বাংলা নিউজ > টুকিটাকি > International Tea Day 2021: আজকের দিনে জানুন ‘আসল’ চায়ের প্রকারভেদ
কালো চা সবচেয়ে সাধারণ চায়ের ভ্যারাইটি। আসাম কালো চা, সিলং কালো চা, দার্জিলিং চা, মশলা চা ইত্যাদি এগুলির মধ্যে অন্যতম।
কালো চা সবচেয়ে সাধারণ চায়ের ভ্যারাইটি। আসাম কালো চা, সিলং কালো চা, দার্জিলিং চা, মশলা চা ইত্যাদি এগুলির মধ্যে অন্যতম।

International Tea Day 2021: আজকের দিনে জানুন ‘আসল’ চায়ের প্রকারভেদ

  • বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা দারিদ্র্য ও অপুষ্টিতে চায়ের অমূল্য যোগদানের প্রতি সচেতনতা বাড়াতে এবং এর গুরুত্ব সকলের সামনে পৌঁছে দিতে এই দিনটি পালিত হয়।

আজ আন্তর্জাতিক চা দিবস। ২০২০ সাল থেকে ২১ মে তারিখে এই দিবস পালন শুরু হয়েছে। এর পূর্বে ডিসেম্বর মাসের ১৫ তারিখে পালিত হত আন্তর্জাতিক চা দিবস। একটি উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সাধনের জন্য এই দিনটি পালিত হয়ে আসছে। বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা দারিদ্র্য ও অপুষ্টিতে চায়ের অমূল্য যোগদানের প্রতি সচেতনতা বাড়াতে এবং এর গুরুত্ব সকলের সামনে পৌঁছে দিতে এই দিনটি পালিত হয়। উন্নয়নশীল দেশগুলিতে চা উৎপাদন ও ব্যবসার সঙ্গে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা জড়িত।

ভারতের মতো দেশে চা ছাড়া দিন শুরু হয় না। সকালে এক কাপ গরম চা না-পেলে অধিকাংশ মানুষেরই মন আনচান করে। সেই ভারতে চায়ের ইতিহাস খুব একটা পুরনো নয়। ঐতিহাসিকদের মতে ১৮২৪ সালে বার্মা ও আসাম সীমান্তে চা গাছ পাওয়া যায়। এর পর ১৮৩৬ সালে ব্রিটিশদের তরফে ভারতে চা উৎপাদন শুরু হয়। প্রথমে চিন থেকে আনানো বীজ দিয়ে চা উৎপাদন করা হত। কিন্তু পরবর্তীকালে আসামের চা বীজ ভারতে চা উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হতে শুরু করে। চা ভারতীয় খানাপিনার এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে ওঠে। আমাদের দেশে প্রধানত লিকার চা এবং দুধ চা-ই প্রাধান্য পেয়ে থাকে। তবে এ ছাড়াও নানান ধরণের চায়ের অস্তিত্ব রয়েছে। বর্তমানে নানান হার্বাল চায়ের প্রচলন আছে। কিন্তু খুব কম চা-ই আছে যাকে ‘আসল’ চায়ের তকমা দেওয়া চলে। কালো, সবুজ, উলোঙ্গ, পুয়েরহ এবং সাদা চা এগুলির মধ্যে অন্যতম। এই সমস্ত চা-ই একই চা গাছ থেকে তৈরি। এই চা গাছের নাম ক্যামেলিয়া সিনেনসিস। এই গাছের পাতা থেকে তৈরি চা-কেই আসল চায়ের তকমা দেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া অন্য কোনও ধরণের চা গাছের উল্লেখ পাওয়া যায় না।

চায়ের মতো পানীয়, তবে এই গাছ থেকে তৈরি হয়নি সেগুলিকে চা বলা চলে না। তবে অনেকেই যেহেতু চায়ের মতো পানীয় পছন্দ করেন, তাই সে সব পানীয়কে হার্বাল টি বা টিসেন্স বলা হয়ে থাকে। 

এখানে আসল চায়ের ধরণ সম্পর্কে জানানো রইল--

১. কালো চা- ক্যামেলিয়া সিনেনসিস গাছ থেকে এই কালো চা তৈরি করা হয়। এই গাছের পাতা তুলে সেটিকে ক্রাশ, কার্ল, রোল ও টোর্ন করে শুকিয়ে যাওয়ার আগে অক্সিডাইজের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। 

পাতাগুলি পুরোপুরি অক্সিডাইজ হয়ে গেলে কালো চা স্ট্রং ও ডার্ক ফ্লেভারের হয়। নানান ব্লেন্ডের কালো চা বিক্রি হয়। এই ব্লেন্ডই কালো চায়ের ফ্লেভার নির্ধারণ করে। চিন, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নেপালে কালো চা উৎপাদন হয়। কালো চা সবচেয়ে সাধারণ চায়ের ভ্যারাইটি। আসাম কালো চা, সিলং কালো চা, দার্জিলিং চা, মশলা চা ইত্যাদি এগুলির মধ্যে অন্যতম।

কালো চায়ের উপকারীতা- এর উপকারিতা সম্পর্কে নানান সমীক্ষা চালানো হচ্ছে। তবে এতদিনের সমীক্ষা থেকে জানা যায় যে, কালো চা হৃদয় সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। আবার অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকেও শরীরকে নিরাপদে রাখে।

২. গ্রিন টি- ক্যামিলিয়া সিনেনসিস গাছের সতেজ বা শুকিয়ে যাওয়া, সামান্য উষ্ণ বা স্টিম করা পাতা থেকে গ্রিন টি তৈরি করা হয়। এই পদ্ধতি অক্সিডেশন প্রক্রিয়া রোধ করে। এই চা স্বাদে হাল্কা, সতেজ এবং সামান্য গ্রিসি হতে পারে। নানান গ্রিন টি-র স্বাদ নানান ধরণের হয়ে থাকে। কোনওটি নাটি-ফ্রুটি বা প্রায় সি-উইডের মতো হয়। মাচা টি-ও এক ধরণের গ্রিন টি।

মাচা গ্রিন টি।
মাচা গ্রিন টি।

গ্রিন টি-র উপকারিতা- এই চা মানসিক সতর্কতা বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি হৃদয় সুস্থ রাখতে, অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের প্রতি প্রাকৃতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

৩. উলোঙ্গ চা- এটি ব্ল্যাক ড্র্যাগন চা নামেও খ্যাত। এটি সেমি-অক্সিডাইজড এবং এই গাছের গোটা পাতাগুলিই চা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই চা পাতার অক্সিডাইজেশনের ওপর এর রঙ ও স্বাদ নির্ভর করে। পাতা যত কম অক্সিডাইজ হবে, এর রঙ হবে ততই হাল্কা এবং যত বেশি অক্সিডাইজ হবে, তত গাঢ় হবে এর রঙ।

উলোঙ্গ চা।
উলোঙ্গ চা।

উলোঙ্গ চায়ের উপকারিতা- অন্যান্য চায়ের তুলনায় এর জনপ্রিয়তা অনেক কম। কিন্তু এটি গুণমানে সমৃদ্ধ। এতে একাধিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বর্তমান, যেমন ইজিসিজি, থিয়াফ্ল্যাভিনস এবং থিরুবিগিনস। ফ্রি র‌্যাডিক্যাল এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের হাত থেকে শরীরকে নিরাপদে রাখতে সাহায্য করে এই চা। এ ছাড়াও হৃদয় ও মস্তিষ্কের সুস্থতাতেও এটি সাহায্য করে থাকে।

৪. পুয়েরহ বা পিও চা- এটি এক ধরণের ফার্মেন্টেড বা গাঁজানো চা। এটি সাধারণত অন্যান্য আসল চায়ের তুলনায় বেশি দামী। ক্যামিলিয়া সিনেনসিস গাছের পাতা ও কান্ড থেকে এই চা তৈরি করা হয়। এটি চিনের ইউনান প্রদেশে উৎপাদিত হয়। চায়ের ইট, কেক বা শুকনো পাতা হিসেবে এটি বিক্রি করা হয়।

 

পুয়েরহ বা পিওর চা।
পুয়েরহ বা পিওর চা।

পুয়েরহ চা পাতার তোলার পর এর অক্সিডেশন বন্ধ করার জন্য একটি বড় কড়াইয়ে নাড়াচাড়া করা হয়। নানান প্রক্রিয়ার পর একটি স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে বহুদিনের জন্য রেখে দেওয়া হয়। এর রিচ এবং গাঢ় রঙ ও স্বাদ বের করে আনার জন্য এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়।

পুয়েরহ বা পিওর চায়ের উপকারীতা- অন্যান্য চায়ের মতো এই চা পাতার ওপর বিশেষ গবেষণা করা না-হলেও এর উপকারীতা সম্পর্কে নানান তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়। এতে উপস্থিত ক্যাফিন মানসিক সতর্কতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ এটি। হৃদয় ও ত্বক সুস্থ রাখতে এই চা সাহায্য করে।

৫. সাদা চা- ক্যামিলিয়া সিনেনসিসের নতুন কুঁড়ি ও পাতা দিয়ে এই চা তৈরি করা হয়। নতুন কুঁড়ির রুপোলী আভা এই চায়ের সাদা রঙের জন্য দায়ী। পাতা ও কুঁড়ি তোলার পর এর অক্সিডেশন প্রক্রিয়া বন্ধ করার জন্য এগুলিকে সেদ্ধ করা বা ভাজা হয়। তার পর এই পাতাগুলিকে শুকতে দেওয়া হয়। এর ফলে এই চায়ের স্বাদ হয় হাল্কা, ডেলিকেট ও ফ্রুটি। অন্যান্য আসল চায়ের তুলনায় সাদা চায়ে ক্যাফিনের পরিমাণ সবচেয়ে কম থাকে। নানান ধরণের সাদা চায়ের মধ্যে দার্জিলিং সাদা চা অন্যতম। তবে ভারতে উৎপাদিত এই চা ইউনানের সাদা চায়ের তুলনায় সস্তা।

সাদা চায়ের মধ্যে দার্জিলিং সাদা চা অন্যতম।
সাদা চায়ের মধ্যে দার্জিলিং সাদা চা অন্যতম।

সাদা চায়ের উপকারীতা- এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান বর্তমান। এতে উপস্থিত ক্যাটচিনস, ট্যানিনস ও ফ্লুয়োরাইড দাঁতের সুস্থতার জন্য উপযোগী। ফ্লুয়োরাইড দাঁত মজবুত রাখতে সাহায্য করে, আবার ক্যাটচিন এবং ট্যানিনস মুখের প্লাক ব্যাক্টিরিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। মস্তিষ্কের সুস্থতাতেও সাহায্য করে এই চা।

বন্ধ করুন