বাংলা নিউজ > টুকিটাকি > চিজ না মাখন, নয়া বছরে কোনটা খাওয়ায় বেশি স্বাস্থ্যকর? জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
৬ সপ্তাহের ব্যবধানে যাঁরা প্রতিদিন চিজ খেয়ে থাকেন, তাঁদের এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ সমপরিমাণে মাখন খেয়ে থাকা ব্যক্তিদের তুলনায় কম হয়।

চিজ না মাখন, নয়া বছরে কোনটা খাওয়ায় বেশি স্বাস্থ্যকর? জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

জেনে নিন।

ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে অনেকে নিজের খাদ্য তালিকা থেকে দুগ্ধজাত খাদ্যদ্রব্য বাতিল করে দেন। কিন্তু এই খাদ্যবস্তুগুলির একাধিক উপযোগিতাও রয়েছে, যা অস্বীকার করা যায় না। সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, যে ব্যক্তিরা নিয়মিত দুগ্ধজাত খাদ্যদ্রব্য খেয়ে থাকেন, তাঁদের ওজন ও রক্তচাপ কম থাকে, এমনকী স্ট্রোক ও অস্টিওপোরোসিসের সম্ভাবনাও কম হয়। 

আমরা সাধারণত চিজ ও মাখন সবার আগে খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিয়ে থাকি। কিন্তু সুস্বাস্থ্য লাভের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণে এই দুই দুগ্ধজাত খাদ্যবস্তু তালিকাভুক্ত করার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। চিজে মাখনের তুলনায় বেশি প্রোটিন থাকে। অন্যদিকে, মাখন স্বাস্থ্যকর ফ্যাটে সমৃদ্ধ, যা হাড় মজবুত করতে এবং দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে সহায়ক। চিজকে মাখনের তুলনায় অধিক স্বাস্থ্যকর মনে করা হয়। চিজে উপস্থিত উচ্চমাত্রার প্রোটিন, তাকে মাখনের চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর করে তুলেছে। 

আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিকাল নিউট্রিশনে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ছয় সপ্তাহের ব্যবধানে যাঁরা প্রতিদিন চিজ খেয়ে থাকেন, তাঁদের এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ সমপরিমাণে মাখন খেয়ে থাকা ব্যক্তিদের তুলনায় কম হয়।

নিজের সাম্প্রতিক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে পুষ্টিবিদ ভুবন রস্তোগি বলেন যে, ‘এক ক্লায়েন্ট আমায় এই প্রশ্ন করেছিলেন। আমি অন্যদের এই প্রশ্ন করার কথা ভাবলাম। তাই একটি পোল চালাই, ৪০ শতাংশ ব্যক্তিরই মনে হয়েছে যে চিজের তুলনায় মাখন বেশি স্বাস্থ্যকর। লোকেরা চিজ ও মাখনকে একই নজরে দেখে থাকে, কারণ এই দুটি স্প্রেড বা টপিং হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু দয়া করে বুঝুন যে, মাখনের তুলনায় চিজ অনেক বেশি ভালো। কিছু কিছু চিজে আবার পনিরের চেয়েও বেশি প্রোটিন থাকে।’

ভুবন রস্তোগি জানান, মাখনের মধ্যে পুরোটাই ফ্যাট। অন্য দিকে চিজে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন, এমনকি ক্যালসিয়াম থাকে। একটি তুলনামূলক আলোচনা করে তিনি জানান যে, ‘অধিকাংশ চিজে ফ্যাটের তুলনায় অন্তত দুই তৃতীয়াংশ প্রোটিন থাকে। যেমন ১০০ গ্রাম ফেটা চিজে ২১ গ্রাম ফ্যাট এবং ১৪ গ্রাম প্রোটিন থাকে। আবার ফিচার্ড আমূল চিজের প্রতি ১০০ গ্রামে ২৫ গ্রাম ফ্যাট ও ২০ গ্রাম প্রোটিন থাকে। তবে কিছু কিছু চিজে প্রায় সমপরিমাণ ফ্যাট ও প্রোটিন থাকে। ১০০ গ্রাম সুইস চিজে ২৮ গ্রাম ফ্যাট ও ২৭ গ্রাম প্রোটিন থাকে। প্যাকেটজাত পনিরের সঙ্গে এটি তুলনা করেও দেখা যায়।’

পুষ্টিবিদ এটাওও জানিয়েছেন যে, মোজরেলা চিজে ফ্যাটের চেয়ে বেশি প্রোটিন থাকে। তিনি বলেন, ‘এবার সারপ্রাইজের পালা, মোজরেলার মতো কিছু চিজে ফ্যাটের চেয়েও বেশি প্রোটিন থাকে। অনলাইন গ্রসারি অ্যাপ খুলে তা যাচাই করে দেখতে পারেন। আমি ভারতে একটি পেয়ে ছিলাম, যার ১০০ গ্রামে ২৫ গ্রাম ফ্যাট ও ৩১ গ্রাম প্রোটিন ছিল।’ 

তবে চিজে উপস্থিত প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম সম্পর্কে সচেতন করেছেন ভুবন রস্তোগি। তাই কম সোডিয়াম যুক্ত চিজ গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি কম অ্যাডিটিভ যুক্ত অপ্রক্রিয়াজাত চিজ খেতে বলছেন ভুবন।

বন।

বন্ধ করুন