বাড়ি > বায়োস্কোপ > ‘আমি জানি তুই অনেক কষ্টে ছিলিস’,সুশান্তের স্মৃতি আঁকড়ে খোলা লিখলেন চিঠি দিদি শ্বেতা
ভাই সুশান্তকে স্মরণ করে আবেগঘন বার্তা দিদি শ্বেতা সিং কীর্তির (ছবি-ফেসবুক)
ভাই সুশান্তকে স্মরণ করে আবেগঘন বার্তা দিদি শ্বেতা সিং কীর্তির (ছবি-ফেসবুক)

‘আমি জানি তুই অনেক কষ্টে ছিলিস’,সুশান্তের স্মৃতি আঁকড়ে খোলা লিখলেন চিঠি দিদি শ্বেতা

  • ক্ষমা করে দে সোনা...ক্ষমা করে দে, তোকে ওতো কিছুর মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছ…সুশান্ত সিং রাজপুতকে স্মরণ করে খোলা চিঠি লিখলেন দিদি শ্বেতা। 

ভাইয়ের অন্তিম দর্শন করতে পারেননি। তবে বুধবার পাটনা পৌঁছোলেন সুশান্ত সিং রাজপুতের দিদি শ্বেতা সিং কীর্তি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন শ্বেতা,করোনা সংকটের মাঝে বন্ধ আন্তর্জাতিক বিমান,অনেক চেষ্টার পর বিশেষ বিমানে বুধবার রাতে পাটনা পৌঁছেছেন তিনি। চার দিদির আদরের এক ভাই সুশান্ত সিং রাজপুত। বাড়ির ছোটছেলে,ছোটথেকেই বড় হয়েছেন বাবা-মা আর দিদিদের আদরে।  ভাই যে এ ভাবে ফাঁকি দিয়ে চলে যাবে তা মেনে নেওয়া কঠিন। সুশান্তের জন্য এদিন একটি খোলা চিঠিও লেখেন তাঁর দিদি। 

চিঠিতে শ্বেতা লেখেন, 'আমার সোনা,আমার বাবু, আমার বাচ্চা..হয়ত শারীরিকভাবে আমাদের সঙ্গে নেই এটা ঠিক এবং হ্যাঁ সেটা ঠিক আছে...আমি জানি তুই অনেক কষ্টের মধ্যে ছিলিস,এবং তুই লড়াই করছিলিস,কারণ তুই একজান যোদ্ধা। ক্ষমা করে দে সোনা...ক্ষমা করে দে যে তোকে ওতো কিছুর মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে..যদি তোর থেকে আমি সব যন্ত্রণাগুলো নিয়ে নিতে পারতাম এবং আমার আনন্দগুলো তোকে দিতে পারতাম...।

সুশান্তের দিদির ফেসবুক পোস্ট
সুশান্তের দিদির ফেসবুক পোস্ট

'তোর ওই উজ্জ্বল চোখ দুটো এই দুনিয়াকে শিখিয়েছে কীভাবে স্বপ্ন দেখতে হয়,তোর ওই অমলিন হাসিটা বারবার প্রকাশ করেছে তোর হৃদয়ের পবিত্রতা। তোকে সবাই এইভাবেই ভালোবাসবে সোনা এবং আরও ভালোবাসবে..তুই যেখানেই থাকিস ভালো থাকিস...আনন্দে থাকিস এবং মনে রাখিস যে সকলে তোকে ভালোবাসে,আজীবন শর্তহীনভাবে এভাবেই তোকে তারা ভালোবেসে যাবে।

আমার প্রিয় মানুষের জানাই...এটা একটা পরীক্ষার সময়..কিন্তু যখনই ভালোবাসা আর ঘৃণার মধ্যে বেছে নেওয়ার সময় আসবে,দয়া করে  উদারতা,সহনশীলতাকে রাগের চাইতে এগিয়ে রাখ,স্বার্থপরতাকে ভুলে নিঃস্বার্থ হয়ে উঠ।নিজেকে ক্ষমা কর,অন্যকে ক্ষমা কর, সবাই নিজের নিজের লড়াইটা লড়াছে,সহনশীল হও নিজের প্রতি,অন্যের প্রতি...সকলের প্রতি। মনের দরজাটা কোনওদিন বন্ধ কর না’।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সূত্রে খবর,সুশান্তের বাবা মুম্বই পুলিশকে দেওয়া বয়ানে জানিয়েছেন তাঁর ছেলে অবসাদগ্রস্ত ছিল না জানতেন না তিনি। হ্যাঁ,মাঝেসাঝে মন খারাপের কথা বলত,ব্যাস ওইটুকুই। কিন্তু তাঁর দিদির এই চিঠিতে পরিষ্কার সবকিছু ঠিক ছিল না সুশান্তের সঙ্গে,তা জানতেন তার এই দিদি। 

এর আগেও নিজের ফেসবুক পোস্টে শ্বেতা জানিয়েছিলেন সুশান্তের মৃত্যুর খবর  জানবার পর কীভাবে তাঁর পাঁচ বছরের ছেলে সান্ত্বনা দিয়েছে তাঁকে। তিনি লেখেন, যখন আমি নির্বাণকে বললাম মামু আর নেই,ও জবাব দিল কিন্তু তোমার মধ্যেই তো মামা বেঁচে রয়েছে..পরপর তিনবার একই কথা আওরে গেল। যখন একটা পাঁচ বছরের বাচ্চা এইরকম কিছু একটা বলে তখন মনে হয় আমাদের সবাইকে মন শক্ত করতে হবে..সবাই নিজেদের শক্ত কর..বিশেষত সুশান্তের অনুরাগীদের বলছি..একটা কথা মনে রাখ সুশান্ত আমাদের মনের মধ্যে বেঁচে থাকবে,আজীবন থাকবে..তোমরা এমন কিছু করো না যা ওঁর আত্মাকে কষ্ট দেবে..মন শক্ত কর!'

প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার সুশান্তের অস্থি বিসর্জন দেবে তাঁর পরিবার,জানিয়েছেন তাঁর দিদি শ্বেতা সিং কীর্তি।

বন্ধ করুন