বাংলা নিউজ > টুকিটাকি > ডায়বিটিসের কারণে কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে, জেনে নিন সুস্থ থাকার উপায়
৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে মধুমেহ ও উচ্চরক্তচাপের কারণে কিডনি নষ্ট হয়ে যায়।
৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে মধুমেহ ও উচ্চরক্তচাপের কারণে কিডনি নষ্ট হয়ে যায়।

ডায়বিটিসের কারণে কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে, জেনে নিন সুস্থ থাকার উপায়

শরীর থেকে বিষাক্ত ও বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাষিত করা, শরীরের তরল পদার্থের ভারসাম্য বজায় রাখা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন, হাড় মজবুত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে সাহায্য করে কিডনি।

কিডনি আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শরীর থেকে বিষাক্ত ও বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশিত করা, শরীরের তরল পদার্থের ভারসাম্য বজায় রাখা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন, হাড় মজবুত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে সাহায্য করে কিডনি। তবে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে মধুমেহ ও উচ্চ রক্তচাপের কারণে কিডনি নষ্ট হয়ে যায়।

কিডনি রোগ বা ক্রনিক কিডনি রোগের সাধারণ একটি কারণ হল মধুমেহ। এর ফলে কিডনি ফেলিওর হতে পারে। কিডনিতে উপস্থিত গ্লোমেরুলি রক্ত ফিল্টার করতে সাহায্য করে। তারপর প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত তরল পদার্থকে বের করে দেয়।

মধুমেহ যেভাবে কিডনির উপর প্রভাব বিস্তার করে?

১. রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে গ্লোমেরুলি অবরুদ্ধ হয়ে যায়। ক্রমশ এটি সংকুচিত হতে থাকে।

২. রক্তপ্রবাহ কমে যায় এবং কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।

৩. রক্তবাহিকাগুলি লিক হয়ে যায় এবং প্রস্রাবে প্রোটিনের অভাব দেখা দেয়।

৪. যে সমস্ত শিরা মূত্রাশয় প্রবেশ করে, তাদের ক্ষতি করে মধুমেহ। ফলে মধুমেহ আক্রান্ত ব্যক্তি মূত্রাশয় সম্পূর্ণ হওয়ার বিষয় সচেতন হতে পারে না, যা কিডনির ওপর চাপ বিস্তার করে। এর ফলে মূত্রথলিতে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

৫. প্রস্রাবে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে, তা ব্যাক্টিরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করে। এর ফলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশান হতে পারে।

মধুমেহ রোগীরা কীভাবে নিজের কিডনি সুস্থ রাখবেন?

১. এর জন্য সবার আগে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

২. নিয়মিত রক্তে শর্করার পরিমাণ যাচাই করে দেখুন।

৩. বাড়িতে গ্লুকোমিটারের সাহায্যে বা ফাস্টিং এবং পোস্ট প্র্যান্ডিয়ল ব্লাড শুগারের পরীক্ষা করিয়ে দেখে নিন।

৪. HbA1c-র মাধ্যমে গত তিন মাসের শর্করার গড় পরিমাণ সম্পর্কে জানিয়ে থাকে।

৫. সুষম আহার গ্রহণ করুন। সবজি, প্রোটিনজাত খাদ্য পদার্থ বেশি করে খান। কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট জাতীয় খাবার কম খান।

৬. মিষ্টি, তেলেভাজা, কুকিস, চিপস, চকোলেট ও সোডা পান কমিয়ে আনুন।

৭. নির্দিষ্ট সময় অন্তর অল্প অল্প খাবার খান।

৮. নুন ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। 

৯. ধূমপান ও তামাক সেবন করা ছেড়ে দিন। কারণ এর ফলে কিডনি নষ্ট হচ্ছে।

১০. মদ্যপান ত্যাগ করুন।

১১. নিয়মিত ব্যায়াম করুন। এর ফলে শরীরে ইনসুলিন ও গ্লুকোজ সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করা সম্ভব হবে এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন, ২০ মিনিট করে মাঝারি তীব্রতা সম্পন্ন ব্যায়াম করুন।

১২. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

১৩. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখলে কিডনি সুস্থ থাকবে।

১৪. কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন। তা না হলে কিডনি রোগ, হৃদরোগ, স্ট্রোকের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। মেদযুক্ত খাবার ত্যাগ করুন।

১৫. NSAIDS, ব্যথা বা এদের বিকল্প কোনও ওষুধ গ্রহণ না করাই ভালো। কারণ এগুলি কিডনির ক্ষতি করতে পারে।

১৬. ভিটামিন বি১, বি২, বি৬, বি১২, ফলকি অ্যাসিড, নিয়াসিন, প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড, বায়োটিন ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার-দাবার গ্রহণ করুন। এর ফলে কিডনি সুস্থ থাকবে।

১৭. টাইপ ২ ডায়বিটিজ থাকলে নিয়মিত চিকিৎসা করান।

১৮. ৫ বছরের বেশি সময় ধরে টাইপ-১ মধুমেহে আক্রান্ত রোগীদের কিডনি পরীক্ষা করিয়ে দেখা উচিত।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: আপনার ডায়াবিটিজ থাকলে অতি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

বন্ধ করুন