বাংলা নিউজ > টুকিটাকি > ২ জুন ভারতের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ দিন? তেলেঙ্গানার জন্ম হয়েছিল এই দিনে
তেলেঙ্গানার জন্মের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভাষা নিয়ে আবেগ

২ জুন ভারতের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ দিন? তেলেঙ্গানার জন্ম হয়েছিল এই দিনে

  • এই রাজ্যের জন্মের পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে চলা তেলেঙ্গানা আন্দোলন। অন্ধপ্রদেশ থেকে এই তেলেঙ্গানার আলাদা নতুন রাজ্য হয়ে ওঠার সঙ্গে রয়েছে তেলুগু আবেগ।

রণবীর ভট্টাচার্য

স্বাধীনতার পর থেকেই অনেকবার আলোচনা হয়েছে ছোট রাজ্য সুষ্ঠু শাসনের পক্ষে সুবিধা জনক কিনা। ভারতে রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু দিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পরবর্তীকালে ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় আসার পর ছোট রাজ্যের প্রতি দাবি জোরালো হয়েছে এবং আইনানুগ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জন্ম হয়েছে নতুন রাজ্য - উত্তরাখণ্ড, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, তেলেঙ্গানার মত আবার জম্মু কাশ্মীর নতুন চেহারায় ধরা দিয়েছে। নতুন রাজ্যগুলোর মধ্যে আজ তেলেঙ্গানার জন্মদিন। ২০১৪ সালের ২ই জুন এই নতুন রাজ্যের জন্ম আর তার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হন কে চন্দ্রশেখর রাও।

তবে এই নতুন রাজ্যের জন্মের পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে চলা তেলেঙ্গানা আন্দোলন। অন্ধপ্রদেশ থেকে এই তেলেঙ্গানার আলাদা নতুন রাজ্য হয়ে ওঠার সাথে রয়েছে তেলুগু আবেগ। অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় আগে যখন ১৯৫৩ সালে ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য তৈরির জন্য কমিশন গঠন হয়, তখন বিভিন্ন রাজ্যের দাবির সঙ্গে তেলেঙ্গানা রাজ্যের দাবি ওঠে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কমিশন তেলেঙ্গানা তৈরির পক্ষে মতামত দেননি। 

২০০৪ এর পূর্বে পুরোন অন্ধ্রপ্রদেশের অন্যতম প্রধান অংশ ছিল তেলেঙ্গানা। তেলেঙ্গানার দাবিতে যাঁরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করছিলেন, তাদের বক্তব্য ছিল যে রাজ্যের একাধিক ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের মানুষদের প্রধান ভূমিকা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই তারা বঞ্চিত। ১৯৬৯ থেকে ১৯৮৫ সালের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের মানুষ দেখেছিলেন দু’টি আন্দোলন - জয় তেলেঙ্গানা এবং জয় অন্ধ্র। বলাই বাহুল্য, দুটো আন্দোলনের লক্ষ্য একদম উল্টো ছিল। একদল ছিল তেলেঙ্গানা রাজ্য গড়ার পক্ষে আর আরেক দল অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য কাঁটাছেড়া না করার পক্ষে। ১৯৭৩ সালে ভারত সরকারের সঙ্গে ছয়টি পয়েন্ট ফর্মুলা নিয়ে বিশেষ সিদ্ধান্তে আসেন রাজ্য, যেখানে শান্তি সহাবস্থানের উপর জোর দেওয়া হয়।

২০০১ সালের এপ্রিল মাসে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের নেতৃত্বে তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি (টিআরএস) গঠন হলে নতুন রাজ্যের দাবি জোরদার হতে থাকে। পরবর্তীকালে টিআরএস এই আন্দোলনের পুরোধা হয়ে ওঠে এবং নতুন রাজ্য তৈরি হলে মসনদে আসে।

ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য বা ছোট রাজ্য হলেই সুবিধা কিনা, এর সহজ উত্তর সম্ভব নয়। ভারত এমন একটি দেশ যা বহুত্ববাদে বিশ্বাস করে। সেই দিক থেকে সব রাজ্য সমান, আর সব রাজ্য বিশ্বাস করে ভারতের সার্বভৌমত্বে। আজ নতুন তেলেঙ্গানার জন্মদিনে রইল একরাশ শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা।

বন্ধ করুন