বাংলা নিউজ > টুকিটাকি > Benaras Toursim: মহাদেবের আপনভূমি 'চিররঙিন' বেনারসের রং

Benaras Toursim: মহাদেবের আপনভূমি 'চিররঙিন' বেনারসের রং

'চিররঙিন' বেনারসের রং

Benaras Toursim: তীর্থ হোক বা স্রেফ হাওয়া বদল, সব কিছুর জন্যই আদর্শ জায়গা বেনারস। প্রাণোচ্ছ্বল এই প্রাচীন শহর তার কোলাহল দিয়ে আপনার মন ভালো করবেই। জানতে পারবেন কত অজানা গল্প। সাক্ষী থাকবেন কত ইতিহাসের।

'এ সিটি উইথ কালারফুল ভাইব্রেশন', এই কথাটা বোধহয় বেনারসের জন্যই। এত রং, এত ধরনের মানুষ যে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। এই প্রাচীন শহরের প্রতি অলিগলিতে লুকিয়ে আছে কতই না গল্প। প্রতি বাঁকে নজর আসে কতই না রং, কত ধরনের মানুষ।

গির্জা ঘর থেকে এগোনোর পর স্থানীয়দের বাইক বা স্কুটি ছাড়া আর কোনও যানবাহন চোখে পড়ে না। কেবল দুর্গাপুজোর মতো ভিড়। খালি মানুষের মাথা দেখা যায় যতদূর চোখ যায় ততদূর পর্যন্ত। অথচ এই রাস্তাই ভোর রাতে একদম শুনশান হয়ে যায়। কেবল রাস্তার দুপাশে নিঃসঙ্গ পথবাতিরা একাকী জ্বলতে থাকে।

<p>রাতের বেনারস</p>

রাতের বেনারস

এরপর ভিড় ছেড়ে বাঁক নিতেই কোথাও মালাই, রাবড়ি, দইয়ের দোকান তো কোথাও চায়ের দোকান নজর পড়বে। পাশেই দেখতে পাবেন পুজোর ডালার দোকান কিংবা ডাল পুরির দোকান। বাদ যাবে না শাড়ি, চুড়িদার কিংবা চাটের দোকান।

গোটা ভারত যেন এই এক ফালি শহরে বন্দি হয়ে আছে। কলকাতা থেকে কোচি, মুম্বই থেকে ওড়িশা, ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের বাসিন্দাদের এখানে দেখা যায়। সবারই লক্ষ্য পূণ্য অর্জন করা।

শুধুই কি তাই? দেওয়ালে দেওয়ালে রয়েছে কত গল্প। কত ছবি। প্রতি গলিতেই আছে ২-৩টে করে মন্দির। কাশী বিশ্বনাথের মন্দির তো আছেই। সেটাই মূল আকর্ষণ, সেটা ঘিরেই সব কিছু, তবুও এই মন্দিরগুলোতেও কিছু কম ভিড় হয় না। সে সংকটমোচন হনুমান মন্দির হোক বা দুর্গা মন্দির কিংবা কাল ভৈরব মন্দির। দু'হাত জড়ো করে মনস্কামনা জানায় এখানে কতই না মানুষ। ইতিউতি নজরে পড়বে অসংখ্য টোটো, অটো এবং রিকশা।

আর ঘাটে? কী নেই সেখানে? হিপিদের খুঁজছেন? পেয়ে যাবেন। সাধু? তাও আছে। মাথায় জটা নিয়ে গায়ে ছাই ভস্ম মেখে বসে তাঁরা। মাথায় তিলক কাটতে চান? সেও পেয়ে যাবেন। কপোত-কপোতী থেকে স্রেফ দুদণ্ড শান্তির খোঁজে যিনি এসেছেন, কিংবা পূণ্য করতে সবাইকে পেয়ে যাবেন এই ঘাটে। কিংবা বহুরূপী? শিব, দুর্গা রূপে কত যে ছোট ছোট বহুরূপীর দেখা মিলবে এখানে তা আর গুনে শেষ করতে পারবেন না।

<p>বহুরূপী শিব</p>

বহুরূপী শিব

গঙ্গার পার ঘেঁসে রয়েছে ৪০টি ঘাট। প্রতিটা ঘাটের আছে নিজস্ব কিংবদন্তি। রাজা হরিশচন্দ্র ঘাট থেকে মণিকর্নিকা প্রতি ধাপে পাল্টে যাবে দৃশ্যপট। কোথাও নিঃসঙ্গ, নিঃস্তব্ধ ঘাট পাবেন, কোথাও অগুনতি মানুষের ভিড়। কোথাও ' জয় গঙ্গা মাইয়া কী ' ধ্বনি তুলে কাউকে ডুব দিতে দেখবেন তো কোথাও চিতার লেলিহান শিখা। ধোঁয়ায় ধোঁয়ায় পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শরীর। কোনও এক রকম অনুভুতি মনে জমাট বাঁধার আগেই আরেকটা এসে জায়গা করে নেবে। আর আপনি কেবলই দুচোখ মেলে সেটা দেখতে থাকবেন। আর উপলব্ধি করবেন।

<p>মণিকর্নিকা ঘাট</p>

মণিকর্নিকা ঘাট

কেবল শহরের ভিতর নয়, শহর ছাড়লেও ইতিউতি ছড়িয়ে আছে আরও কত দেখবার মতো জায়গা। সারনাথ, বেনারসির আঁতুড়ঘর লাল্লানপুরা, ইত্যাদি। এখানে ঘুরতে গিয়ে কেবল পূণ্য অর্জন করা যায় এ কথা আমি মানি না। এখানেই গোটা ভারত লুকিয়ে আছে। শুধু ভারত কেন, কত বিদেশি আছেন। সন্ধ্যার ওই গঙ্গা আরতি সকলকে মিলিয়ে মিশিয়ে এক করে দেয় ধর্ম, জাত, ঠিকানা, পরিচয় নির্বিশেষে। ঠিক যেভাবে অজান্তেই, ঈশ্বরের সুন্দর পরিকল্পনার মতোই জ্ঞানবাপী মসজিদে যেতে হয় বিশ্বনাথ মন্দিরের মূল ফটকের মধ্যে দিয়েই। ধর্ম, বিদ্বেষ এখানে এভাবেই তো ঘুচে যায়।

<p>বেনারসের আরতি</p>

বেনারসের আরতি

এই ঐতিহাসিক শহর আপনাকে দুহাত উজাড় করে দেবে। এমন বহু টুকরো স্মৃতি পেয়ে যাবেন যা সারাজীবনের জন্য স্মৃতি হয়ে থাকবে। যার টানে বারবার ফিরে আসতে ইচ্ছে করবে এই পূণ্যভূমিতে।

বন্ধ করুন