বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > প্রকাশ্যে নাসিরুদ্দিনকে ঠাটিয়ে চড় মেরেছিলেন তিনি! তারপর? নিজেই জানালেন রুদ্রনীল
'মাইকেল' ছবির শুটিংয়ে নাসির এবং রুদ্র। (ছবি সৌজন্যে - ফেসবুক)
'মাইকেল' ছবির শুটিংয়ে নাসির এবং রুদ্র। (ছবি সৌজন্যে - ফেসবুক)

প্রকাশ্যে নাসিরুদ্দিনকে ঠাটিয়ে চড় মেরেছিলেন তিনি! তারপর? নিজেই জানালেন রুদ্রনীল

  • নাসিরুদ্দিন শাহ-এর জন্মদিনে তাঁর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে নানান অজানা ঘটনা শেয়ার করলেন রুদ্রনীল ঘোষ। 'মাইকেল'-এ কেন্দ্রীয় চরিত্রে নাসির থাকলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিলেন রুদ্র। 

৭১-এ পড়লেন নাসিরুদ্দিন শাহ। বরাবরেরই প্রচার বিমুখ এই কিংবদন্তি অভিনেতা এবারও নিজের জন্মদিন নিয়ে বিন্দুমাত্র সাড়াশব্দ তোলেননি। কিছুদিন আগেই মুম্বইয়ের এক বেসরকারি হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। তবে তাঁর অনুরাগীর তালিকায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রয়েছেন বলিউড থেকে টলিউডের নানান জনপ্রিয় অভিনেতা,অভিনেত্রীরা। এঁদের মধ্যে অন্যতম রুদ্রনীল ঘোষ। 'তিন' ছবি খ্যাত পরিচালক ঋভু দাশগুপ্ত পরিচালিত 'মাইকেল' ছবিতে নাসিরুদ্দিনের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন রুদ্র। তবে নানান জটিলতার কারণে সে ছবি বড়পর্দায় মুক্তি না পেলেও স্ট্রিমিং শুরু হয়েছে নেটফ্লিক্সে। জন্মদিনে 'বার্থ ডে বয়' তথা অন্যতম প্রিয় অভিনেতা নাসিরুদ্দিনের সঙ্গে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা থেকে ভালো লাগার বিভিন্ন মুহূর্তের কোলাজ হিন্দুস্তান টাইমসের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন রুদ্রনীল।

প্রথমেই রুদ্র জানালেন, প্রথমত 'নাসির স্যার' এর সঙ্গে কাজ করে তিনি অবাক হয়েছিলেন দেখে এই বয়সেও কোনও শট 'পারফেকশন' এর জন্য অবিরাম খুঁতখুঁত করে যাওয়া। অবাক হওয়ার তখনও বাকি ছিল। অভিনেতা নিজেই জানালেন 'মাইকেল' এর শুটিংয়ে শট দেওয়ার আগে যখন তিনি সেই দর্শিষ্যের মহড়া দিয়ে নিচ্ছিলেন কিংবা শুটিং সারছেন তখন এক কোণে বসে ঠায় রুদ্রনীল জরিপ করে যাচ্ছিলেন নাসিরুদ্দিন। আর চোখে চোখে পড়লেই মুচকি মুচকি হাসি ছুড়ে দিচ্ছেন। রুদ্রর কথায়, ' আমার তো বড্ড অপ্রস্তুত লাগছে। খালি মনে হচ্ছে ভুল করে ফেলছি আর তা দেখে মিটিমিটি হাসছেন। এরপর শট শেষ হলে স্যারের ম্যানেজার এসে আমাকে বলেন যে উনি ডাকছেন। ফ্লোর থেকে গেলাম ওঁর ভ্যানিটি ভ্যান-এ। সেই প্রথম আলাপ। নিজের হাতে বানিয়ে কফি খাওয়ালেন। শুরু হল আড্ডা। বুঝলাম যে কমফোর্ট জোনটা কী অসম্ভব দক্ষতার সঙ্গে তৈরি করে দিলেন। সেই আড্ডায় একটিবারের জন্যও কিন্তু অভিনয় নিয়ে কোনও কথা হয়নি। এরপর যখন ফের শুটিং ফ্লোরে এসে ওঁর সঙ্গে শট দিতে শুরু করলাম। বুঝলাম আগের থেকে ওঁর পাশে কিংবা মুখোমুখি দাঁড়ানোটা অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে!'

এখানেই শেষ নয়। 'মাইকেল' এবং 'নাসির স্যার' নিয়ে একটি দারুণ স্মৃতি আজও উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে রুদ্রর কাছে। আজও প্রথম দিনের মতোই টাটকা। অভিনেতার কথায়, 'ছবির একেবারে শেষ দিকে দৃশ্য। দৃশ্যটি ছিল এরকম, নাসির স্যারকে বেশ জোরে একটি চড় মারতে হবে আমাকে। মানে সহজ কথায় যাকে বলে কষিয়ে থাপ্পড়। আর সেই মার খেয়ে মাটিতে সশব্দে আছড়ে পড়বেন তিনি। আমার তো তখন বেশ খানিকটা নার্ভাস-ই লাগছে। সঙ্গে তিরতিরে অস্বস্তি। একে নাসিরুদ্দিনের মতো এত কিংবদন্তি অভিনেতার সঙ্গে অভিনয় তার ওপর বয়সেও তিনি অনেকটাই বড় আমার থেকে। সবমিলিয়ে আর কী.... যাই হোক, শট নেওয়া শুরু হলে চিত্রনাট্য অনুযায়ী ওঁর চুলের মুঠি ধরে কষিয়ে একটা চড় মারলাম। উনি মাটিতে পড়লেন। বাকি সিকোয়েন্সের অভিনয় না করেই ফ্লোর ছেড়ে হনহন করে হাঁটা লাগা শুরু করলেন ভ্যানিটি ভ্যান-এর উদ্দেশ্যে। ক্যামেরা বন্ধ হলো। আমি তো অবাক। ফ্লোরেও চাপা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। পরিচালক ঋভু এসে আমাকেই দায়িত্ব দিল মুশকিলটা কী হয়েছে সেই বিষয়ে অনুসন্ধান করার জন্য।'

রুদ্রনীল ঘোষ। (ছবি সৌজন্যে - টুইটার)
রুদ্রনীল ঘোষ। (ছবি সৌজন্যে - টুইটার)

একটু থেমে ফের বলা শুরু করলেন রুদ্রনীল। জানা গেল বেশ কুন্ঠিত হয়েই নাসিরকে যখন ডাকতে গেলেন, সেসব পাত্তা না দিয়েই উনি রুদ্রকে তাঁর সঙ্গে সোফায় বসে টিভিতে চলতে থাকা ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে বললেন। শুটিংয়ের নাম উচ্চারণ পর্যন্ত করছেন না। শেষপর্যন্ত থাকতে না পেরে রুদ্রর ফের করা প্রশ্নে কাটা, কাটা ভাবে তিনি বললেন,'আমার গিয়ে কী হবে? আপ হো। আপ সামহাল লো।' শুনে তো ততক্ষণে বেজায় মুশকিলে রুদ্র। 

'মাইকেল' ছবির পোস্টারে নাসিরুদ্দিন শাহ। (ছবি সৌজন্যে - টুইটার)
'মাইকেল' ছবির পোস্টারে নাসিরুদ্দিন শাহ। (ছবি সৌজন্যে - টুইটার)

একটু পরে খোলসা করে নাসির স্বয়ং। কাছে ডেকে নিয়ে রুদ্রকে বললেন অভিনয়ের থেকে বড় কেউই নয়। না তিনি, না তো রুদ্র। নরম গলায় বাঙালি অভিনেতাকে বুঝিয়ে দিলেন যে সে তাঁকে চড়খানা মেরেছে বটে তবে তার সঙ্গে মিশেছিল শ্রদ্ধা এবং কুন্ঠা। যতই চোখে 'খেয়ে নেব' মার্কা অভিব্যক্তি ফুটুক না কেন, রুদ্রর হাত তার যোগ্য সঙ্গত করেনি। আর ঠিক সেটাই ফুটে উঠেছে তাঁদের ক্লোজ আপ শট নেওয়ার জন্য উদ্যত থাকা ক্যামেরার লেন্সে। এবং ধরা পড়েছে নাসিরের চোখেও! তাই বলে উঠেছিলেন, 'তোমার এই নাসিরুদ্দিনের প্রতি সম্মানটা অভিনয়ের সময় বাড়িতে আলমারির তাকে তুলে দিয়ে এসো।'এরপর 'নাসির স্যার'-এর কথা শুনে নিজের 'ভুল' বুঝতে পেরেছিল রুদ্রনীল। এবং সেটা চমৎকারভাবে শুধরে নিয়েছিলেন তিনি ওই দৃশ্যের রিটেকে।

ফের একবার রুদ্রর হাত নেমে এসেছিল তাঁর 'নাসির স্যার' এর গালে। এবারে তাঁর আওয়াজ আরও জোরে। লজ্জা,কুন্ঠা কিছুই লেগেছিল না তাতে। জড়িয়ে ছিল ঠিক করে নেওয়ার চেষ্টা এবং স্যারের শিক্ষা। তা বুঝতে পেরেছিলেন নাসিরুদ্দিন নিজেও। মাটি থেকে উঠে ধুলো ঝাড়তে ঝাড়তে তিনি বলে উঠেছিলেন, 'আমার মনে হয় শটটা একেবারে পারফেক্ট!'

খুশি হয়েছিলেন নাসিরুদ্দিন। তাই 'মাইকেল' এর শুটিংয়ের শেষ দিনে রুদ্রকে নিজের হলুদ জ্যাকেটখানা উপহার দিয়েছিলেন তিনি। যে জ্যাকেট পরে ছবিতে বেশিরভাগ দৃশ্যে অভিনয় করেছেন তিনি। সঙ্গে নিজের হাতে লেখা ছোট্ট একটা চিঠি ,যা আজও সযত্নে রেখে দিয়েছেন রুদ্রনীল।

 

বন্ধ করুন