পুরুষ ও মহিলাদের জন্য ডায়াবিটিসের লক্ষণগুলি আলাদা হতে পারে। যদিও পুরুষ এবং মহিলা উভয়েই তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব এবং ক্লান্তির মতো সাধারণ লক্ষণগুলি অনুভব করতে পারেন। মহিলাদের ক্ষেত্রে আরও বেশ কিছু জটিল লক্ষণ দেখা যায়। মাসিক চক্র, গর্ভাবস্থা বা মেনোপজের সময়ও লক্ষণগুলি সামনে আসতে পারে। পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম এবং গর্ভকালীন ডায়াবিটিসের মতো কিছু পর্যায়ও মহিলাদের মধ্যে ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। শারীরিক সুস্থতার জন্য এগুলো চ্যালেঞ্জের কারণ হতে পারে। তাই, এই রোগ আসার সম্ভবনা দেখলেই, আগেভাগে চিকিৎসার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য, লক্ষণগুলো চেনা গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ডায়াবিটিসের আট লক্ষণ রয়েছে, যা মহিলারা অনুভব করতে পারেন:
আরও পড়ুন: (Health Tips: টুথব্রাশ রাখার কিছু নিয়ম আছে, সেগুলি না জানলেই বাড়বে বিপদ! জেনে নিন এখনই)
১. সংক্রমণ
রক্তে বেশি পরিমাণে শর্করা থাকলে, যৌনাঙ্গে ফাঙ্গাস সংক্রমণ হতে পারে। ডায়াবিটিসে আক্রান্ত মহিলারা চুলকানি, এবং ঘন সাদা স্রাব, জ্বালাপোড়া অনুভব করতে পারেন। শরীরে অতিরিক্ত চিনি থাকলে, শরীরে ফাঙ্গাস দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যা মহিলাদের এই সংক্রমণের জন্য আরও প্রবণ করে তোলে।
২. মূত্রনালীর সংক্রমণ (ইউটিআই)
ডায়াবিটিস রোগীদের ইউটিআই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। প্রস্রাবে চিনির উচ্চ মাত্রা ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পেতে উৎসাহিত করতে পারে, যার ফলে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাব করার সময় জ্বালাপোড়া এবং প্রস্রাবে দুর্গন্ধের মতো লক্ষণ দেখা দেয়। যদি চিকিৎসা না করা হয়, তবে ইউটিআই আরও গুরুতর কিডনি সংক্রমণ করতে পারে।
৩. পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম উপসর্গ
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) হল এমন একটি অবস্থা যা হরমোনের মাত্রাকে প্রভাবিত করে এবং ইনসুলিন প্রতিরোধ করে। এটি টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। পিসিওএস-এ আক্রান্ত মহিলাদের অনিয়মিত মাসিক, অতিরিক্ত চুলের বৃদ্ধি এবং ওজন কমাতে সমস্যা হতে পারে। অল্প বয়সে তাঁদের ডায়াবেটিসও হতে পারে।
৪. গর্ভাবস্থায় গর্ভকালীন ডায়াবিটিস
গর্ভাবস্থায় শরীর হরমোনের পরিবর্তনের কারণে পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না। তখন গর্ভকালীন ডায়াবিটিস বাসা বাঁধে। অনেক মহিলার মধ্যেই এর কোনও উপসর্গ দেখা যায় না। তবে এই অবস্থায় আরও তৃষ্ণার্ত বোধ করতে পারেন বা আরও ঘন ঘন প্রস্রাব করতে যেতে হতে পারে। এই অবস্থা মা এবং শিশু উভয়ের জন্য জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে এবং পরবর্তীতে টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
৫. যৌন কর্মহীনতা
ডায়াবেটিস দুর্বল রক্ত প্রবাহ এবং স্নায়ুর ক্ষতির কারণ হতে পারে, যা যোনিপথে শুষ্কতা, যৌন মিলনের সময় অস্বস্তি বা যৌনতার প্রতি কম আগ্রহের মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে। রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ না থাকার কারণে হরমোনের ভারসাম্যহীনতাও এই সমস্যাগুলিতে অবদান রাখতে পারে।
৬. অনিয়মিত মাসিক চক্র
ডায়াবিটিসে আক্রান্ত মহিলারা, বিশেষ করে যাদের রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয়, তাঁদের মাসিক চক্র অৰ্থাৎ পিরিয়ড অনিয়মিত হয়ে যেতে পারে। এটি পেরিমেনোপজের সময়ও ঘটতে পারে, কারণ হরমোনের পরিবর্তন রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণকে প্রভাবিত করে।
৭. গর্ভাবস্থার জটিলতা
যে মহিলাদের ইতিমধ্যেই ডায়াবিটিস আছে, তাঁদের গর্ভাবস্থায় জটিলতার ঝুঁকি বেশি থাকে, যেমন উচ্চ রক্তচাপ (প্রি-ক্ল্যাম্পসিয়া), সময়ের আগেই প্রসবের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই ঝুঁকিগুলি এড়াতে গর্ভাবস্থার আগে এবং গর্ভাবস্থায় ভাল রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
৮. মেনোপজের লক্ষণ
ডায়াবিটিস থাকলে মেনোপজ চলকালীন, রাতে বেশি পরিমাণে ঘাম হতে পারে এবং মেজাজও খারাপ করতে পারে। মেনোপজের সময় কম ইস্ট্রোজেনের মাত্রা শরীরের জন্য রক্তে শর্করাকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন করে তুলতে পারে, যা আরও গুরুতর ডায়াবিটিসের লক্ষণগুলির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন: (Uric Acid Remedies: ইউরিক অ্যাসিড কমে যাবে, এই নিয়মগুলি মেনে চলুন)
কেন এই লক্ষণগুলি আগে থেকে জানা গুরুত্বপূর্ণ
এই লক্ষণগুলি জানা মহিলাদের ডায়াবিটিসকে তাড়াতাড়ি শনাক্ত করতে এবং সময়ের আগে এর চিকিৎসা করতে সহায়তা করতে পারে। যেহেতু মহিলাদের হরমোন চক্র, গর্ভাবস্থা এবং মেনোপজ, ডায়াবিটিসকে প্রভাবিত করতে পারে, তাই আগে থেকে এই লক্ষণগুলো জানা স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য জরুরি।
দাবিত্যাগ: সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে এই খবর। যে কোনও পরামর্শের জন্য, কোনও জরুরি পদক্ষেপ করার আগে, অবশ্যই ডাক্তার বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।