বাংলা নিউজ > টুকিটাকি > Coal Miners' Day: আজও পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক পেশার একটি এটি, কেন পালন করা হয় কয়লাখনি শ্রমিক দিবস
কয়লাখনি শ্রমিকদের প্রতি পদেই বিপদের আশঙ্কা থাকে। 
কয়লাখনি শ্রমিকদের প্রতি পদেই বিপদের আশঙ্কা থাকে। 

Coal Miners' Day: আজও পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক পেশার একটি এটি, কেন পালন করা হয় কয়লাখনি শ্রমিক দিবস

  • ৪ মে পালন করা হয় কয়লাখনি শ্রমিক দিবস। আমাদের প্রত্যেকের জীবনে এই শ্রমিকদের বড় ভূমিকা আছে। কিন্তু তাঁরা কতটা নিরাপদ?

রণবীর ভট্টাচার্য

বেশি দিন আগের কথা নয়। গত সপ্তাহেই ভারতের সব সংবাদমাধ্যম কমে বেশি লিখেছিল যে কয়লা নিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার ফলে অচিরেই দেশে বিদ্যুতের ক্ষেত্রে সংকট হতে পারে। এমনকী পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রচুর ট্রেন বাতিল করে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত কয়লা পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোথাও কি কয়লাখনিতে কাজ করা মানুষদের কথা বলা হয়েছিল? মে দিবসের স্মৃতিও বেশ টাটকা, কিন্তু অধিকারের কথা হলে সবাই যেন অবলীলায় ভুলে যান কয়লাখনির অন্ধকার পৃথিবীতে বিপদের মধ্যে কাজ করে চলা শ্রমিকদের কথা। ৪ মে বুধবার এই মানুষদের লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়ে, যাঁরা দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন, তাঁদের সম্মান জানিয়ে Coal Miners' Day উদ্‌যাপিত হয়।

ভারতে কয়লা উত্তোলনের ইতিহাস নেহাৎ নতুন নয়।

১৭৭৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের দামোদরের তীরে রানীগঞ্জ কয়লাখনিতে কয়লা উত্তোলন শুরু করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে কাজ করা সামনার এবং উইটলি। যদিও বর্তমানে সৌরশক্তি বা অন্যান্য শক্তি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, এখনও কিন্তু ভারতের বিদ্যুৎশক্তি কয়লার উপরেই বেশি নির্ভরশীল, হিসাব মতো ৪০ শতাংশ বলা যেতে পারে। চিনের পরে ভারত সবচেয়ে বেশি কয়লা উত্তোলন করে। ২০১৮ সালে ভারত ৭১৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা উত্তোলন করে। যেহেতু ভারতে কয়লার গুণগত মান ভালো নয় এবং চাহিদা প্রচুর, ভারতকে বাইরের থেকে কয়লা আমদানি করতে হয়।

ভারতে কয়লাখনিতে দুর্ঘটনা কমেছে আগের থেকে। কিন্তু এখনও কয়লাখনিতে কাজ ঝুঁকিপ্রবণ বা বিপজ্জনক কাজের মধ্যে একটি। ২০২০ সালে প্রতি ১২ দিনে একজন কয়লাখনির শ্রমিক মারা গিয়েছেন ভারতে। ভারতের কয়লাখনিতে প্রায় ১.২ মিলিয়ন মানুষ কাজে যুক্ত। যদি পুরো সিস্টেম ধরা হয়, দেখা যাবে যে প্রায় ২০ মিলিয়ন মানুষের জীবন যুক্ত কয়লাখনির সঙ্গে। তবে শুধু যে ভারতের কয়লা খনিতেই দুর্ঘটনা হয় বা মৃত্যু হয়, এমনটাও নয়। গত বছর আমেরিকাতেই ৩৭ জন কয়লাখনির শ্রমিক মারা গিয়েছেন বিভিন্ন কারণে।

দেখা গিয়েছে, কয়লাখনিতে বিভিন্ন কারণে শ্রমিকের মৃত্যু হতে পারে। বিষাক্ত গ্যাস, ধস বা চাপা পড়ে মারা যাওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটতেই থাকে। এছাড়া দীর্ঘদিন কয়লাখনিতে কাজ করলে শরীরের উপর নেতিবাচক প্রভাব তো আছেই। একটি বিশেষ সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে কয়লা খনির আশপাশের গ্রামের প্রায় ৯০ শতাংশ বাড়িতে শারীরিক অসুস্থতার খবর পাওয়া গিয়েছে। কয়লার ছাই থেকেও অসুস্থতাও অস্বাভাবিক নয়। এছাড়া নিকটবর্তী কয়লা চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলির পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে দেখা গিয়েছে অ্যাজমা, ক্যানসার, হার্ট এবং ফুসফুসের সমস্যা, নিউরোলজিক্যাল সমস্যা অনেক বেশি ধরা পড়ছে। এছাড়া অ্যাসিড বৃষ্টি, বিশ্ব উষ্ণায়নের মতো সমস্যা তো আছেই।

আগামী দিনে ভারত তথা বাকি বিশ্ব কতটা বিকল্প শক্তি নিয়ে আন্তরিক ভাবে ভাবছে তার উপর অনেকখানি নির্ভর করছে কয়লাখনিতে কাজ করা মানুষগুলোর ভবিষ্যৎ। অনেক কয়লাখানি আইনগত ভাবে ব্যান করা হলেও চুপিসাড়ে কাজ করে নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতেই হবে শ্রমিকদের স্বার্থে। শুধু তাই নয়, শ্রমিকদের স্বাস্থ্যকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিয়ে এগোতে হবে। নইলে এই শ্রমিকদের জীবনে দুর্ভাগ্য কোনও দিন লাঘব হবে না।

বন্ধ করুন