বাংলা নিউজ > টুকিটাকি > কেন বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস পালন করা হয়? আজও এই দিনটি এত প্রাসঙ্গিক কেন
কেন পালন করা হয় ম্যালেরিয়া দিবস?
কেন পালন করা হয় ম্যালেরিয়া দিবস?

কেন বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস পালন করা হয়? আজও এই দিনটি এত প্রাসঙ্গিক কেন

  • ম্যালেরিয়া সম্পর্কে এখনও সচেতন নন বহু মানুষ। আর সেই কারণেই এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি অসুখটি। 

রণবীর ভট্টাচার্য

সোমবার বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস। ম্যালেরিয়া মশাবাহিত এমন একটি রোগ যা এড়ানো যায় এবং অবশ্যই যার চিকিৎসা রয়েছে। ২০২০ সালে, বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৪১ মিলিয়ন ম্যালেরিয়ার কেসের কথা জানা গিয়েছে এবং ৮৫টি দেশে সব মিলিয়ে ৬, ২৭,০০০ মানুষ ম্যালেরিয়ায় মারা গিয়েছেন। এর মধ্যে তিন ভাগের দু’ভাগই হল আফ্রিকার পাঁচ বছরের কম বয়সের শিশুরা। এই কারণে এই রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা  প্রয়োজন।

মানুষের স্বাস্থ্য এবং জীবনধারণ, উভয়ের উপরেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে ম্যালেরিয়া। ২০০৭ সাল থেকেই এই বিশেষ দিনের ভাবনা মানুষের মধ্যে সচেতনতা আনার জন্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য অ্যাসেম্বলির ৬০তম সেশনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আফ্রিকা ম্যালেরিয়া দিবসের জায়গায় বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস পালন করা হবে।

এই বছর বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবসের থিম হল এই রোগের বোঝা কমানোর জন্য আর বেশি উদ্ভাবন আনা, যার ফলে মৃত্যুহার কমানো যায়। বলাই বাহুল্য, শুরু থেকেই, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তথা WHO আরA বেশি লগ্নি ও উদ্ভাবনের কথা বলেছে যাতে ভেক্টর কন্ট্রোল, অনুসন্ধান, ম্যালেরিয়ার ওষুধ এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আরও এগোনো যেতে পারে বৃহত্তর স্বার্থে।

গত দুই বছর কোভিড অতিমারির মধ্যে ম্যালেরিয়া কমে গিয়েছিল এমন নয়। বরং বাস্তবের কথা মাথায় রাখলে, পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থা বেআব্রু হয়ে গিয়েছিল অতিমারির কারণে। তাই ম্যালেরিয়া আক্রান্তরা অনেক ক্ষেত্রেই দরকারি চিকিৎসা পায়নি। এছাড়া অনেকের ক্ষেত্রেই ম্যালেরিয়ার সঙ্গে অন্য রোগ এসে পরিস্থিতি জটিল করে দিয়েছে এবং প্রাণহানিও হয়েছে।

ইতিমধ্যেই বেশ কিছু দেশ ম্যালেরিয়া মুক্ত হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। কিন্তু তবুও আফ্রিকা মহাদেশের অনেক দেশের মতো বেশ কিছু দেশে এখনও ম্যালেরিয়া প্রচুর মানুষের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা তথা WHO জানায় যে আরটিএস, এস ম্যালেরিয়া টিকা দেওয়া যেতে পারে শিশুদের সেই সমস্ত এলাকায় যেখানে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ রয়েছে। এর আগে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ঘানা, কেনিয়া এবং মালওয়াইয়ের ৯ লক্ষ শিশুকে এই টিকা দেওয়া হয়েছিল এবং দেখা গিয়েছে যে টিকাটি নিরাপদ, সহজেই দেওয়া যায় এবং কার্যকরী। বলাই বাহুল্য, এই টিকার প্রয়োজনমতো ব্যবহার বিশ্বব্যাপী ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা কমানোর ক্ষেত্রে কার্যকরী হবে।

ভারতের মতো দেশের ক্ষেত্রে ম্যালেরিয়া বেশ চিন্তার বটে। পড়শি দেশ চীন, শ্রীলঙ্কা যদি সম্পূর্ণ ভাবে ম্যালেরিয়া মুক্ত হতে পারে তাহলে ভারত পারছেন না কেন? আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে দেখা গিয়েছে নাইজেরিয়া, কঙ্গো, তানজানিয়া এবং মোজামবিকে সারা পৃথিবীর ম্যালেরিয়াতে মৃত্যুর অর্ধেক ঘটে থাকে। আশা করা যায়, প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত সঠিক ভাবে নেওয়ার ফলে অচিরেই ভারত ম্যালেরিয়া মুক্ত হতে পারবে।

বন্ধ করুন