বাংলা নিউজ > টুকিটাকি > Relationship Problem: ‘বরের মাসতুতো ভাই জোর করে আমায় কোথায় নিয়ে গিয়েছিল! এখন মনে হয় ওর চরম ক্ষতি করি!’

Relationship Problem: ‘বরের মাসতুতো ভাই জোর করে আমায় কোথায় নিয়ে গিয়েছিল! এখন মনে হয় ওর চরম ক্ষতি করি!’

প্রতীকী ছবি

Relationship Problem: আপনাদের ব্যক্তিগত সমস্যা, সম্পর্কের সমস্যা— এসব সমস্যার উত্তর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ।

খুব বিশ্রী সমস্যা পরে সাহায্য চাইছি। বিষয়টির সঙ্গে আমার শ্বশুর বাড়ির তরফের পরিবার ও বহু সম্পর্ক জড়িত। তাই বিষয়টি অত্যন্ত গোপনেও রাখতে হচ্ছে।

আমাদের বিয়ে হয়েছে বছর পাঁচেক হল। বিয়ে যখন হয়, তখন আমরা কলকাতায় থাকতাম না। থাকতাম দুর্গাপুরে। বিয়ের যাবতীয় অনুষ্ঠান মিটে যাওয়ার পরে আমরা মধুচন্দ্রিমার জন্য পাহাড়ে বেড়াতে যাই। তার কয়েক মাস পরেই পুজো। তখন আমরা ঠিক করি, পুজোয় কলকাতায় কাটাবো।

সেই মতো চলে আসি কলকাতায়। পুজোর দেখার পরিকল্পনা তো ছিলই, তার সঙ্গে ছিল, আত্মীয়দের বাড়িতে যাওয়ার ভাবনাও। আমার বাড়ির দিকের দুই আত্মীয়ের বাড়িতে আমরা যাই। তাছাড়াও যাই, আমার বরের কয়েক জন আত্মীয়ের বাড়িতেও। এর মধ্যে ছিল আমার বরের মাসির বাড়িও। সেখানে আমরা বেশ কয়েক দিন ছিলাম।

আমার বরের মাসির বাড়ির সদস্য তিন জন। মাসি-মেসো আর তাঁদের এক ছেলে। বড়লোকের ছেলে। ফলে যা বুঝেছি, ছোট থেকেই যা চেয়েছে, সবই পেয়েছে। তার মধ্যে খানিকটা বেয়ারাপনাও আছে।

আমরা ওদের বাড়িতে পৌঁছোনোর পর থেকেই সময়টা বেশ মজাতেই কাটছিল। বরের মাসতুতো ভাই প্রথম থেকেই খুব ভালো করে আমাদের সঙ্গে মিশছিল। কিন্তু আমি বুঝতে পারছিলাম, ওর আমার প্রতি নজরটা একেবারে নিষ্কাম নয়। মেয়েরা এগুলো ভালো বোঝে। আমারও বুঝতে অসুবিধা হত না।

আমার যে ছেলেটিকে একেবারে ভালো লাগেনি, তাও নয়। বেশ মজার কথা বলত। তাছাড়া ওর মধ্যে এমন একটা দস্যিপনা ছিল, যা আমার বরের মধ্যে দেখেনি। ফলে বিষয়টি ক্রমশ আমার কাছে বেশ মজার হয়ে ওঠে। আমার চেয়ে দু’বছরের ছোট একটি ছেলে, আমায় অতিরিক্ত পাত্তা দিচ্ছে, বিষয়টি ভালো লাগার মতো তো বটেই। কিন্তু সেটির পরিণতি যে কী হতে পারে, তা ভাবিনি।

যত দূর মনে পড়ছে আমরা ওদের বাড়িতে থাকার তৃতীয় দিন সকালে আমার বরের মেসোমশাই বরকে নিয়ে গেলেন বাজারে। মাসিমা বোধহয় পুজোর ঘরে ব্যস্ত। আমি ওদের বারান্দায় দাঁড়িয়ে রাস্তা দেখছি। পুজো সবে শেষ হয়েছে। রাস্তা সাজানোর আলোগুলো খুলে ফেলা হয়েছে। আমি বারান্দার রেলিং থেকে ঝুঁকে পড়ে কী একটা দেখছিলাম। হঠাৎ মনে হল, শাড়ির ফাঁকে কোমরের কাছটায় কিছুর একটা স্পর্শ পেলাম। আচম্বিতে ফিরে তাকিয়ে দেখি, আমার দেওর। খুব সচেতনভাবেই আমার কোমরের কাছে আঙুল দিয়ে স্পর্ষ করেছে। আবার এমনভাবে করেছে, যাতে সমস্যা হলে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে পারে।

বেশ খানিকটা চমকে গিয়ে সরে দাঁড়ালাম। কিন্তু সেই স্পর্শ যে খুব খারাপ লেগেছিল তা নয়। কথা বলছিলাম। কথা বলতে বলেত ঘরের ভিতরে ফিরে এলাম। দেওরও এল সঙ্গে সঙ্গে। ও বোধহয় টের পেয়েছিল, আমার ওকে ভালো লেগেছে, বা হয়তো ভেবেছিল ও জোর করলে আমি প্রতিবাদ করব না। তাই কিছু ক্ষণের মধ্যেই টের পেলাম, আমার কোমর ওর হাতের ভাঁজের মধ্যে। আর আমার ঠোঁটে ওর ঠোঁট ডুবে গিয়েছে। বিষয়টি এত দ্রুত হল যে, আমি পালিয়ে যেতে পারলাম না। বা হয়তো চাইওনি।

এর পরের দিন আমরা ওখান থেকে চলে যাই। কিন্তু তার পরে দুটো দিন আমার বরের কাজ ছিল। আর ওই দুটো দিন আমারও বাপের বাড়িতে থাকার কথা ছিল। এরই মধ্যে একদিন বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করব বলে বাড়ি থেকে বেরোই। আর সারা দিন বরের সেই ভাইয়ের সঙ্গে কাটাই। সেটিও ওর এক বন্ধুর ফ্ল্যাটে। সেখানে আমরা দু’জন ছাড়া আর কেউ ছিল না।

আমরা শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হই। যদিও এমন কোনও ভাবনা আমার মাথায় ছিল না। ঘুরে বেড়ানোরই পরিকল্পনা ছিল। এক প্রকার জোর করেই ও বন্ধুর ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। এবং সেখানে যে কেউ থাকবে না, এমনও জানতাম না। আমি চাইনি। তবু সব কিছুই করতে হয় ওর সঙ্গে।

এই পর্যন্ত শুনে যে কেউ ভাবতে পারেন, আমি এক বার শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছি। এখন সে সব স্মৃতি মুছে ফেলতে চাই বলে এত কথা বলছি।

কিন্তু বিষয়টি তার চেয়ে কিছুটা জটিল। এই ঘটনার পরে আমরা দুর্গাপুর ফিরে যাই। আমার সংসার এগোতে থাকে। আমাদের একটি ছেলে হয়েছে। সময় যত এগোতে থাকে একটি কথা টের পাই, আমি আমার বরকে অত্যন্ত বেশি পরিমাণে ভালোবেসে ফেলেছি। আর সেই কারণেই ওই একটি বারের একটি সম্পর্কের কথা আমি আর মনেও আনতে চাইনি। যদি কোনও দিন আমার বর ওই ঘটনার কথা জানতে পারে, তাহলে কী হবে জানি না, কিন্তু ওই ঘটনার কথা মনে পড়লে আমার নিজের তার চেয়ে বেশি কষ্ট হয়।

সমস্যা দেখা দিল এর পরে। আমার বর কলকাতায় ট্রান্সফার হয়ে গেল। আমরা চলে এলাম কলকাতায়। বাড়ি খুঁজবি তো খোঁজ, পাওয়াও গেল ওই মাসিদেরই বাড়ির কাছে। বর ছোট থেকে অনেকটা সময় মাসিদের কাছে থেকেছে। ফলে ওই এলাকার প্রতি ওর কিছুটা টানও আছে। আমরা এসে উঠলাম এখানে।

আমার সেই দেওরের এখন বিয়ে হয়েছে। কলকাতায় আসার পরে ওর সঙ্গে বেশ কয়েক বার দেখা হয়েছে। ওকে দেখে মনেও হয়, ও অনেক বদলে গিয়েছে। হয়তো ও নিজেও পুরনো বিষয়টি মনে করতে চায় না। বদলে গিয়েছে দৃষ্টি। এখন এমনভাবে ব্যবহার করে, যেন তেমন কিছুই কখনও ঘটেনি।

কিন্তু আমার মন মানে না। ওকে দেখলেই আমার রাগ হয়। ভীষণ রাগ। মনে হয়, ওর একটা চরম ক্ষতি করে ফেলি। কখনও কখনও এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। কী করব?

বিশেষজ্ঞের জবাব:

সম্পর্কবিদ মৌমিতা গুপ্ত এই বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য:

আপনার কথা থেকেই স্পষ্ট, আপনার এই রাগ যতটা না আপনার বরের মাসতুতো ভাইয়ের উপর, তার চেয়ে বেশি করে আপনার নিজের উপর।

দেখুন, এমন ভুল বহু মানুষের বহু সময়েই হয়ে যায়। এই ভুল সাধারণত মানুষ দু’ভাবে সামলান। এক, তাঁরা হয় তাঁদের সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে বলে দেন। তার পরে তাঁরা যদি সব মেনে নিয়েও তাঁদের সঙ্গে থাকেন, তাহলে এক রকন। আর যদি না থাকেন, তাহলে অন্য রকম।

দ্বিতীয় রাস্তা হল, একেবারে সব কিছু চেপে যাওয়া। জীবনের শেষ পর্যন্ত চেপে রাখা। এবং এক সময়ে সব কিছু বিস্মৃতির অতলে তুলিয়ে যাওয়া। তবে এতে ঝুঁকিও থাকে। ধরা পড়ে গেলে তখন ক্ষতি বেশি হয়।

আপনার ক্ষেত্রে আপনি দ্বিতীয় রাস্তাটাই বেছে নিয়েছেন। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিজের লজ্জা, আপনার বরের প্রতি আপনার ভালোবাসা, সংসার ভেঙে যাওয়ার ভয় এবং সর্বোপরী অপরাধবোধ। সবটা মিলিয়ে আপনি যে মানসিক অবস্থায় চলে গিয়েছেন, তা হল ভয়ঙ্কর রাগ। এই রাগ বেশি মাত্রায় আপনার নিজের প্রতিই হচ্ছে।

এখন আপনি কী করতে পারেন? প্রথমত, আপনার স্বামীকে পুরো বিষয়টি জানাতে পারেন। তিনি যদি আপনাকে সত্যিই ভালোবাসেন, তাহলে বিষয়টি বুঝবেন এবং হয়তো সেই অনুযায়ী কোনও পথে এগোতে পারেন। দ্বিতীয়ত, আপনি পুরোটা চেপেই রাখতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনার রাগ বাড়বে বই কমবে না।

এর পাশাপাশি এমনও হতে পারে, আপনার দেওরের প্রতি আপনার স্বল্প দুর্বলতা রয়েই গিয়েছে। আর এখন তাঁকেও সুখে সংসার করতে দেখে, আপনি বিরক্ত হচ্ছেন।

ঠিক কোন কারণে আপনি এতটা রেগে যাচ্ছেন, তা বোঝার পরেই তার সমাধানে পৌঁছোনো সম্ভব। এবং এক্ষেত্রে এজন পেশাদার মনোবিদই আপনাকে সঠিক পরামর্শ দিতে পারেন। তাই আপনার উচিত হবে দ্রুত তেমন কারও সঙ্গে কথা বলা। কারণ রাগের মাত্রা বাড়তে থাকলে, তা আপনাকে এমন কাজ করে ফেলতে বাধ্য করতে পারে, যা আপনার জীবনকে এবং সাজানো সংসারকে আরও কিছু চাপের মুখে ফেলে দিতে পারে এবং সেগুলি ভেঙেও যেতে পারে।

শেষে একটি কথা বলব, যাকে আপনি ‘জোর করা’ বলছেন, তা বোধহয় পুরোটা নাও হতে পারে। আপনার তরফে কিছুটা প্রশ্রয় বা ইচ্ছা না থাকলে কি সেদিন বিষয়টি এমন হত? তাই পুরোটা দোষটা অন্য মানুষটির উপর চাপিয়ে দিয়ে নাই আরও বেশি রেগে গেলেন। বরং পরিণত মানুষের মতো করে সিদ্ধান্ত নিন। সেটাই আপনাকে বেশি ভালো রাখবে।

বন্ধ করুন