বাড়ি > বায়োস্কোপ > ৮ জুন কেন সুশান্তকে প্রেসক্রিপশন পাঠিয়েছিলেন দিদি প্রিয়াঙ্কা ? সাফাই আইনজীবীর
সুশান্ত সিং রাজপুত 
সুশান্ত সিং রাজপুত 

৮ জুন কেন সুশান্তকে প্রেসক্রিপশন পাঠিয়েছিলেন দিদি প্রিয়াঙ্কা ? সাফাই আইনজীবীর

  • পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দিল সুশান্তের বাবা কেকে সিংয়ের আইনজীবী।
  • সুশান্তের ডিপ্রেশনে ভুগছিল এমন কথা কোনওদিন কোথাউ বলেনি পরিবার। ওঁর অ্যানসাইটির সমস্যা ছিল, সে কথা জানা ছিল। 

ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন সুশান্ত সিং রাজপুত। গত ১৪ জুন অভিনেতার মৃত্যুর পর সেই খবর সামনে আসে। মুম্বই পুলিশের তরফেও জানানো হয় প্রয়াত অভিনেতা মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত ছিলেন এবং তাঁর ঘর থেকেও ডিপ্রেশনের ওষুধ এবং বেশ কিছু প্রেসক্রিপশন পাওয়া গিয়েছে। তবে পরিবারের তরফে জানানো হয় সুশান্তের মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত হওয়ার কথা, কিংবা বাইপোলার হওয়ার কথা কোনওদিনই জানতেন না তাঁরা। এফআইআরেও সেকথাই জানানো হয়েছে।

 তবে সম্প্রতি মিডিয়ায় ফাঁস হয়ে যায় দুটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, ৮ জুনের সেই হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে দেখা যায় সুশান্তের দিদি প্রিয়াঙ্কা সিং সুশান্তকে কিছু ওষুধ নেওয়ার পরামর্শ দেন প্রিয়াঙ্কা। এমনকি কী দিল্লির এক হাসপাতাল থেকে একটি প্রেসক্রিবশনও সুশান্তকে হোয়াটসঅ্যাপ করেন প্রিয়াঙ্কা। রিয়ার আইনজীবী সতীশ মানেসিন্ধের কথায় এটি জানতে পারবার পরেই সুশান্তের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ান রিয়া এবং অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। এরপর থেকেই প্রশ্ন ঘুরপাক থেকে থাকে তবে কি সুশান্তের অবসাদগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি জানা ছিল পরিবারের ?  কেন ‘বে-আইনিভাবে' সুশান্তকে প্রেসক্রিবশন পাঠিয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা? 

এদিন এই সব প্রশ্নের জবাব দিলেন সুশান্তের পরিবারের আইনজীবী বিকাশ সিং। তিনি বলেন, সুশান্তের অ্যানসাইটির (উদ্বিগ্ন) কথা জানত পরিবার। কিন্তু অ্যানসাইটি আর ডিপ্রেশন এক জিনিস নয়। সুশান্তকে প্রিয়াঙ্কা যে ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল সেটা অ্যানসাইটির জন্যই দেওয়া হয়, সেটা ডিপ্রেশনের ওষুধ নয়, আপনারা যে কোনও মনোচিকিত্সককে প্রশ্ন করে এর উত্তর জানতে পারেন। প্রিয়াঙ্কা নিজে এই ওষুধ খায় অ্যানসাইটির সমস্যার হলে। এবং করোনা পরিস্থিতিতে অনলাইনে চিকিত্সকের সঙ্গে পরামর্শ নিয়ে প্রেসক্রিবশন পাঠানোটা এখন মোটেই বে-আইনি নয়, জানান বিকাশ সিং। সুশান্তের অ্যানসাইটির কথা এফআইআরেও উল্লেখিত রয়েছে।

এছাড়াও ২৬ নভেম্বর ২০১৯-এর এক চ্যাটে সুশান্তের দিদি নীতু সিং শ্রুতি মোদীর উদ্দেশে লেখেন, ‘শ্রুতি দয়া করে আমাকে চিকিত্সকের প্রেসক্রিপশন পাঠাও’। নীতু এরপর বলেন তিনি সেই চিকিত্সকের সঙ্গে দেখা করতে চান বাড়িতে এবং নির্দিষ্ট সময় জানতে চান। নীতু ঘন্টাখানেক পর চিকিত্সকের প্রেসক্রিপশনের একটি ছবি পাঠান শ্রুতি মোদী।

সেই সম্পর্কে বিকাশ সিং বলেন, সেই প্রেশক্রিপশনে কিছু ওষুধের নাম লেখা ছিল, কোনও রকম রোগের নাম লেখা ছিল না। তিনি পরিষ্কার বলেন, ‘পরিবার কোনওদিন কোথাউ জানায়নি সুশান্ত ডিপ্রেশনে ছিল এবং রিয়া সুশান্তের জীবনে আসবার পর সুশান্তের মানসিক পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হয়ে যায়’।

সুশান্ত ২০১৩ সালেও নাকি মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত হওয়ার কারণে মনোচিকিত্সকের পরামর্শ নিয়েছিলেন, সাক্ষাত্কারে এমন দাবি করেছেন রিয়া চক্রবর্তী। এই প্রসঙ্গে বিকাশ সিং জানান, ‘কোনও ছোটখাটো ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় সুশান্ত ডিপ্রেশনে ছিল’।

রিয়ার দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন সেই চিকিত্সকও যাঁর নাম রিয়া নিজের সাক্ষাত্কারে নেন। হরিশ শেট্টির দাবি, ডিপ্রেশন নয় ইনসোমনিয়ার সমস্যা নিয়ে ২০১৪ সালে একবার তাঁর বান্দ্রার ক্লিনিকে এসেছিলেন সুশান্ত সিং রাজপুত।

বন্ধ করুন