বাংলা নিউজ > টুকিটাকি > Quran and Kashmiri Youth: কাশ্মীরি যুবকের বিশ্ব রেকর্ড! ৫০০ মিটার লম্বা গোটানো কাগজে লিখলেন কোরান
তাক লাগিয়ে দিলেন কাশ্মীরি যুবক।

Quran and Kashmiri Youth: কাশ্মীরি যুবকের বিশ্ব রেকর্ড! ৫০০ মিটার লম্বা গোটানো কাগজে লিখলেন কোরান

  • কাশ্মীরের এক যুবক গড়লেন বিশ্ব রেকর্ড। ৫০০ মিটার লম্বা স্ক্রলে পবিত্র কোরান লিখে তাক লাগিয়ে দিলেন সকলকে।

কাশ্মীরের বাসিন্দা হচ্ছেন মুস্তাফা জামিল। মাত্র ২৭ বছর বয়স তাঁর। আর এই বয়সেই তিনি গড়ে ফেললেন বিশ্ব রেকর্ড। কী করেছেন তিনি? সাত মাস ধরে ৫০০ মিটার লম্বা একটি গোটানো কাগজ বা স্ক্রোলে তিনি পবিত্র কোরান লিখেছেন। এই বিশ্ব রেকর্ড গড়ার পর বর্তমানে গুরেজের বাসিন্দা মুস্তাফা জামিল তাঁর স্থানীয় ভাষা শিনা-তে কোরান অনুবাদ করছেন এখন। 

মুস্তাফা জামিল এই বিষয়ে জানিয়েছেন তাঁর বহুদিনের স্বপ্ন ছিল যে তিনি তাঁর স্থানীয় ভাষায় কোরান অনুবাদ করবেন। অবশেষে তাঁর সেই স্বপ্ন সত্যি হচ্ছে। উত্তর কাশ্মীরের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম গুরেজের বাসিন্দা তিনি। পেশায় ক্যালিগ্রাফার মুস্তাফা ইবন জামিল দীর্ঘ সাত মাস ধরে ইসলামের পবিত্র বই কোরানকে একটি ৫০০ মিটার স্ক্রল কাগজে লিখে নিজের নাম তুলে ফেললেন লিংকন বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে। 

লিংকন বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের তরফে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে যে একটি নতুন বিশ্ব রেকর্ড তৈরি হল, বিশ্বে কেউ প্রথম বার কোরানকে মাত্র ১৪.৫ ইঞ্চি চওড়া এবং ৫০০ মিটার লম্বা স্ক্রোল পেপারে লিখলেন। 

জামিল তাঁর হাতের লেখাকে আরও ভালো করার জন্য ক্যালিগ্রাফি বেছে নিয়েছিলেন। ২০১৭ সাল থেকেই তিনি কোরানের বিভিন্ন লাইন ক্যালিগ্রাফি করে লিখতে শুরু করেন। তারপর তিনি ঠিক করেন গোটা বইটিকেই তিনি ক্যালিগ্রাফি করে লিখবেন। তিনি প্রথমবার ২০১৮ সালে ১১ মাস ধরে কোরান লিখেছিলেন। তার ওজন হয়েছিল ২১ কেজি। তারপর ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি এই ৫০০ মিটার স্ক্রলে ক্যালিগ্রাফির কাজ শুরু করলেন। আর মাত্র সাত মাসেই তা শেষ করে ফেলেন। এই বিষয়ে জামিল জানিয়েছেন ২০১৬ থেকেই তাঁর হাতের লেখা ভালো করার চেষ্টা শুরু করেন। তখনই তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি ক্যালিগ্রাফি করতে পারেন। সেই শুরু। প্রথমে ২০১৮তে লেখেন তারপর আবার ২০২১ সালে। তিনি আল্লাহকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাঁকে কোরান লেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। তিনি তাঁর এই লেখাকে বিভিন্ন রেকর্ড তৈরি করে এমন প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে ছিলেন। তার মধ্যে থেকে লিংকন বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড থেকে স্বীকৃতি পেলেন। তিনি জানিয়েছেন তাঁর বাজেট অত্যন্ত সীমিত ছিল, এর থেকে বেশি কিছু করা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। 

এই প্রোজেক্টের জন্য জামিলকে দিল্লি আসতে হয়েছিল যেহেতু কাশ্মীরের ওই প্রত্যন্ত এলাকায় কাগজ পাওয়া যায় না। অন্যদিকে এই কাজের কাঁচা মালকে দিল্লি থেকে বয়ে শ্রীনগরও নিয়ে যেতে পারেননি তার ওজনের জন্য। তাই দিল্লিতে থেকেই তিনি গোটা কাজটি করেছেন। ২ মাস ধরে তিনি যাবতীয় জিনিস পত্র জোগাড় করেছেন। তারপর প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা করে কাজ করে মাত্র ৭ মাসেই এই প্রজেক্ট শেষ করেছেন। তিনি এই কাজটিতে ১৩৫ জিএসএম কাগজ ব্যবহার করেছেন। এই গোটা প্রজেক্টটিতে তাঁর খরচ হয়েছে মোট ২.৫ লাখ টাকা। একমাস সময় লেগেছে এই স্ক্রলটিকে বাঁধাতে। তিনি এশিয়ান বুক অফ রেকর্ড, ইন্ডিয়ান বুক অফ রেকর্ড, এবং ইন্টারন্যাশনাল বুক অফ রেকর্ডেও নিজের নাম নথিভুক্ত করিয়েছেন। আপাতত সেগুলোর এখন ডকুমেন্টেশন চলছে।

বন্ধ করুন