বাংলা নিউজ > টুকিটাকি > প্রান্তিক মানুষের অধিকার আর প্রতিবাদের আর এক নাম বিরসা মুন্ডা
বিরসা মুন্ডা।

প্রান্তিক মানুষের অধিকার আর প্রতিবাদের আর এক নাম বিরসা মুন্ডা

  • দেশের স্বাধীনতার ৭৫ বছর অতিবাহিত হয়েছে। উন্নয়ন এসে পৌঁছেছে জঙ্গলমহলের আনাচে কানাচেতেও। কিন্তু উপেক্ষা কি কমেছে? বিরসা মুন্ডার আদর্শ ও লড়াইয়ের ক্ষেত্র আজও সমান ভাবে প্রযোজ্য।

রণবীর ভট্টাচার্য

বৃহস্পতিবার সমাজ সংস্কারক বিরসা মুন্ডার প্রয়াণ দিবস। ব্রিটিশ ইতিহাসবিদদের অনুপ্রাণিত ইতিহাস বইতে তার কথা কমই বলা হয়েছে। আদিবাসী সমাজের কাছে তিনি বিরসা ভগবান বলে পরিচিত। অবিভক্ত ভারতে আদিবাসী সমাজকে ব্রিটিশদের নিপীড়ন থেকে বাঁচার জন্য লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এই বিরসা মুন্ডা। মাত্র পঁচিশ বছর বয়সে মারা গিয়েছিলেন এই মহান মানুষ। কিন্তু বিরসা মুন্ডা যেই জাতীয়তাবাদের জন্ম দিয়েছিলেন, তার গুরুত্ব নেহাৎ কম নয়। তাই আজ পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড়, ওড়িশা, কর্ণাটকের আদিবাসী সমাজের অনেক মানুষ শ্রদ্ধার সাথে তাঁর কথা স্মরণ করেন।

জমির লড়াই বড় কঠিন লড়াই! অবিভক্ত ভারতে, সুদীর্ঘ জঙ্গলমহলের দিকে নজর ছিল ব্রিটিশের। বিশেষ করে প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই দীর্ঘ জঙ্গল আগলে রাখত স্রেফ আদিবাসীরা, যারা শান্তিপ্রিয় মানুষ ছিল এবং রাজনীতির ঘোরপ্যাঁচ থেকে শত হস্ত দূরে ছিলেন। কিন্তু তাদের এই সারল্যই হয়তো তাদের দুর্বলতা ছিল। স্রেফ তীর ধনুক দিয়ে কি ব্রিটিশদের সাথে লড়াই করা যেতে পারে? এই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছিলেন বিরসা মুন্ডা। ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে অন্যতম উপজাতীয় বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন তরুণ বিরসা মুন্ডা। তাঁর লক্ষ্য ছিল রাঁচির দক্ষিণাঞ্চলে স্বাধীন মুন্ডা রাজ প্রতিষ্ঠা। তবে এটা ঠিক যে ব্রিটিশরা আসার আগে থেকেই মুন্ডা জনজাতির জমি কেড়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। অ-উপজাতীয়দের আনাগোনা বৃদ্ধি এবং বলপূর্বক জমি দখল আদিবাসী সমাজকে ক্ষিপ্ত করে তোলে। সেখান থেকেই তৈরি হয় ‘উলগুলান’-এর পটভূমি, যার অর্থ বিক্ষোভ।

দেশের স্বাধীনতার ৭৫ বছর অতিবাহিত হয়েছে। উন্নয়ন এসে পৌঁছেছে জঙ্গলমহলের আনাচে কানাচেতেও। কিন্তু উপেক্ষা কি কমেছে? বিরসা মুন্ডার আদর্শ ও লড়াইয়ের ক্ষেত্র আজও সমান ভাবে প্রযোজ্য। আজ বিরসা মুন্ডার মাতৃভূমি দেখেছে নতুন রাজ্য ঝাড়খণ্ড। তবুও সমাজের প্রান্তিক মানুষদের কষ্ট ও বঞ্চনা কমেনি। শুধু তাই নয়, একমাত্রিক উন্নয়নের জোয়ারে জঙ্গল আজ বিপন্ন। স্বাধীন ভারত নকশাল আন্দোলন দেখেছে, মাওবাদী আন্দোলনও। যদিও এই আন্দোলনগুলোর মধ্যে বহিরাগত শক্তির প্রভাব ছিল। তবে একথা অনস্বীকার্য যে জঙ্গলমহলের প্রান্তিক মানুষগুলো আজও অনুপ্রেরণা খোঁজেন বিরসা ভগবানের মধ্যে যাতে সুস্থ, শান্তি সৌহার্দের জীবনের অধিকার কেউ যেন কেড়ে নিতে না পারে। তাই বিরসা মুন্ডারা কিংবদন্তি, অমর। যতদিন ভারত থাকবে, ভারতীয় আদর্শ থাকবে, বিরসা মুন্ডার লড়াই স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

বন্ধ করুন