বাংলা নিউজ > টুকিটাকি > বিটের জুস পান করলে বাড়বে সুস্থ বার্ধক্যের সম্ভাবনা, বলছে সমীক্ষা
বিটের জুস পান করলে সুস্থ ও উন্নত হবে মস্তিষ্ক এবং রক্তনালীর কাজকর্ম।
বিটের জুস পান করলে সুস্থ ও উন্নত হবে মস্তিষ্ক এবং রক্তনালীর কাজকর্ম।

বিটের জুস পান করলে বাড়বে সুস্থ বার্ধক্যের সম্ভাবনা, বলছে সমীক্ষা

বিট, লেটুস, পালক এবং সেলেরি ইনঅর্গ্যানিক নাইট্রেট এবং বহু অন্যান্য ওরাল ব্যাক্টিরিয়ায় সমৃদ্ধ। এই ওরাল ব্যাক্টিরিয়া নাইট্রেটকে নাইট্রিক অক্সাইডে পরিণত করতে সাহায্য করে। যা রক্তনালী এবং নিউরোট্রান্সমিশন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

বিটের জুস পান করলে সুস্থ ও উন্নত হবে মস্তিষ্ক এবং রক্তনালীর কাজকর্ম। সম্প্রতি এমনই তথ্য উঠে এসেছে একটি সমীক্ষায়। জানা গিয়েছে, বিটের জুস এমন কিছু মুখের ব্যাক্টিরিয়াকে উৎসাহিত করে যা উন্নত কার্যক্ষম মস্তিষ্ক এবং রক্তনালীর সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত। রেডক্স বায়োলজিতে এই সমীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। 

বিট, লেটুস, পালক এবং সেলেরি ইনঅর্গ্যানিক নাইট্রেট এবং বহু অন্যান্য ওরাল ব্যাক্টিরিয়ায় সমৃদ্ধ। এই ওরাল ব্যাক্টিরিয়া নাইট্রেটকে নাইট্রিক অক্সাইডে পরিণত করতে সাহায্য করে। যা রক্তনালী এবং নিউরোট্রান্সমিশন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

বয়স্ক ব্যক্তির শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড কম পরিমাণে উৎপন্ন হয়। যার ফলে ভাস্কুলার (রক্তনালী) এবং কগনিটিভ (মস্তিষ্ক) স্বাস্থ্য দুর্বল হয়ে পড়ে।

এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নতুন সমীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন ২৬ জন স্বাস্থ্যবান বয়স্ক ব্যক্তি। ১০-১০ দিনের সাপ্লিমেন্টেশান পিরিয়ডের সমীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন তাঁরা। একটিতে নাইট্রেট সমৃদ্ধ বিটরুট জুস ও অপরটিতে নাইট্রেট মুক্ত প্লেসেবো জুস পান করতে দেওয়া হয়। দিনে দুবার পান করতে হত এই জুস।

এই সমীক্ষায় ভাস্কুলার ও কগনিটিভ সুস্থতার সঙ্গে উচ্চমাত্রায় ব্যাক্টিরিয়ার যোগাযোগ প্রকাশ্যে আসে। আবার যাঁরা নাইট্রেট মুক্ত জুস পান করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে কম পরিমাণে ব্যাক্টিরিয়ার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। যা রোগ ও ইনফ্লেমেশানের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত।

আবার এই বিটের জুস পান করার পর গড়ে ৫ পয়েন্ট (mmHg) করে সিস্টোলিক ব্লাড প্রেশারও কমে যায়। এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের অথার প্রোফেসার অ্যানি ভ্যানহাথালো জানান, ‘আমরা এই সমীক্ষার ফলাফলে অত্যন্ত উৎসাহিত। সুস্থ বার্ধক্যের সঙ্গে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভাবে জড়িত।’ 

তিনি আরও জানান, ‘পূর্ববর্তী সমীক্ষায় কম বয়স্ক ও বয়স্ক এবং সুস্থ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ওরাল ব্যাক্টিরিয়ার মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা এই প্রথম নাইট্রেট সমৃদ্ধ খাদ্য তালিকা নিয়ে এই পদ্ধতিতে সমীক্ষা করি।’

ভ্যানহাথালো বলেন, ‘আমাদের সমীক্ষা থেকে জানা গিয়েছে, মাত্র ১০ দিনের জন্য খাদ্য তালিকায় নাইট্রেট সমৃদ্ধ খাবার যুক্ত করে (এই কেসে বিট জুস) যথেষ্ট পরিমাণে ওরাল মাইক্রোবায়োম (নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়া)-কে ভালো ভাবে কাজে লাগানো যাবে। দীর্ঘ দিন যাবৎ এই ওরাল মাইক্রোবায়ম মেনটেন করতে পারলে বার্ধক্যের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত দুর্বল ভাসকুলার এবং কগনিটিভ পরিবর্তনের গতি হ্রাস পাবে।’

সমীক্ষকরা নানা মডিউলে এই পরীক্ষা চালান। ইনফ্লেমেশানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত একটি মডিউল (প্রিভোটেলা-ভেইলোনেলা)-এ পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে নাইট্রেট সাপ্লিমেন্টাশনের পর ইনফ্লেমেশান কমানো গিয়েছে, পাশাপাশি কমেছে ক্লসট্রিডিয়াম ডিফিসাইল (যা বাওয়েলকে সংক্রমণিত করে ডাইরিয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে)।

তবে নানা ভাবে নানা দলে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান অধ্যাপক ভ্যানহাথালো। তিনি বলেন, ‘সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা সকলেই সুস্থ ও সক্রিয় বয়স্ক ছিলেন। তাঁদের রক্তচাপও ছিল ভালো। ডায়েটারি নাইট্রেট তাঁদের উচ্চরক্তচাপ গড়ে কমাতে পেরেছে। এবার আমরা দেখতে চাই যে, অন্যান্য বয়স এবং দুর্বল স্বাস্থ্যের ব্যক্তিদের মধ্যে এমন প্রবণতা ধরা পড়ছে কী না।’

বন্ধ করুন