বাড়ি > বায়োস্কোপ > সুশান্তের মৃত্যুর CBI তদন্ত : রিয়া বনাম সুশান্তের পরিবারের আইনি লড়াই দেখুন এক নজর
রিয়া বনাম সুশান্তের পরিবার 
রিয়া বনাম সুশান্তের পরিবার 

সুশান্তের মৃত্যুর CBI তদন্ত : রিয়া বনাম সুশান্তের পরিবারের আইনি লড়াই দেখুন এক নজর

  • সুশান্তের মৃত্যুর ৬৫ দিনের মাথায় এই মৃত্যুর তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিল সর্বোচ্চ আদালত। দেখে নিন রিয়া বনাম সুশান্তের পরিবারের আইনি লড়াইয়ের গতিপ্রকৃতি-

সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর তদন্ত করবে সিবিআই। আজ সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি হৃষিকেশ রায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ এই মামলার তদন্ত মুম্বইয়ে স্থান্তরিত করবার রিয়া চক্রবর্তীর পিটিশন খারিজ করে দিল। শুধু তাই নয়, বিহার পুলিশের এফআইআর পুরোপুরি বৈধ এবং এই মামলার সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করবার অধিকারও রয়েছে বিহার সরকারের, পর্যবেক্ষণ শীর্ষ আদালতের।

এক নজরে দেখে নিন এই মামলার টাইমলাইন-

 ১৪ জুন -  বান্দ্রার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার হয় সুশান্তের দেহ। অস্বাভাবিক মামলার তদন্ত শুরু করে মুম্বই পুলিশ। যদিও শুরু থেকেই তাঁদের দাবি আত্মহত্যা করেছেন সুশান্ত। এই মামলার কোনও এফআইআর দায়ের করেনি মুম্বই পুলিশ। 

২৫ জুলাই- সুশান্তের বাবা কেকে সিং পাটনার রাজীব নগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন রিয়া চক্রবর্তী সহ  মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে। সুশান্তকে আত্মহত্যায় প্ররোচণা দেওয়া, আর্থিক এবং মানসিক নির্যাতন সহ অভিনেতার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ কোটি গায়েব হওয়ার কথা বিহার পুলিশকে জানান কেকে সিং। এফআইআরের খবর প্রকাশ্যে আসে ২৭ জুলাই। 

২৯ জুলাই- রিয়া চক্রবর্তীর আইনজীবী সতীশ মানেসিন্ধে,তাঁর মক্কেলের তরফে সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন দাখিল করেন যাতে সুশান্তের মৃত্যু তদন্ত দ্রুত মুম্বইয়ে স্থানান্তরিত করা হয়।

৩১ জুলাই- স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এই মামলার সঙ্গে যুক্ত আর্থিক তছরুপের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে রিয়া চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। পাটনা পুলিশের এফআইরের ভিত্তিতেই দায়ের হয় এনফোর্টমেন্ট কেস ইনফরমেশন রিপোর্ট।

৩১ জুলাই - একটি ২০ সেকেন্ডের ভিডিয়ো বার্তা জারি করে সুশান্তের মৃত্যুর মূল অভিযুক্ত রিয়া চক্রবর্তী বললেন, 'আমার ভগবান এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আমি নিশ্চিত আমি সুবিচার পাব। যদিও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে আমার সম্পর্কে বহু ভয়ঙ্কর কথা বলা হচ্ছে আমি কোনওরকম মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকছি আমার আইনজীবীদের পরামর্শে। যেহেতু মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। সত্যমেব জয়তে। সত্যের হয় হবেই'।

৩ অগস্ট- সুশান্তের বাবা কেকে সিং একটি ভিডিয়ো বার্তা জারি করেন। তিনি বলেন, 'আমি বান্দ্রা পুলিশকে ফেব্রুয়ারি মাসে বলেছিলাম ওর জীবন সংকটে রয়েছে। জুনের ১৪ তারিখে  ও (সুশান্ত) মারা গেল। তারপরেও আমি বলেছিলাম ২৫ ফেব্রুয়ারি আমি যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলাম,তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে। ওঁর চলে যাওয়ার ৪০ দিন পরেও কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমি পাটনা পুলিশের এফআইআর দায়ের করেছি'। 

৪ অগস্ট- সুশান্তের বাবা কেকে সিংয়ের আবেদনে সাড়া দিয়ে এই মামলার তদন্তভার কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রকে সুপারিশ করে বিহার সরকার।

৫ অগস্ট-  রিয়ার পিটিশনের শুনানি চলাকালীন কেন্দ্রের সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা শীর্ষ আদালতকে জানায় সুশান্তের মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। সেইমতো এইদিন রাতেই নোটিফিকেশন জারি করা হয় সিবিআইয়ের জন্য। 

৬ অগস্ট- পাটনা পুলিশের এফআইআরের ভিত্তিতে রিয়া চক্রবর্তী, তাঁর বাবা ইন্দ্রজিত্ চক্রবর্তী, ভাই শৌভিক চক্রবর্তী, মা সন্ধ্যা চক্রবর্তী, ম্যানেজার শ্রুতি মোদি এবং সুশান্তের বাড়ির হাউজ ম্যানেজার স্যামুয়েল মিরান্ডার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে সিবিআই।

৭ অগস্ট- রিয়া ও তাঁর ভাইকে প্রথমবার জিজ্ঞাসাবাদ করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। প্রায় ৯ ঘন্টা ধরে জেরা করা হয় রিয়াকে। রেকর্ড করা হয় বয়ান। 

৮ অগস্ট-  রিয়া তাঁর আইনজীবীদের মারফত সংবাদমাধ্যমকে জানান সুশান্তের সম্পত্তি বলতে তাঁর কাছে রয়েছে কেবলমাত্র সুশান্তের হাতে লেখা একটি নোট, যেখানে রিয়ার পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জাহির করেছেন প্রয়াত অভিনেতা এবং একটি জলের বোতল। যা ছিছোড়ে ছবির মার্চেন্ডাইজ। 

১০ অগস্ট-  সুপ্রিম কোর্টে নতুন আর্জি দাখিল করলেন সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু মামলার মূল অভিযুক্ত রিয়া চক্রবর্তী। সোমবার সর্বোচ্চ আদালতে দাখিল হলফনামায় রিয়ার আবেদন এই মামলায় মিডিয়া ট্রায়াল অবিলম্বনে বন্ধ করা হোক। কারণ মিডিয়া তাঁকে এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত করবার চেষ্টা করছে।

১১ অগস্ট-  রিয়ার পিটিশনের চূড়ান্ত শুনানির দিন শীর্ষ আদালতকে রিয়ার আইনজীবী 'রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো', ‘চূড়ান্ত রাজনীতিকরণ’ - এমনই সব যুক্তি খাড়া করে সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর মামলা মুম্বইয়ে স্থানান্তরের আর্জি জানান। সব পক্ষের বক্তব্য শুনলেও রায়দান ঝুলে থাকে আদালতে। 

১৩ অগস্ট- সবপক্ষ সুপ্রিম কোর্টে লিখিত জবাব জমা দেয়।

১৮ অগস্ট- রায়দানের আগের দিন রিয়া  নিজের আইনজীবীর মাধ্যমে একটি দীর্ঘ বিবৃতি জারি করে সুশান্তের পরিবারের উপর গুরুতর অভিযোগ আনেন। বলেন শুরু থেকেই তাঁর সম্পর্ক ভালো ছিল না বয়ফ্রেন্ডের পরিবারের সঙ্গে।মদ্যপ অবস্থায় রিয়ার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন সুশান্তের দিদি প্রিয়াঙ্কা, তাঁর শ্লীলতাহানি করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন অভিযুক্ত রিয়া চক্রবর্তী।

১৯ অগস্ট-  রিয়া চক্রবর্তী এবং মহারাষ্ট্র সরকারের দলিল মানল না দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট বুধবার ঐতিহাসিক রায় দিয়ে জানায়, সুশান্তের মৃত্যুর তদন্ত করবার পূর্ণ জুরিসডিকশন রয়েছে বিহার পুলিশের। পাশাপাশি সিঙ্গল বেঞ্চের এই রায়ের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে না মহারাষ্ট্র সরকার, জানিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এবং সুশান্তের মৃত্যুর সংক্রান্ত অন্য কোনও এফআইআর দায়ের হলেও সেটির তদন্ত করবে সিবিআই, সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের।

বন্ধ করুন