ত সিংয়ের রহস্য মৃত্যু নিয়ে বাড়তে থাকা জল্পনার মাঝেই মামলার মূল অভিযুক্ত রিয়া চক্রবর্তী প্রয়াত অভিনেতার পরিবারের উপর অভিযোগের আঙুল তোলেন। রিয়ার দাবি, পরিবারের সঙ্গে নাকি সম্পর্ক একেবারেই ভালো ছিল না সুশান্তের। নিজের সাম্প্রতিকতম ব্লগে রিয়ার এই দাবি নস্যাত্ করলেন সুশান্তের প্রবাসী জামাইবাবু বিশাল সিং কীর্তি ।  নিজের ব্লগের ছত্রে ছত্রে ভাই-দিদিদের দৃঢ় বন্ধনকে কুর্নিশ জানিয়ে রিয়ার দাবিকে খণ্ডন করলেন সুশান্তের দিদি শ্বেতার স্বামী বিশাল কীর্তি ।

প্রয়াত অভিনেতার পরিবারের সাথে সম্পর্ক কেমন ছিল তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিশাল লেখেন, তাঁর স্ত্রী শ্বেতা ২০১৪ সাল থেকে অন্তত পাঁচবার তাঁকে এবং তাঁদের সন্তানকে ফেলে রেখে ভারতে এসে সুশান্তের এক ডাকে । তবে এজন্য তাঁর কোনো অভিযোগ নেই , বরং ছোট থেকেই ভাইয়ের প্রতি দিদির ভালোবাসার সাক্ষী থেকেছেন বিশাল। 

২০০৭ সালে বিয়ের পর থেকে মার্কিন মুলুকের ক্যালিফোর্নিয়া নিবাসী শ্বেতা। তবে সুশান্তের পরিবারের সঙ্গে বিশালের সম্পর্কে সেই স্কুলজীবন থেকে। শ্বেতার সহপাঠী বিশাল কীর্তির স্কুলেই পড়াশোনা করেছে সুশান্ত। সেই সময় থেকেই গুড়িয়া-গুলশনের বন্ডিংয়ের সাক্ষী তিনি।

স্ত্রীর পাঁচ দফা ভারত সফর বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বিশাল লেখেন ,একবার ২০১৪ সালে গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে ভারতে যাওয়ার কথা থাকলেও আচমকাই একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানের খবর পেয়ে খুব কম সময়ের নোটিসে পুরোনো টিকিট ক্যানসেল করে দেশে চলে আসেন তাঁর স্ত্রী । সেই অনুষ্ঠানে সুশান্তেরও যোগ দেওয়ার কথা ছিল । ঘটনার এক মাস পরে সন্তানদের নিয়ে বিশাল ভারতে যান এবং সবাই মিলে খুব মজা করে কয়েকটা দিন সেবার কাটিয়েছিলেন।

এছাড়া ২০১৫ সালে সুশান্ত যখন রাঁচিতে ধোনির বায়োপিকের শুটিং করছিলেন তখন সেখানে ভাইয়ের সাথে এসে দেখা করেন শ্বেতা । এর পরে ২০১৬ সালে মাত্র ৩ দিনের জন্য শ্বেতা মুম্বই  উড়ে এসেছিলেন শুধু একসাথে সপরিবারে বসে এম এস ধোনি : দ্য আনটোল্ড স্টোরি দেখবেন বলে । নিজের জেটল্যাগকে বিন্দুমাত্র গুরুত্বও দেননি তিনি । এই প্রসঙ্গে নিজের টুইটেও শ্বেতা লিখেছিলেন ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে সুশান্ত দিদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, চেয়েছিলেন পরিবারের সবাই মিলে একসাথে সিনেমা হলে বসে ধোনির বায়োপিক দেখবেন । সেবার ভাইয়ের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত হয়ে , উদযাপন করতেই ভারতে এসেছিলেন বিশাল পত্নী ।

পরিশেষে বিশাল জানান এর পরে ২০২০ সালে এমন পরিস্থিতিতে আমার স্ত্রী দেশে ফিরলেন , যখন তিনি আর কোনওদিনও তাঁর আদরের ছোট ভাইকে দেখতে পাবেন না । আমি প্রার্থনা করব এইভাবে যেন ওকে আর ভারতে ফিরতে না হয় । নিজে একজন বিবাহিতা , দুই সন্তানের জননী এবং আমেরিকার একজন সফল ব্যবসায়ী মহিলা হওয়া সত্ত্বেও চিরকাল নিজের পরিবারকে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে এসেছে শ্বেতা । যখনই প্রয়োজন হয়েছে , গিয়ে দাঁড়িয়েছেন পরিবারের পাশে ।

রিয়া এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন সুশান্তের সাথে তাঁর পরিবারের সম্পর্ক মোটেই ভালো ছিলোনা ।অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো নিজেদের মধ্যে । যদিও তাঁর এই দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিনেতার পরিবার । প্রথম থেকেই তাঁদের অভিযোগ রিয়াই সুশান্তের আর্থিক সম্পত্তি নয় ছয় করে তাঁকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছেন ।বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কেসের তদন্ত করছে সিবিআই । আর্থিক তছরুপের তদন্তে নেমে ইডি আধিকারিকেরা ইতিমধ্যেই মাদক চক্রের যোগসাজশ খুঁজে পাওয়ায় আসরে নেমেছে আরেক কেন্দ্রীয় সংস্থা নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো ।

বন্ধ করুন