বাংলা নিউজ > টুকিটাকি > করোনার আবহে সুস্থ থাকতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে জরুরি জিঙ্ক, জানুন বিস্তারে
৭০-৮৫ শতাংশ ডার্ক চকোলেটের ১০০ গ্রাম বারে ৩.৩ এমজি জিঙ্ক থাকে।
৭০-৮৫ শতাংশ ডার্ক চকোলেটের ১০০ গ্রাম বারে ৩.৩ এমজি জিঙ্ক থাকে।

করোনার আবহে সুস্থ থাকতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে জরুরি জিঙ্ক, জানুন বিস্তারে

  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রোটিন সিন্থেসিস, ঘা সাড়িয়ে তোলা, ডিএনএ সিন্থেসিস এবং কোষ বিভাজনেও জিঙ্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শরীরের পক্ষে জিঙ্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টিকর উপাদান। আবার করোনার বাড়বাড়ন্তে জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার স্বাস্থ্যের পক্ষে অধিক জরুরি। নানা খাদ্য সামগ্রীতে এই মিনারেল পাওয়া যায়। সেলুলার মেটাবলিজম বৃদ্ধিতেও এটি সাহায্য করে। আবার নানা উৎসেচকের অনুঘটক হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই মিনারেল। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রোটিন সিন্থেসিস, ঘা সাড়িয়ে তোলা, ডিএনএ সিন্থেসিস এবং কোষ বিভাজনেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে।

শুধু তাই নয়, গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও উন্নতিতে এটি সাহায্য করে থাকে। এমনকি স্বাদ ও গন্ধ বজায় রাখতে জিঙ্ক গ্রহণ জরুরি। জিঙ্কের অভাবে শারীরিক বিকাশ বাধিত হয়, পাশাপাশি ক্ষিদে কমে যাওয়া ও রোগ প্রতিরোধ শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

সুস্থ থাকতে খাদ্য তালিকায় জিঙ্ক অন্তর্ভূক্ত করা জরুরি। এখানে এমন ৫টি খাবার সম্পর্কে জানানো রইল, যা শরীরে জিঙ্কের চাহিদা পূরণ করবে—

নানা ধরনের বীজ- ফ্লেক্স, কুমড়োর বীজ, তিলে উচ্চমাত্রায় জিঙ্ক (দৈনিক ভ্যালুর ২এমজি/১৩ শতাংশ) থাকে। এগুলি আবার আয়রন, ফাইবার, ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ। শুধু তাই নয়, উচ্চ কোলেস্টেরলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে মেটাবলিক প্রোসেসের সময় উৎপন্ন ক্ষতিকর মুক্ত র‌্যাডিক্যাল থেকে কোষগুলিকে সুরক্ষা প্রদান করে। নিজের পছন্দের স্যালাড, স্যুপ এবং দইয়ে মিশিয়ে এটি খেতে পারেন।

ডিম- এটি কম ক্যালরি ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার। এর থেকে জিঙ্কের দৈনন্দিন চাহিদার ৫ শতাংশ লাভ করা যায়। এর মধ্যে ৯টি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিডও বর্তমান। যা শারীরিক বিকাশ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জরুরি। উল্লেখ্য ডিম HDL বা গুড কোলেস্টেরলের পরিমাণ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। HDL হৃদরোগের সম্ভাবনাকে কমিয়ে দেয়।

ওটস- এক কাপ কাঁচা ওটসে দৈনন্দিন চাহিদার ২৭ শতাংশ (২.৯৫ এমজি) জিঙ্ক থাকে। ফাইবার সমৃদ্ধ ওটস অনেকক্ষণ পেট ভরতি রাখতে সাহায্য করে। ফলে ঘন ঘন ক্ষিদে পায় না এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়। রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের স্তর নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এটি।

ডার্ক চকোলেট- ৭০-৮৫ শতাংশ ডার্ক চকোলেটের ১০০ গ্রাম বারে ৩.৩ এমজি জিঙ্ক থাকে। এটি দৈনন্দিন চাহিদার ৩০ শতাংশ। এ ছাড়া এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে (১৫এমএমওএল/১০০ গ্রাম) সমৃদ্ধ। ইনফ্লেমেশান, এলডিএল বা ব্যাড কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে ডার্ক চকোলেট। ফলে হৃদরোগের সম্ভাবনা কম হয়।

দই- এক কাপ দই দৈনন্দিন জিঙ্ক চাহিদার ২০ থেকে ২২ শতাংশ পূরণ করে। এ ছাড়াও দই ক্যালশিয়াম, ভিটামিন বি২ এবং বি১২, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামে সমৃদ্ধ। হাল্কা এই খাবারটি দুধের চেয়ে সহজপাচ্য। এর ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, হাড় শক্ত হয় এবং ত্বক সুস্থ থাকে।

বন্ধ করুন