বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > দেশদ্রোহের ধারা যোগ হয়েছে কেন? কঙ্গনা-রঙ্গোলির মামলায় প্রশ্ন বম্বে হাইকোর্টের
রঙ্গোলি চান্দেল ও কঙ্গনা রানাওয়াত

দেশদ্রোহের ধারা যোগ হয়েছে কেন? কঙ্গনা-রঙ্গোলির মামলায় প্রশ্ন বম্বে হাইকোর্টের

  • কঙ্গনা-রঙ্গোলিকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ বম্বে হাইকোর্টের, আপতত নেওয়া যাবে না শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। 

দেশদ্রোহীতা বা রাষ্ট্রদ্রোহের (১২৪/এ) অভিযোগ আনা এখন নতুন ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। কঙ্গনা রানাওয়াত ও রঙ্গোলি চান্দেলের দায়ের পিটিশনের শুনানিতে এমনই পর্যবেক্ষণ বম্বে হাইকোর্টের। সোশ্যাল মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন কঙ্গনা ও রঙ্গোলি এই অভিযোগে বান্দ্রা আদালতের নির্দেশে মুম্বই পুলিশ এফআইআর দায়ের করেছিল গত মাসে। এই এফআইআর খারিজের আবেদন জানিয়ে গত সোমবার বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন কঙ্গনা ও রঙ্গোলি।

এফআইআরের কপিতে রাষ্ট্রদ্রোহের মতো গুরুতর অভিযোগ যোগ করা হয় দুজনের বিরুদ্ধে। এই নিয়ে বম্বে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বিস্ময়ের সুরে প্রশ্ন করে, কেউ যদি সরকারের সুরে সুর না মেলান তাহলেই কি সেটা রাষ্ট্রদ্রোহ বলে বিবেচিত হবে?' মঙ্গলবার জাস্টিস এসএস শিন্দে এবং এমএস কার্নিকের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। 

কীভাবে বান্দ্রা পুলিশের তরফে কঙ্গনা-রঙ্গোলির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রোদ্রোহীতার অভিযোগ আনা হয়েছে, তা নিয়ে হতবাক আদালত। ভর্ত্সনার সুরে সরকারপক্ষের আইনজীবী দীপক ঠাকরকে বেঞ্চ বলে- ‘পুলিশ কেন এই ধরণের মামলায় ১২৪এ ধারা যোগ করছে? কোন মামলায় কোন ধারা দিতে হয় তা শেখবার জন্য পুলিশকর্মীদের জন্য ওয়ার্কশপের আয়োজন করা উচিত’।

সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে দুই ধর্মের মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করেছেন কঙ্গনা ও তাঁর দিদি রঙ্গোলি চান্দেল এমনই অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪ [এ], ১২১, ১২১ [এ], ১২৪, ১৫৩[এ], ১৫৩[বি], ২৯৫[এ], ২৯৮ এবং ৫০৫ নম্বর ধারায় কঙ্গনা ও রঙ্গোলির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

তবে রাষ্ট্রদ্রোহীতা বাদে উপর যে ধারাগুলি যোগ করা হয়েছে সেগুলির প্রতি মর্যাদা জানিয়ে এফআইআর বাতিলের আর্জি এবং পুলিশের সামনে হাজিরা দেওয়া থেকে অবশ্য রেহাই দেওয়া হয়নি কঙ্গনা ও রঙ্গোলিকে। বেঞ্চ জানায়, প্রাথমিকভাবে শুনে মনে হচ্ছে, পুরো বিষয়টি শোনার আগে আবেদনকারীদের অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেওয়া যেতে পারে। তবে পুলিশের সমনকে মর্যাদা দিতে হবে'। কবে কঙ্গনা-রঙ্গোলি হাজিরা দিতে পারবে জানতে চায় আদালত, জবাবে তাঁদের আইনজীবী জানান- ৮ জানুয়ারি তাঁর মক্কেলদের পক্ষে মুম্বই পুলিশের সামনে হাজিরা দেওয়া সম্ভবপর। 

বম্বে হাইকোর্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছে আপতত অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া হল কঙ্গনা ও রঙ্গোলিকে। অর্থাত্ এই এফআইআরের ভিত্তিতে মুম্বই পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে কোনওরকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে না। গ্রেফতার করা যাবে না কঙ্গনা-রঙ্গোলিকে। দুই ভাইয়ের বিয়ে নিয়ে ব্যস্ত কঙ্গনা ও রঙ্গোলি মুম্বই পুলিশের তিনটি সমন উপেক্ষা করেছেন। এরপর বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তাঁরা। 

বন্ধ করুন