বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > বিতর্কের মুখে পড়ে মুরলীধরনের বায়োপিক থেকে সরে দাঁড়ালেন বিজয় সেতুপতি
মুরলির বায়োপিক সেরে সরে দাঁড়ালেন বিজয় সেতুপতি 
মুরলির বায়োপিক সেরে সরে দাঁড়ালেন বিজয় সেতুপতি 

বিতর্কের মুখে পড়ে মুরলীধরনের বায়োপিক থেকে সরে দাঁড়ালেন বিজয় সেতুপতি

  • মুরলীধরন নিজে বিজয়কে এই ছবি থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান। জানুন গোটা বিতর্কের কারণ-

খোদ মুথাইয়া মুরলীধরনের আবেদন জানিয়েছিলেন বিজয় সেতুপতিকে, সেই অনুরোধ মেনেই শ্রীলঙ্কার তারকা ক্রিকেটারের বায়োপিক থেকে সরে দাঁড়ালেন অভিনেতা বিজয় সেতুপতি। চলতি মাসের ৮ তারিখেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল মুরলীধরনের বায়োপিকে নাম ভূমিকায় অভিনয় করবেন বিজয়। এরপর থেকেই নতুন বিতর্ক দানা বাঁধে, সোশ্যাল মিডিয়ায় বয়কটের ডাক দেওয়া হয় বিজয় সেতুপতিকে। শ্রীলঙ্কান তামিল মুরলীধরনের চরিত্রে কীভাবে অভিনয় করতে পারেন বিজয় ? প্রশ্ন ছিল নেটিজেনদের একাংশের। কারণ মুরলীধরনকে মূলত শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মহিন্দা রাজাপক্ষর সমর্থক হিসাবেই বিবেচনা করা হয়। যাঁর শাসনকালে ৩০ বছর ধরে দ্বীপ রাষ্ট্রে মালায়াগা তামিল বা সিংহলিজ হিল কান্ট্রি তামিলের উপর অকথ্য অত্যাচার হয়েছে, এমনকি নির্বিচারে হয়েছে গণহত্যাও। ১৯ শতকে ভারত থেকে চা চাষের কারনে শ্রীলঙ্কার বুকে পা রেখেছিল এই সব তামিলরা। 

ভারতীয় তামিলরা বিজয়ের সিদ্ধান্তে মনোক্ষুণ্ন হন, তা দেখেই মুরলীধরন নিজে বিজয় সেতুপতিতে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান। টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ৮০০ উইকেটের মালিক বলেন তাঁর জীবনী পর্দায় জীবন্ত করে তুলতে গেলে বিরাট ক্ষতি হতে পারে বিজয় সেতুপতির কেরিয়ারে। তাই তিনি কোনওভাবেই চান না বিজয় এই ঝুঁকিটা নিক। মুরলীধরনের সেই আনুষ্ঠানিক বিবৃতি টুইটারে শেয়ার করে সোমবার বিকালে অভিনেতা লিখলেন- ‘ধন্যবাদ এবং বিদায়’। 

গোটা বিতর্ক নিয়ে একটি খোলা চিঠি লেখেন মুরলীধরন। এই কিংবদন্তী অফস্পিনার লিখেছেন-  '২০১৯ সালে আমি বলেছিলাম আমার কেরিয়ারের দিক থেকে ২০০৯ সালটি শ্রেষ্ঠ।আর সেটাকেই বিকৃত করে লেখা হল যেহেতু ওই সময় তামিলদের গনহত্যা হয়েছে তাই আমি ওই সালকে শ্রেষ্ঠ বলেছি।আমার কাছে সিংহলিজ হিল কান্ট্রি তামিল এবং এলাম তামিলের কোন পার্থক্য নেই।গনহত্যার সময় আমি নিজে ভয়ে ভয়ে থাকতাম আমার পরিচিতরা স্কুল,কলেজ ,অফিস থেকে ঠিক ভাবে বাড়ি ফিরবে তো? আমি কখন গনহত্যাকে সমর্থন করি না। আমি নিজে এলাম তামিলদের আমার নিজের সম্প্রদায়ের থেকে বেশি সহায়তা করেছি। যদিও আমি এইধরনের কথা বলতে চাই না। তাও পরিস্থিতি আমাকে বাধ্য কর।'

ছবির চোখ ধাঁধানো ফার্স্ট লুক 
ছবির চোখ ধাঁধানো ফার্স্ট লুক 

এই বলে তিনি একটি তার করা সোশ্যাল কাজ এবং চ্যারিটি কাজের লিস্ট প্রকাশ করেন। মুরলী জানিয়েছেন শীঘ্রই প্রযোজকরা বিজয়ের পরিবর্ত হিসাবে অন্য কাউকে খুঁজে নেবে, তবে সেই কাজ নিঃসন্দেহে সহজ হবে না। 

‘800’ পরিচালনার দায়িত্বে এমএস ত্রিপাঠী। মুরলীর জীবনের লড়াইয়ের গল্প, হার না মানার মানসিকতা,অদম্য জেদ- এই সব নিয়েই তৈরি হবে ছবিটি। ভারতীয় প্রযোজক সংস্থা ট্রেন মোশন পিকচার্স এবং ধর মোশন পিকচার্স যৌথভাবে প্রযোজনা করছে এই ছবি। 

বন্ধ করুন