বাংলা নিউজ > টুকিটাকি > Diabetes sugar level- ডায়াবিটিসে চোখ-কিডনির ক্ষতি এড়াতে রক্তে চিনির পরিমাণ কত হওয়া উচিৎ?
ছবি: মিন্ট (Mint)

Diabetes sugar level- ডায়াবিটিসে চোখ-কিডনির ক্ষতি এড়াতে রক্তে চিনির পরিমাণ কত হওয়া উচিৎ?

Blood Sugar: গবেষণায় দীর্ঘমেয়াদী শর্করার মাত্রা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ধারণা থাকলেই কোনও ব্যক্তির রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে আরও নির্ভুল হওয়া যাবে।

ডায়াবিটিস সম্পর্কিত স্বাস্থ্য জটিলতা এড়াতে হলে, রক্তে ন্যূনতম শর্করার মাত্র কত হওয়া উচিত্? সম্প্রতি এক গবেষণায় মিলেছে উত্তর। আমরা জানি, রক্তে দীর্ঘমেয়াদী শর্করার মাত্রা HbA1c নামে পরিচিত। এটি পরিমাপের মাধ্যমে টাইপ 1 ডায়াবিটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির চোখ এবং কিডনির সমস্যার ঝুঁকির পূর্বাভাস মেলে। নতুন গবেষণা অনুযায়ী এই মাত্রা 53 mmol/mol (7%)-এর কম হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, এই গবেষণায় টাইপ 1 ডায়াবিটিস ধরা পড়ার পরে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রোগীদের সমীক্ষা করা হয়েছিল। গবেষণার ফলাফল ডায়াবিটিস কেয়ার জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। আরও পড়ুন: ডায়াবিটিস হলে কি ডিম খাওয়া উচিত? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখলে ডায়াবিটিসের ঝুঁকি কমে:

গবেষণায় বলা হয়েছে যে ডায়াবিটিস রোগীদের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষুদ্র রক্তনালীর ক্ষতি হতে পারে। রক্তে শর্করার মাত্রা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে তা শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তবে, চোখ এবং কিডনির রক্তনালীর গুরুতর ক্ষতি এড়াতে টাইপ 1 ডায়াবিটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদী সুগার, HbA1c ঠিক কী মাত্রায় থাকা উচিত, সেই সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা ছিল না।

লিংকোপিং ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং এই গবেষণার প্রধান হ্যান্স আর্নকভিস্ট বলেন, আমাদের গবেষণায় দীর্ঘমেয়াদী শর্করার মাত্রা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ধারণা থাকলেই কোনও ব্যক্তির রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে আরও নির্ভুল হওয়া যাবে। আরও পড়ুন: ডায়াবিটিস ছিল রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালার? ঠিক কী কারণে ৬২ বছরেই মৃত্যু ‘বিগ বুলের’?

VISS (ভাস্কুলার ডায়াবেটিক কম্লিকেশনস ইন সাউদ-ইস্ট সুইডেন) শীর্ষক এই গবেষণায়, ৩৫ বছরের কম বয়সী শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের পর্যবেক্ষণ করা হয়। ১৯৮৩-১৯৮৭ সালের মধ্যে এঁরা প্রত্যেকেই টাইপ ওয়ান ডায়াবিটিস আক্রান্ত হন। দক্ষিণ-পূর্ব সুইডেনের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিত্সকের পরামর্শ নিয়েছিলেন।

এই অঞ্চলের মোট ৪৪৭ ব্যক্তিকে গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। গবেষকরা রোগীদের HbA1c মান পর্যবেক্ষণ করে দেখেন। এটি একটি দীর্ঘ মেয়াদে তাঁদের রক্তে গড় শর্করার মাত্রার প্রতিফলন। এএনআই রিপোর্ট অনুসারে, তাঁরা রোগ নির্ণয়ের পর ৩২-৩৬ বছরের মধ্যে এই রোগীদের চোখের এবং কিডনির ক্ষতির মাত্রাও পর্যবেক্ষণ করেছেন।

টাইপ 1 ডায়াবিটিসে চোখের ছোট রক্তনালীগুলির ক্ষতির ঝুঁকি অনেকটাই বেশি। প্রায় সব রোগীরই চোখে অল্প মাত্রায় রক্তক্ষরণ হয়। যদিও এটি তাঁদের দৃষ্টিশক্তিকে প্রভাবিত করে না। কিছু ক্ষেত্রে, রেটিনায় নতুন রক্তনালী তৈরি হয়। এটি 'প্রলিফারেটিভ রেটিনোপ্যাথি' নামে পরিচিত। এর ফলে অন্ধত্ব হতে পারে। ডায়াবিটিসের ফলে রেটিনার 'ম্যাকুলা' ক্ষতিও দেখা যায়। চোখের এই অংশেই উচ্চ-ফোকাসের দৃষ্টি নিয়ন্ত্রিত হয়। এখানে ক্ষতির ফলে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়।

অন্যদিকে, কিডনির ক্ষেত্রে চোখের তুলনায় ঝুঁকি কম। গুরুত্বপূর্ণ ছোট রক্তনালীগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর সেটা হলে প্রস্রাবে রক্তের প্রোটিন নিঃসরণ হতে পারেএকজন সুস্থ ব্যক্তির রক্তে শর্করার মাত্রা খুব নিবিড়ভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকে। সর্বোচ্চ HbA1c মাত্রা 42 mmol/mol (6.0%) হয়। গবেষণার ফলাফলগুলি অনুযায়ী টাইপ 1 ডায়াবিটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কমপক্ষে ৩২ বছর ধরে গড় দীর্ঘমেয়াদী শর্করার মাত্রা 53 mmol/mol (7.0%)-এর নিচে রাখা উচিত। 

এটি করে সম্পূর্ণরূপে গুরুতর ক্ষতি এড়ানো যেতে পারে। চোখের ক্ষতির ঝুঁকি এবং কিডনির জটিলতা এই HbA1c-র মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে। কিন্তু যদি একজন রোগীর রক্তে শর্করার কম মাত্রা থাকে, হাইপোগ্লাইসেমিয়ার সমস্যা থাকে, সেক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা এত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এমনটাই জানালেন গবেষক হ্যান্স আর্নকভিস্ট।

বন্ধ করুন