বাংলা নিউজ > টুকিটাকি > রাস্তায় জলের বোতল ভরা ফ্রিজ, এই গরমে মানবিকতার অবাক জলপান দেখাচ্ছে কলকাতা
কাজের ফাঁকে ঠান্ডা জলে গলা ভেজানো। প্রযত্নে তৌসিফ এবং মুদর। 
কাজের ফাঁকে ঠান্ডা জলে গলা ভেজানো। প্রযত্নে তৌসিফ এবং মুদর। 

রাস্তায় জলের বোতল ভরা ফ্রিজ, এই গরমে মানবিকতার অবাক জলপান দেখাচ্ছে কলকাতা

  • দাবদাহে শহরবাসীর তেষ্টা মেটাতে উদ্যোগ দুই নাগরিকের। বাড়ির বাইরে রেখে দিলেন ফ্রিজ। যাঁর যখন ইচ্ছে, খেয়ে যেতে পারেন ঠান্ডা জল। তাও একেবারে বিনামূল্যেই।

রণবীর ভট্টাচার্য

কলকাতা বৃষ্টির মুখ দেখেনি প্রায় ৫৮ দিন, মানে টেনে টুনে প্রায় দুই মাস হতে চলল। প্রচণ্ড দাবদাহ আর অকল্পনীয় গরমের সঙ্গে দরদর ঘাম, কলকাতার গরম নাস্তানাবুদ করে দিচ্ছে সকলকে। জেলার অবস্থাও ভালো নয়, রাজস্থানকেও সেয়ানে সেয়ানে পাল্লা দিচ্ছে এই রাজ্য। সরকার স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটির সকলের জন্য ছুটির ফরমান দিয়েছে। কিন্তু বেসরকারি বা দিন আনি দিন খাই মানুষদের সেই সুযোগ নেই। ছাতা বা টুপি মাথায় সকাল হতেই বেরিয়ে পড়ছেন অনেকে। এর মধ্যে অন্য রকম ভেবেছেন কলকাতার তরুণ তুর্কি মোহাম্মদ তৌসিফ রহমান আর মুদর পাথারেয়া।

কী করছেন তাঁরা?

আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। বাম জমানায় যেখান থেকে বাঘে গরুতে একই ঘাটে জল খাওয়ায় নিদান দেওয়া হয়েছে বারবার, সেখান থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে ২৯ বছরের তৌসিফ গত ২৮ দিন ধরে নিজের বাড়ির ফ্রিজ বাড়ির বাইরে রেখেছেন। প্রতিদিন ৩০টির বেশি জলের বোতল নিজে রেখে দিচ্ছেন সেখানে। তাকে যোগ্য সঙ্গত দিচ্ছেন মুদর।

তবে এই ভাবনা কিন্তু মুদরের মেয়ের। যিনি ভিন দেশ থেকে জানিয়েছেন তাঁর বাবাকে, কাতারে নাকি এরকম চিন্তা ভাবনা বাস্তবায়িত হয়েছে। মজার ব্যাপার হল, সারা দিন যখন জল শেষ হচ্ছে, তখন সাধারণ মানুষ নিজেরাই গিয়ে জল ভরে দিচ্ছেন। বলাই বাহুল্য যে কোনও পথচারী নিজের পিপাসা মেটানোর তাগিদে এখানে এসে ঠান্ডা পানীয় জল নিতে পারেন এবং তার জন্য অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কেউ আবার ফ্রিজ নিয়ে পালিয়েও যাচ্ছেন না। সব মিলিয়ে অভিনব তো বটেই, বিশেষ করে শহুরে ধান্দাবাজি মানসিকতার কথা ভাবলে।

এই ঠান্ডা জলের জন্য কোনও অর্থ দিতে হচ্ছে না। 
এই ঠান্ডা জলের জন্য কোনও অর্থ দিতে হচ্ছে না। 

বলাই বাহুল্য, এই গরমে ঠান্ডা জলের হাহাকার সর্বত্র। এমনকী জুস থেকে নরম পানীয়, সব জায়গায় বিক্রি বেড়েছে বেশ কিছুটা। সেখান থেকে তরুণ তৌসিফের নতুন কিছু করতে চাওয়ার তাগিদে রয়েছে শহরের প্রতি ভালোবাসা।

ফেসবুকের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যাবে, তৌসিফ চেয়েছেন সিপিএম-এর হেড কোয়ার্টার নয়, অন্য কিছুর জন্য যেন জনপ্রিয় হয় তাঁর মহল্লা। আর হয়েছেও তাই।

এই শহর কমিউনিটি কিচেন দেখল, তার সঙ্গে কমিউনিটি ফ্রিজও এবার!

চেনা অচেনা মানুষের জন্য এর চেয়ে বড় ঈদের উপহার অন্য কিছু কি হতে পারে?

বন্ধ করুন