বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > কেন দর্শকরা সেকেলে চিন্তাধারার জিনিস দেখে টিআরপি বাড়ান? রেগে প্রশ্ন কনীনিকার

কেন দর্শকরা সেকেলে চিন্তাধারার জিনিস দেখে টিআরপি বাড়ান? রেগে প্রশ্ন কনীনিকার

কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়

‘আয় তবে সহচরী’ অভিনেত্রীর মন্তব্য, 'আমরা একই সমাজে একই জায়গায় বসে আছি। শুধু শিক্ষিত মানুষের মুখোশটা পরে নিয়েছি।'

স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘আয় তবে সহচরী’। ধারাবাহিকে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করছেন কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধারাবাহিকের প্লট অনুযায়ী, সহচরী এক মধ্যবয়সী সংসারী মেয়ের গল্প। নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন তিনি। প্রতারক স্বামী সমরেশের সঙ্গে সম্পর্ক ঘুচিয়ে নিজেকে দিয়েছেন নতুন সুযোগ।

ধারাবাহিক নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা প্রশ্ন ওঠে নেটিজেনের মনে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্ষোভ উগড়ে গিলেন অভিনেত্রী। কনীনিকার কথায়, ‘দর্শকদের প্রশ্ন, ওরা কেন এই সেকেলে চিন্তাধারার জিনিসপত্র দেখে টিআরপি বাড়ায়? ওরা বাড়ায় বলে আমাদের করতে হয়, ভাই আপনারা দেখা বন্ধ করুন। ‘আয় তবে সহচরী’ এক অসাধারণ ধারাবাহিক। যখন আমি সই করি, একটা পড়াশোনা, মধ্যবয়সী মেয়ে তাঁর স্বপ্ন নিয়ে ধারাবাহিক শুরু হয়েছিল। এখনও প্রযোজক, চ্যানেল পাগলের মতো চেষ্টা করে যাচ্ছে কী করে কন্টেন্টে ফেরত আসা যায়।’

অভিনেত্রীর কথায়, ‘কিন্তু টিআরপি তো পড়ে যায়, যেই পড়াশোনা দেখানো হয় সবাই দেখা বন্ধ করে দেয়। এ কী রে ভাই!’ তিনি আরও বলেন, ‘একটা মেয়ে আর একটা মেয়ের উপর অত্যাচার করছে, দেখতে খুব ভালো লাগে। রোমের কলোসিয়ামের কথা মনে পড়ে যায়, যখন একটা মানুষের উপর অত্যাচার করলে অন্য মানুষেরা দেখে হাততালি দিত। আমরা একই সমাজে একই জায়গায় বসে আছি। শুধু শিক্ষিত মানুষের মুখোশটা পরে নিয়েছি।'

কনীনিকার মন্তব্য 'একটা মেয়ে অত্যাচারিত হলে, নোংরা পাকে ডুবে মরে গেলে আমরা খুব আনন্দ উপভোগ করি। এটাই হল আমাদের দুর্ভাগ্য। যেদিন আমরা শিক্ষিত জায়গা দেখতে ভালোবাসব, স্ট্রাগল তো থাকবেই, আমার মনে হয় প্রত্যেক মেয়ের নিজস্ব স্ট্রাগল আছে নিজের মতো। সেই স্ট্রাগল তো থাকবেই, স্ট্রাগল দেখানো হোক, কিন্তু একটা মেয়ে আর একটা মেয়ের খারাপ চাইছে, সে শাশুড়ি হোক, বউ-এর হোক, পরকীয়া হোক, যা খুশি হোক, এটা ঠিক নয়। আমার মনে হয় এটা ভাঙবে তখনই যখন দর্শক বদলাবে।'

 

বন্ধ করুন