বাংলা নিউজ > টুকিটাকি > ব্রণ-র সমস্যায় জেরবার? জানুন কমানোর আসল উপায়
ফাইল ছবি : টুইটার (Twitter)
ফাইল ছবি : টুইটার (Twitter)

ব্রণ-র সমস্যায় জেরবার? জানুন কমানোর আসল উপায়

যদি এই সমস্যার শিকার হন, সেক্ষেত্রে অবশ্যই মাথায় রাখবেন। আর পরিচিত কেউ এই সমস্যায় ভুগলে তাঁর সঙ্গে এটি শেয়ার করতে ভুলবেন না।

ব্রণ (Acne, Pimple) যাঁদের হয়, তাঁরাই এর কষ্ট বোঝেন। অনেক 'টোটকা', বাজারচলতি ফেসওয়াশ ব্যবহার করেও কিছুতেই কমতে চায় না।

কিন্তু ব্রণর সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় খুবই সহজ। আর সেটাই বলা হবে এই প্রতিবেদনে। আপনি যদি এই সমস্যার শিকার হন, সেক্ষেত্রে অবশ্যই মাথায় রাখবেন। আর পরিচিত কেউ এই সমস্যায় ভুগলে তাঁর সঙ্গে এটি শেয়ার করতে ভুলবেন না।

ব্রণ, অ্যাকনে, পিম্পেল কেন হয়?

>>> ত্বকে সিবেসিয়াস গ্রন্থি থেকে তেল বা সিবাম নিঃসৃত হয়। এটি শরীরের একটি রেচন প্রক্রিয়া। সেই সঙ্গে এটি ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখে। কখনও কখনও এই সিবাম অতিরিক্ত পরিমাণে নিঃসৃত হয়। তখনই ত্বক তৈলাক্ত (Oliy Skin) হয়।

>>> অন্যদিকে আমাদের প্রত্যেকের চামড়ার উপরের স্তরে মৃত কোশ জড় হয়। এই মৃত কোশ, তেল ও ধুলোবালি মিশে যায়। এর ফলে ত্বকের রোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়। তেল-ঘাম বের হতে পারে না।

>>> এরফলে সেই জায়গাটি জমাট বেঁধে ফুলে ওঠে। এটি আবার ব্রণ-র জীবাণু অ্যাকনে ভালগারিস-এর প্রিয় খাদ্য। ফলে সেই স্থানে পিম্পেল হয়।

>>> বয়ঃসন্ধির সময়ে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। ফলে এই সময়ে বেশি বেশি সিবাম নিঃসৃত হয়। তাছাড়া মাতৃত্বকালে, অতিরিক্ত ওজন নিয়ে ব্যায়াম ইত্যাদি কারণেও তেল বেশি নিঃসৃত হতে পারে। ফলে ব্রণ বেশি হয়।

কী করে কমাবেন? (How to get rid of Acne)

কেন হয় তা তো জেনেই গেলেন। ফলে কারণগুলোর উপর একটু নজর দিন। তাহলেই নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতে।

১. রোজ সকালে উঠে এবং রাতে শুতে যাওয়ার আগে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। চেষ্টা করবেন Ingredients-এ Salicylic Acid রয়েছে, এমন ফেসওয়াশ কেনার।

ফেস ওয়াশের প্যাকের পেছনে ইনগ্রেডিয়েন্টস-এ স্যালিসাইলিক অ্যাসিড আছে কিনা অবশ্যই দেখে নেবেন। নিজস্ব চিত্র
ফেস ওয়াশের প্যাকের পেছনে ইনগ্রেডিয়েন্টস-এ স্যালিসাইলিক অ্যাসিড আছে কিনা অবশ্যই দেখে নেবেন। নিজস্ব চিত্র (HT Bangla)

স্যালিসাইলিক অ্যাসিড ব্রণর জীবণু ধ্বংস করে। পাশাপাশি ত্বকের মৃত কোশ তুলে দেয়।

২. বাইরে থেকে এলেও সঙ্গে সঙ্গে মুখ ফেসওয়াশ দিয়ে ধুয়ে নিন।

৩. ফেসওয়াশ দিয়ে ধুয়ে অবশ্যই একটি ওয়াটার বা জেল বেসড- তৈলাক্ত ত্বকের জন্য তৈরি ময়েশ্চরাইজার ব্যবহার করুন। অনেকে তৈলাক্ত ত্বক ভেবে এটি ব্যবহার করেন না।

কিন্তু এতে মুখ ধোওয়ার পর হঠাত্ ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ায় মস্তিষ্ক উল্টো সিগনাল পায়। বেশি বেশি তেল তৈরি হতে শুরু করে।

এছাড়া দিনে ৩ বারের বেশি মুখ ধোয়াও একই কারণে এড়িয়ে চলুন।

৪. সপ্তাহে দুই দিন ত্বক হালকা হাতে স্ক্রাব করুন। এতে মৃত কোশ উঠবে। স্নানের পর ভেজা তোয়ালে বা গামছা দিয়ে আলতো হাতে ত্বক ঘষবেন। নরম লুফা-ও ব্যবহার করতে পারেন।

তবে ব্রণ থাকা অবস্থায় এটি করতে যাবেন না। ব্রণ-র স্থানটি এড়িয়ে স্ক্রাব করবেন।

৫. একটা প্রতিজ্ঞা করুন- মুখে হাত দেব না। হ্যাঁ, সারাদিন একবারও মুখে, ব্রণতে হাত দেবেন না। আর ব্রণ ফাটানোর চেষ্টা নৈব নৈব চ। গর্ত গর্ত হয়ে যেতে পারে শুকনোর পর।

৬. এবার আসি ডায়েটে। প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন। শাক-সবজি, ফল বেশি খান। শর্করা জাতীয় খাবার যেমন ভাত, ময়দা, চিনি এড়িয়ে চলুন। এছাড়া স্নেহ পদার্থ, যেমন তেল, ঘি, মাখন কমিয়ে দিন।

৭. বেশি ওজন নিয়ে ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন। তবে খালি হাতে ব্যায়াম অবশ্যই করুন। এতে শরীরে, ত্বকে রক্ত সরবরাহ ভাল হবে।

খুবই সহজ এই জিনিসগুলি অন্তত ২ মাস মেনে চলুন। ফল পাবেন। ধৈর্য্য রাখুন। আর আপনার কোনও বন্ধু এই সমস্যায় ভুগলে অবশ্য তাঁর সঙ্গে শেয়ার করুন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার এই প্রতিবেদন।

বন্ধ করুন