বাংলা নিউজ > টুকিটাকি > গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাকে ভুলেও উপেক্ষা করবেন না, হতে পারে ক্যান্সার, জেনে নিন
গবেষকদের মতে হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি নামক এক ব্যাক্টিরিয়া গ্যাসট্রিক ক্যান্সারের জন্য দায়ী।
গবেষকদের মতে হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি নামক এক ব্যাক্টিরিয়া গ্যাসট্রিক ক্যান্সারের জন্য দায়ী।

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাকে ভুলেও উপেক্ষা করবেন না, হতে পারে ক্যান্সার, জেনে নিন

  • আবার খাবারে অনিয়ম, দুশ্চিন্তা, ব্যায়াম না-করা, অতিরিক্ত মদ্যপানও অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের জন্য দায়ী। মাঝে-মধ্যে কম-বেশি সকলের মধ্যেই এই অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দেয়।

খাবার-দাবার, নিষ্ক্রিয় জীবন-যাপন ইত্যাদি নানান কারণে, নানান রোগ দেখা দেয়। ফাস্টফুড, অস্বাস্থ্যকর খাবার, তেলেভাজা ইত্যাদি খাবারের কারণে অ্যাসিডিটির সমস্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার খাবারে অনিয়ম, দুশ্চিন্তা, ব্যায়াম না-করা, অতিরিক্ত মদ্যপানও অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের জন্য দায়ী। মাঝে-মধ্যে কম-বেশি সকলের মধ্যেই এই অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দেয়। তবে কেউ যদি মাত্রাতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিকে ভোগেন, তা হলে তা মোটেও উপেক্ষা করবেন না। কারণ গ্যাস্ট্রিকের আড়ালে এটি পেটের ক্যান্সারের লক্ষণও হতে পারে। এই ক্যান্সার যে শুধু পেটেই সীমাবদ্ধ থাকবে তা নয়। লিভার, ফুসফুস ও হাড়েও ছড়িয়ে পড়তে পারে এই মারণ ব্যাধি। 

গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সারে ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে পেটের ভিতরের কোষে শ্লেষ্মা তৈরি করে। যা পরবর্তী কালে ঘায়ে পরিণত হয়। পাকতন্ত্রে এটি সবচেয়ে বেশি দেখা দেয়। এটি কার্সিনয়েড টিউমার, গ্যাসট্রিক সারকোমা ও লিম্ফোমাস হয়ে প্রকাশ্যে আসে।

কাদের এই সমস্যা বেশি?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর ২৮ হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হন। এঁদের মধ্যে ৬০ শতাংশ আক্রান্ত ব্যক্তি ৬৫-র ঊর্ধ্বে। আবার মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে এর প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যায়। ১৯৩০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্যান্সারের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল এটি। কিন্তু বর্তমানে এটি ক্যান্সারের তালিকায় ১৪তম স্থান দখল করেছে।

গবেষকদের মতে, রেফ্রিজারেটারে সংরক্ষিত ফল ও শাক-সবজি, ধূমপান, অতিরিক্ত নোনতা খাবারই এই সমস্যার জন্য দায়ী। গবেষকদের মতে হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি নামক এক ব্যাক্টিরিয়া পেটে আলসার বা প্রদাহের অন্যতম কারণ। এই ব্যাক্টিরিয়াই আবার গ্যাসট্রিক ক্যান্সারের জন্য দায়ী। 

তবে এই ক্যান্সারের নানান ধরন রয়েছে। কয়েকটি ধরনের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। ১৯৩০ সালের পর গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সারের হার অনেকটাই কমে গিয়েছে। এখন পাইলোরি অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে এই রোগের চিকিৎসা করা যায়।

অন্যদিকে বংশগত কারণেও কোনও ব্যক্তি এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন। এমনকি পেটে অস্ত্রোপচার হলেও গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সারের সম্ভাবনা বেশি। শুধু তাই নয়, রক্তাল্পতা, কোলনের ও হজমে সমস্যা থাকলে এই ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

এর পাশাপাশি জীবন-যাপন প্রণালী, খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, অতিরিক্ত নোনা মাছ-মাংস খাওয়া, মদ্যপানও গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সারের মুখে ঠেলে দিতে পারে। 

গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সারের লক্ষণ

  • ক্লান্তি।
  • সামান্য খেলেই পেট ভরে যাওয়া ও ফুলে যাওয়া।
  • খিদে না-পাওয়া।
  • হজমে সমস্যা।
  • অম্বল ও পেটে ব্যথা।
  • বমি বমি ভাব, বমি।
  • ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য।
  • কোনও চেষ্টা ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া।
  • রক্তাক্ত বা কালো মল।

এই লক্ষণগুলি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এন্ডোস্কোপি, প্রয়োজনে বায়োপসি করে ক্যান্সার কোষ রয়েছে কী না, সে বিষয় পরীক্ষা করে দেখে নেবেন চিকিৎসকরা। ক্যান্সারের হদিশ পেলে অস্ত্রোপচারও করতে হতে পারে। আবার রেডিয়েশন থেরাপি বা কেমোথেরাপির সাহায্যে চিকিৎসা করা যেতে পারে। 

অনেক সময় ক্যান্সারে আক্রান্ত কোষগুলির আশপাশের কোষও আক্রান্ত হয়ে পড়ে। সে ক্ষেত্রে ইমিউনোথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। এ ক্ষেত্রে দেহকে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম করা হয় এবং এটি ক্যান্সারের নতুন কোষ নষ্ট করে দেয়।

বন্ধ করুন