বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > কেন না-মঞ্জুর করা হল রিয়ার জামিনের আবেদন ? ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে নায়িকা
বাইকুল্লা জেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে রিয়াকে
বাইকুল্লা জেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে রিয়াকে

কেন না-মঞ্জুর করা হল রিয়ার জামিনের আবেদন ? ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে নায়িকা

  • ইতিমধ্যেই বাইকুল্লা জেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে রিয়াকে। সেখানেই ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকবেন রিয়া।
  • সেশন কোর্টে আজ ফের একবার রিয়ার জামিনের আবেদন জানাবেন সতীশ মানেসিন্ধে।

গ্রেফতারির পর মঙ্গলবার রাতেই ভিডিয়ো কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পেশ করা হয়েছিল রিয়া চক্রবর্তীকে। রিয়ার গ্রেফতারির পর এনসিবির তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় নায়িকার রিম্যান্ডের দাবি তাঁরা জানাবেন। কারণ রিয়ার কাছ থেকে যা তথ্য এনসিবি পেয়েছে তাতে সন্তুষ্ট তাঁরা। 

এনসিবির তরফে জানানো হয়েছে, 'রিয়া নিজের জবানবন্দিতে যা বলেছেন সেটা ওঁকে গ্রেফতার করবার জন্য যথেষ্ট। আমরা যখন ওকে গ্রেফতার করেছি তখন আমাদের কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে’।

এনডিপিএস আইনের আওতায় ৮ (সি), ২০ (বি), ২৭ (এ), ২৮, এবং ২৯ নম্বর ধারায় গ্রেফতার করা হয়েছে রিয়া চক্রবর্তীকে। রিয়ার বিরুদ্ধে এনসিবির তরফে যে ধারাগুলি এনডিপিএন আইনের আওতায় আনা হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখ্য ২৭ (এ) ধারা অর্থাত্ অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ। আর এই ধারা যুক্ত থাকার কারণেই মঙ্গলবার রাতে জামিন পেলেন না রিয়া। সুশান্ত মামলার সঙ্গে জড়িত মাদককাণ্ডে গ্রেফতার রিয়া চক্রবর্তীর ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজত মঞ্জুর করলেন ম্যাজিস্ট্রেট।

কেন জামিন পেলেন না রিয়া ?

কোনও ধারায় যদি ১০ বছর বা তার বেশি সাজা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে সেই মামলায় জামিন মঞ্জুর করবার জুরিসডিকশন নেই ম্যাজিস্ট্রেটের। এমনটাই জানান এনসিবির তরফে নিযুক্ত এই মামলার সরকারি আইনজীবী অতুল সারপান্ডে। ২৭ (এ) ধারায় কমপক্ষে ১০ বছর, এবং সর্বাধিক ২০ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে। 

যদিও রিয়ার আইনজীবী সতীশ মানেসিন্ধে রিয়ার উপর এই এনডিপিএস আইনের এই ধারা যোগ করবার বিরোধিতা করেন। তিনি সওয়াল করেন এই মামলায় খুব অল্প পরিমাণ মাদক জড়িত রয়েছে। তাই ২৭ ধারা যোগ করা যেতে পারে যেখানে যে কোনও ধরণের মাদক সেবনের অভিযোগ আনা হতে পারে, যেখানে দোষী প্রমাণিত হলে খুব বেশি হলে এক বছরের সাজা দেওয়া হয় এবং সেটি জামিন যোগ্য ধারা। যদিও মানেসিন্ধের এই দলিল কাজে আসেনি।

এনসিবির তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় রিয়া চক্রবর্তীকে মাদক সেবনের জন্য গ্রেফতার করা হয়নি। তিনি নিজের জবানবন্দিতে সুশান্তের জন্য মাদক সংগ্রহ করবার কথা মেনে নিয়েছেন। তাই তাঁর জন্য ২৭ (এ) ধারা প্রযোজ্য। সেক্ষেত্রে কোনওভাবেই তাঁকে জামিন দেওয়া হতে পারে না। 

ইতিমধ্যেই বাইকুল্লা জেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে রিয়াকে। আজ সেশন কোর্টে রিয়ার জামিনের আবেদন করবেন সতীশ মানেসিন্ধে। ফের একবার রিয়ার জামিনের বিরোধিতা করবে এনসিবি। 

মাদককাণ্ডে এনসিবির হাতে গ্রেফতার হওয়ার পাশাপাশি, সুশান্ত মামলায় অপর দুই কেন্দ্রীয় সংস্থার এফআইআরেও মূল অভিযুক্ত রিয়া চক্রবর্তী। সিবিআই সুশান্তের মৃত্যু মামলার তদন্ত করছে, অন্যদিকে আর্থিক তছরুপ সংক্রান্ত মামলার তদন্ত চালাচ্ছে ইডি।

বন্ধ করুন