বাড়ি > বায়োস্কোপ > প্রয়াত ‘রজনীগন্ধা’ পরিচালক বাসু চট্টোপাধ্যায়, বয়স হয়েছিল ৯০ বছর
প্রয়াত বাসু চট্টোপাধ্যায়
প্রয়াত বাসু চট্টোপাধ্যায়

প্রয়াত ‘রজনীগন্ধা’ পরিচালক বাসু চট্টোপাধ্যায়, বয়স হয়েছিল ৯০ বছর

  • বার্ধক্যজনিত সমস্যার কারণেই মৃত্যু হয়েছে এই বাঙালি পরিচালকের।

ফের ইন্দ্রপতন বলিউডে। চলে গেলেন বর্ষীয়ান বাঙালি পরিচালক বাসু চট্টোপাধ্যায়। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে রজনীগন্ধা, বাতো বাতো মে, এক রুকা হুয়া ফাসলা, চিত্চোরের মতো কালজয়ী ছবি। বাসু চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে IFTDA, জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা পিটিআই।

বার্ধক্যজনিত সমস্যার কারণেই মৃত্যু হয়েছে এই বাঙালি পরিচালকের। পরিচালক তথা ইন্ডিয়ান ফিল্ম অ্যান্ড টিভি ডিরেক্টরস অ্যাশিয়েশনের সভাপতি অশোক পন্ডিত টুইট করেন, আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি কিংবদন্তি পরিচালক বাসু চট্টোপাধ্যায় আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। ওঁনার শেষকৃত্য আজ সম্পন্ন হবে সান্তাক্রুজ শ্মশানে দুপুর ২টো নাগাদ। এটা ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা আপনাকে খুব মিস করব স্যার'।

বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে দাপটের সঙ্গে ছবি পরিচালনা করেছেন যে কজন বাঙালি পরিচালক তাঁর মধ্যে অন্যতম বাসু চট্টোপাধ্যায়। হিন্দির পাশাপাশি বাংলা ছবির পরিচালনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। তাঁর বাংলা ছবিগুলো বেশি বাস্তববাধী বলে মনে করেন অনেক চলচ্চিত্র সমালোচক। মাতৃভাষায় হঠাত্ বৃষ্টি, হচ্ছেটা কী, হঠাত্ সেইদিন-এর মতো ছবি পরিচালনা করেছেন বাসু চট্টোপাধ্যায়।

বাসু চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টুইট বার্তায় তিনি লেখেন, কিংবদন্তি পরিচালক তথা চিত্রনাট্যকার বাসু চ্যাটার্জির মৃত্যুতে আমি শোকাহত। উনি আমাদের ছোটি সি বাত, চিত্চোর, রজনীগন্ধা, ব্যোমকেশ বক্সী, রজনীর মতো ছবি উপহার দিয়েছেন। পরিবার,বন্ধু, অনুরাগী এবং চলচ্চিত্র জগতের প্রতি রইল আমার গভীর সমবেদনা'।

সত্তরের দশকে হিন্দি ছবির অ্যাংরি ইয়াং ম্যান তথা অ্যাকশন জঁর ছবির জমানা বলেই মনে করা হয়, সেই সময় দাঁড়িয়েও অমল পালেকরের সঙ্গে জুটি বেঁধে একের পর এক হিট ছবি উপহার দিয়েছেন বাসু চট্টোপাধ্যায়,যা মানুষের সাধারণ জীবনের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। আর ঠিক এই জায়গাতেই অনন্য বাসু চট্টোপাধ্যায়।

অমিতাভ বচ্চন,রাজেশ খান্না, দেব আনন্দের মতো সুপারস্টারদের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি। তবে বাসু চট্টোপাধ্যায়ের ছবিতে সুপারস্টারেরা ধরা দিয়েছেন একজন অভিনেতা হিসাবে।  মনজিলে অমিতাভ বচ্চন, চক্রব্যূহতে রাজেশ খান্না, শকিনসে মিঠুন চক্রবর্তী, মন পসন্দে দেব আনন্দকে একদম ভিন্ন অবতারে পেয়েছে দর্শকরা।

১৯৮৬ সালে মুক্তি পায় বাসু চট্টোপাধ্যায় পরিচালক ইক রুকা হুয়া ফায়সলা। টুইয়েলভ অ্যাংরি মেন-কে ভারতীয় প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেছিলেন পরিচালক। এটি ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম সম্পদ হিসাবে ধরা হয়।

শুধু চলচ্চিত্রেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না এই পরিচালক। দূরদর্শনের জন্য ব্যোমকেশ বক্সী,রজনীর মতো হিট সিরিজ পরিচালনার করেছেন বাসু চট্টোপাধ্যায়। তাঁর মৃত্যু চলচ্চিত্র জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। 

 

বন্ধ করুন