বাংলা নিউজ > টুকিটাকি > Diet Tips: রাতে খুব জাঙ্কফুড খেতে ইচ্ছা করছে? আসল কারণ জানলে চমকে যাবেন!
রাত বাড়লেই খিদে বাড়ছে? এর পেছনে কারণ ব্যাখ্যা করলেন বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ। ফাইল ছবি: পিক্সাবে (Pixabay)

Diet Tips: রাতে খুব জাঙ্কফুড খেতে ইচ্ছা করছে? আসল কারণ জানলে চমকে যাবেন!

How to Avoid Cravings: ক্র্যাশ ডায়েট, একেবারে কম খাওয়া, অনিয়মিত এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসই কিন্তু এই জাঙ্কফুডের খিদের সূত্রপাত। ইংরাজিতে যাকে বলে 'ক্রেভিংস'। এই ক্রেভিংস বিষয়টি এমনিতে খারাপ নয়।

Midnight Cravings: হঠাত্ খুব নুডলস খেতে ইচ্ছা করছে। এদিকে ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টা। কোরিয়ান ওয়েব সিরিজ দেখতে দেখতে মনে হল একটু নুডল বানিয়ে খেলে মন্দ হয় না। যেমন ভাবা তেমন কাজ। বানিয়ে খেয়েও নিলেন। আবার মনে পড়ল, ফ্রিজে আইসক্রিম আছে না? বের করে একটি বাটার স্কচ কাপ আইসক্রিম খেয়ে নিলেন। খাওয়ার সময়ে তো মজা হল। কিন্তু এরপর? মন খারাপ। খেয়ে তো নিলাম, কিন্তু অনেক ক্যালোরি তো! ওজন বেড়ে যাবে। সারাদিন না খেয়ে ক্র্যাশ ডায়েট করাই মাটি। পড়ুন- রোজকার রান্নাতেই আনুন ছোট ছোট বদল, মেদ কমবে নিজের থেকেই   

 

আর এখানেই সমস্যা। এই ক্র্যাশ ডায়েট, একেবারে কম খাওয়া, অনিয়মিত এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসই কিন্তু এই জাঙ্কফুডের খিদের সূত্রপাত। ইংরাজিতে যাকে বলে 'ক্রেভিংস'। এই ক্রেভিংস বিষয়টি এমনিতে খারাপ নয়। অনেক সময়ে শরীরের পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে এটি সাহায্য করে। কিন্তু অনিয়মিত ঘুম, মানসিক চাপ ও খারাপ খাদ্যাভ্যাসও এর জন্য দায়ী হতে পারে। তবে এই অতিরিক্ত খাওয়ার ফলেই বাড়তে পারে মেদ। এমনই ব্যাখ্যা করলেন ক্লিনিকাল পুষ্টিবিদ অবন্তী দেশপাণ্ডে। হিন্দুস্তান টাইমসের সঙ্গে আলোচনায় এই বিষয়ে জানালেন তিনি। পড়ুন- পুজোর আগে ভুঁড়ি কমাবেন? এই পাঁচটি টিপস মেনে চলুন

 

‘ক্রেভিংস’ কমানোর ৬টি অব্যর্থ উপায়-

1

ক্র্যাশ ডায়েট করবেন না: সারাদিন খুব কম ক্যালোরি গ্রহণ করলে ক্রেভিংস হওয়াটাই স্বাভাবিক। শরীর এবং বিশেষ করে মস্তিষ্ক সুষম খাদ্য ছাড়া কাজ করতে পারে না। ফলে খাওয়াদাওয়া ছাড়ার বদলে, খাবারের গ্রুপ পরিবর্তন করার চেষ্টা করুন। ডায়েটে ফাইবার এবং প্রোটিন বেশি রাখুন। কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট বেশি রাখুন। পাতে প্রচুর শাক-সবজি রাখুন। এর ফলে পেট ভরাট থাকবে। এরকম ক্রেভিংসও কম হবে।

2

সমস্ত সরল শর্করা বাদ দিন: সরল শর্করা কী? চিনি, জুস, সাদা ভাত, ময়দাকে অতিরিক্ত পরিশুদ্ধ কার্বোহাইড্রেট বলা হয়। এগুলি রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বৃদ্ধি করায়। আর তার ফলে আমাদের আরও মিষ্টি কিছু খাওয়ার ইচ্ছা হয়। তাই কার্বোহাইড্রেটের ক্ষেত্রে আটা, মধু, খোসসহ ছাতু, ঢেঁকি ছাঁটা চাল খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে পরে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছাটা কম হবে।

3

হজমশক্তিতে নজর দিন: গবেষণা বলছে, অন্ত্রের স্বাস্থ্য খারাপ হলে সেটায় চিনি, মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা বেড়ে যায়। খাদ্যতালিকায় প্রোবায়োটিক, অর্থাত্ উপকারি ব্যাকটেরিয়া রাখুন। টক দই খেলে উপকার পাবেন। তাছাড়া নিয়মিত ফল, শাকসবজি খান।

4

অতিরিক্ত ফল খাওয়া এড়িয়ে চলুন: ফল খাওয়া উপকারি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে যথেচ্ছ ফল খেয়ে নেবেন। স্ন্যাকস হিসাবে নির্দিষ্ট পরিমাণে ফল খাওয়া যেতে পারে। কিন্তু ফল কেন মেপে খেতে বলা হচ্ছে? এর কারণ হল, ফলের মধ্যে ফ্রুক্টোজ থাকে। এটি চিনি এবং সুক্রোজের মতোই ক্ষতি করে। ফাইবার সমৃদ্ধ ফল খান। দিনে এক বা দু'টি ফল খান।

5

পুষ্টির ঘাটতির লক্ষণ: হঠাত্ হঠাত্ খিদে পাওয়ার মানে এই যে, পুষ্টির ঘাটতি থাকতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, চকোলেট খেতে ইচ্ছা হচ্ছে মানে, শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা কম হতে পারে। হঠাত্ খুব চিকেন, ডিম খাওয়ার ইচ্ছা হচ্ছে? সেটা শরীরে আয়রনের ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে।

6

ঘুমে নজর দিন: অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সবচেয়ে বড় কারণ হল ঘুমের অভাব। মাঝরাত পর্যন্ত জেগে থাকার ফলেও উল্টোপাল্টা খাওয়ার লোভ বাড়তে পারে। রাতে ঘুম কম হলে তখন ক্রেভিংস বৃদ্ধি পায়। তাই রুটিন মেনে অন্তত ৮ ঘণ্টা ঘুমনোর চেষ্টা করুন।

বন্ধ করুন