বাংলা নিউজ > টুকিটাকি > ওরাল হাইজিন মেনে চললে কমতে পারে গুরুতর করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা, বলছে সমীক্ষা
দাঁতে প্লাক জমে থাকা ও পিরিওডনটাল ইনফ্ল্যামেশান সার্স কোভ ২ ভাইরাসের ফুসফুসে পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
দাঁতে প্লাক জমে থাকা ও পিরিওডনটাল ইনফ্ল্যামেশান সার্স কোভ ২ ভাইরাসের ফুসফুসে পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

ওরাল হাইজিন মেনে চললে কমতে পারে গুরুতর করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা, বলছে সমীক্ষা

  • রিপোর্ট অনুযায়ী, এমন কিছু প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় যে, সস্তা এবং সহজলভ্য কিছু মাউথওয়াশের নির্দিষ্ট উপকরণ সার্স কোভ-২ ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে।

সাধারণ ওরাল হাইজিন মেনে চলতে পারলে মুখ থেকে ফুসফুসে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনাকে বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব, এমনকি কোভিড-১৯-এর কারণে হওয়া গুরুতর সংক্রমণও রোধ করা যেতে পারে। সম্প্রতি এমনই তথ্য উঠে এসেছে সমীক্ষায়। জার্নাল অফ ওরাল মেডিসিন অ্যান্ড ডেন্টাল রিসার্চে এই সমীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এমন কিছু প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় যে, সস্তা এবং সহজলভ্য কিছু মাউথওয়াশের নির্দিষ্ট উপকরণ সার্স কোভ-২ ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে।

মুখের সালাইভা থেকে ফুসফুসে সহজেই পৌঁছে যেতে পারে করোনা ভাইরাস। এই সালাইভার সাহায্যেই মুখ থেকে সরাসরি রক্তপ্রবাহে পৌঁছে যায় করোনা। বিশেষত যাঁদের গাম প্রবলেম রয়েছে তাঁদের অধিক সাবধান হওয়া জরুরি।

দেখা গিয়েছে যে, ফুসফুসের এয়ারওয়েজের তুলনায় রক্তনালী প্রাথমিক পর্যায় এই ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয়। সালাইভায় এই ভাইরাসের ঘনত্ব অত্যধিক বেশি। আবার আক্রান্ত হওয়ার পিছনে পিরিওডনটাইটিস বা মাড়ির ইনফেকশানও দায়ী। এই দুই কারণে মৃত্যুর আশঙ্কাও বেশি থাকে। 

সমীক্ষকদের মতে, দাঁতে প্লাক জমে থাকা ও পিরিওডনটাল ইনফ্ল্যামেশান সার্স কোভ ২ ভাইরাসের ফুসফুসে পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে গুরুতর করোনা সংক্রমণও ঘটতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর সম্ভাব্য জীবন রক্ষার প্রক্রিয়া হিসেবে সকলে ওরাল হেল্থকেয়ারের ওপরও নজর দেবেন। ওরাল হাইজিন বজায় রাখার জন্য সাধারণ অথচ কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণের মাধ্যমে নানান মাড়ি রোগের সম্ভাবনাকে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির ফুসফুসের সিটি স্ক্যান দেখে মেডিক্যাল ও ডেন্টাল রিসার্চাররা রক্তপ্রবাহে ভাইরাসের সম্ভাব্য প্রবেশ পথ সম্পর্কে বোঝার চেষ্টা করেন। ইউকে-র বার্মিঙ্ঘাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সমীক্ষার কো-অথার ইয়ান চ্যাপেল বলেন যে, ‘কেন কিছু কিছু ব্যক্তির ফুসফুসে কোভিড ১৯ সংক্রমণ ঘটছে এবং অন্য কোনও ব্যক্তির ক্ষেত্রে তা হচ্ছে না, সেই বিষয়টি বুঝতে এই মডেল সাহায্য করতে পারে। এর ফলে আমরা এই ভাইরাসটিকে যে ভাবে বাগে আনার চেষ্টা করছি, তার পন্থায় পরিবর্তন আনা যাবে। সস্তা এমনকি বিনামূল্যে মুখের চিকিৎসার লক্ষ্য স্থির করার বিষয় ভাবনাচিন্তা করা যায়। এর ফলে আদতে প্রাণ বাঁচানো যাবে।’

সমীক্ষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, মাড়ির রোগের কারণে মাড়ি দুর্বল ও ছিদ্রযুক্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে মাইক্রোঅর্গ্যানিসম রক্তের সঙ্গে মিশে যেতে পারে।

কিছু সাধারণ উপায়ে মুখের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা যায়। সাবধানে দাঁত মাজা, ইন্টারডেন্টাল ব্রাশিংয়ের কারণে প্লাক জমতে পারবে না। আবার কোনও নির্দিষ্ট মাউথওয়াশ অথবা নুন জলের সাহায্যে মুখ ধুলে জিঞ্জিভাল ইনফ্ল্যমেশানের সম্ভাবনা কমিয়ে আনা যায়। এর ফলে স্যালাইভায় ভাইরাসের ঘনত্ব বৃদ্ধিও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

সমীক্ষকদের মতে, এর ফলে ফুসফুসের রোগ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনাকে প্রশমিত করা যাবে। পাশাপাশি কোভিড ১৯ সংক্রমণের কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্য অবনতির আশঙ্কাকেও কমানো যাবে।

নতুন মডেল অনুযায়ী, মুখে ভাইরাস প্রজননের সফল ক্ষেত্র হিসেবে উঠে আসছে। ওরাল ইমিউন ডিফেন্স লঙ্ঘন না-করে সহজে রক্তপ্রবাহে পৌঁছে যাচ্ছে এই ভাইরাস। মাড়ির রক্তনালীর মধ্য দিয়ে এই ভাইরাস গলা হয়ে বুকের শিরায় গিযে উপস্থিত হয়। 

চ্যাপেল জানান, ‘এ ক্ষেত্রে অধিক গবেষণার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ততদিন দৈনন্দিন ওরাল হাইজিন ও প্লাক নিয়ন্ত্রণে শুধুমাত্র মুখের সুস্বাস্থ্যই বজায় রাখবে না বরং এই অতিমারীর আবহে তা জীবনদায়ীও প্রমাণিত হতে পারে।’

বন্ধ করুন