বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > মিটু অভিযোগের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন সুশান্ত,নিজেকে নির্দোষ প্রমাণও করেছিলেন
সুশান্তের ইমেজ নষ্ট করতে তাঁর বিরুদ্ধে মিটু অভিযোগের খবর রটানো হয়েছিল, বলেছিলেন সুশান্ত।
সুশান্তের ইমেজ নষ্ট করতে তাঁর বিরুদ্ধে মিটু অভিযোগের খবর রটানো হয়েছিল, বলেছিলেন সুশান্ত।

মিটু অভিযোগের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন সুশান্ত,নিজেকে নির্দোষ প্রমাণও করেছিলেন

  • চক্রান্ত করে মিটু আন্দোলনে আমার নাম জড়ানো হয়েছিল, বলেছিলেন সুশান্ত সিং রাজপুত। 

সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর থেকে অভিনেতার ফিল্মি কেরিয়ারের একাধিক বিতর্কিত অধ্যায় উঠে এসেছে। মাত্র সাত বছরের ফিল্মি কেরিয়ারের অজস্র বাধার মুখে পড়েছেন তিনি। কখনও মাঝপথে ছবি বন্ধ হয়ে যাওয়া তো কখনও প্রজেক্ট থেকে আচমকাই রিপ্লেস হয়ে যাওয়া। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছিল মিটু বিতর্ক। হ্যাঁ, সুশান্ত সিং রাজপুতের বিরুদ্ধে এই গভীর অভিযোগ উঠেছিল!  মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে সুশান্তের শেষ ছবি দিল বেচারা (আগের নাম ছিল কিজি অউর মেনি), এই ছবির শ্যুটিং চলাকালীনই খবর রটে যায় সুশান্তের বিরুদ্ধে 'সেক্সুয়াল মিসকনডাক্ট' এর অভিযোগ এনেছেন কো-স্টার সঞ্জনা সাংঘি। ২০১৮- সালের অগস্ট মাসে ডিএনএ'তে প্রকাশিত হয় এই খবর। বলা হয় সেই কারণেই নাকি মাঝপথে ছবির শ্যুটিং বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

এরপর মিডিয়ায় সেই খবর আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে।বলা হয়, সঞ্জনা সাংঘি শ্যুটিং সেটে সুশান্তের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের অভিযোগ এনেছেন। সুশান্তের মাত্রাতিরিক্ত বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাব নাকি পছন্দ নয় নায়িকার। যদিও নিজের বিরুদ্ধে উঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে সুশান্ত  সঞ্জনার সঙ্গে নিজের কথোপকথনের স্ক্রিনশট সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। ২০১৮-র ১৯শে অক্টোবর টুইটারের দেওয়ালে সুশান্ত লেখেন, 'শেষ কাজ যেটা তোমাকে নিজের জন্য করতে হবে সেটা হল কারুর ব্যক্তিগত অ্যাজেন্ডা থেকে তৈরি গল্পে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করা। এইরকম একটা গুরুত্বপূর্ন ক্যাম্পেনকে মানুষজন নিজেদের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য ব্যবহার করছে। ছবির শ্যুটিংয়ের সময় আমার আর সঞ্জনার মেসেজ আদান-প্রদান। আপনারা নিজেরাই ঠিক করে নিন'।

সুশান্ত-সঞ্জনার মেসেজের স্ক্রিনশট 
সুশান্ত-সঞ্জনার মেসেজের স্ক্রিনশট 
সুশান্ত-সঞ্জনার মেসেজের স্ক্রিনশট
সুশান্ত-সঞ্জনার মেসেজের স্ক্রিনশট

টুইটার,ইনস্টাগ্রামে সেই সব মেসেজের স্ক্রিনশট শেয়ার করে সুশান্ত আরও লিখেছিলেন,'এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে আমাকে ব্যক্তিগত তথ্য এইভাবে সামনে আনতে হচ্ছে কিন্তু নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে আমি আর কোনও রাস্তা খুঁজে পাচ্ছি না। এটা আমার বিরুদ্ধে তৈরি অ্যাজেন্ডা নয়? এই গুলো পড়ে আপনরাই বিচার করুন এটা কি অশোভন আচরণ?'

সেই সময় এমনও খবর রটে যায়-সুশান্তের বিরুদ্ধে উঠা মিটু অভিযোগের জেরেই নাকি টুইটারে ভ্যারিভিকেশন ব্যান্ডেজ হারিয়েছেন অভিনেতা। সেই সম্পর্কে সাফাই দিয়ে সুশান্ত সাফ জানান, 'সেপ্টেম্বরের ৫ তারিখ থেকেই আমার টুইটার ভ্যারিফিকেশন ব্যান্ডেজ নেই,কিছু ক্রুটির জন্য, এর সঙ্গে কিছু মানুষ গোটা বিষয়টা জুড়ে দিচ্ছে আমার ইমেজ নষ্ট করবার জন্য'। 

সুশান্তের টুইট প্রকাশ্যে আসার দিন কয়েকের মধ্যেই পুরো বিষয় নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করেন সঞ্জনা সাংঘি। ২৩ অক্টোবর (২০১৮),সঞ্জনা সাংঘি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে পরিষ্কার জানান, সুশান্তের বিরুদ্ধে এই ধরণের কোনও অভিযোগ তিনি করেননি। তিনি লিখেছিলেন , ইউএস থেকে ফিরে আমি গতকাল দেখলাম বেশ কিছু মাথামুন্ডুহীন এবং মিথ্যা খবর প্রকাশিত হয়েছে কিজি অ্যান্ড ম্যানির সেটে অশোভন আচরণ নিয়ে, আমি পরিষ্কার জানাচ্ছি আমার সঙ্গে এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি। এই ধরণের অনুমান বা আন্দাজ করা বন্ধ করুন'।

সেই সময় সুশান্তের সমর্থনে এগিয়ে এসেছিলেন ছবির পরিচালক মুকেশ ছাবড়াও। তিনি বলেন শ্যুটিং সেটে সুশান্ত কোনভাবই কারুর সঙ্গে কোনওরকম খারাপ আচরণ করেনি। এই খবর ভুয়ো। পরে যদিও সুশান্ত এই সংক্রান্ত টুইট ও ইনস্টাগ্রাম পোস্টটি ডিলিট করে দেন।

যদিও এখানেই বিতর্ক শেষ হয়নি। কারণ কিজি অউর ম্যানির সেটে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ আনা হয় পরিচালক মুকেশ ছাবড়ার বিরুদ্ধেও। বেশ কয়েকজন মহিলা পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান প্রযোজক সংস্থা ফক্স স্টার স্টুডিওর কাছে। এরপর ১৯ অক্টোবর (২০১৮)পরিচালকের দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয় মুকেশকে। ফক্স স্টার স্টুডিও আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দিয়ে সে কথা জানায়। 

এনিয়ে কেদারনাথের প্রমোশান্যাল ইভেন্টে প্রশ্ন করা হয়েছিল সুশান্তকে। তিনি বলেন,'ফক্স স্টার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে। আমি নিশ্চিত সত্যিটা সামনে আসবে'।

এরপর মুকেশ ছাবড়াকে তদন্তের পর মিটুর অভিযোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর ২০১৯-এর জানুয়ারি মাসে প্যারিসে ছবির শেষ পর্বের শ্যুটিং সারেন সুশান্ত-সঞ্জনারা। সেই সময় মিড-ডে'কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে সুশান্ত বলেছিলেন, ‘আমার খুব খারাপ লেগেছিল যে মানুষ আমাকে ভুল বুঝছে। আমার ভাবমূর্তি নিয়ে ছেলেখেলা করা হয়েছে,যত বেশি এটা নিয়ে লেখা হয়েছে,অনেক কষ্ট করে আমি আমার ইমেজ তৈরি করেছি। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে আমি যে আন্দোলনটা মন থেকে সমর্থন করি,সেই অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে’।

পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদে সঞ্জনা সাংঘির কাছ থেকে এই গোটা বিতর্ক নিয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে মুম্বই পুলিশ। সেই কারণেই প্রায় ৯ ঘন্টা ধরে ম্যারাথন জেরা চলে সঞ্জনার। কেন দেরি করে নিজের বিবৃতি দিয়েছিলেন সঞ্জনা? সেই প্রশ্নই বারেবারে ঘুরে ফিরে এসেছে। 

বন্ধ করুন