বাংলা নিউজ > টুকিটাকি > World Asthma Day: একটু টাটকা বাতাসও কি অমিল হতে চলেছে সামনের দিনে শ্বাস প্রশ্বাসের জন্য?
পরিশুদ্ধ বাতাস নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে কেন? 
পরিশুদ্ধ বাতাস নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে কেন? 

World Asthma Day: একটু টাটকা বাতাসও কি অমিল হতে চলেছে সামনের দিনে শ্বাস প্রশ্বাসের জন্য?

  • মঙ্গলবার আলাদা করে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভাবার দিন। কেন জানেন? কেন আজ ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আরও একবার সচেতন হওয়ার দিন?

রণবীর ভট্টাচার্য

আজ বিশ্ব অ্যাজমা দিবস। অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট ফুসফুসের একটি রোগ। এর কিছু পরিচিত উপসর্গ রয়েছে যেমন সর্দি, হাঁচি, বুক ভার লাগা, শ্বাস নিতে সমস্যা হওয়া। অ্যাজমার টান উঠলে, ফুসফুসের দুই দিকের বায়ু চলাচলের পথটি ফুলে ওঠে এবং বায়ু চলাচলের জন্য জায়গা অবরুদ্ধ হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়ায়। এই বিশ্ব অ্যাজমা দিবস উদ্‌যাপনের লক্ষ্য হল মানুষের মধ্যে অ্যাজমা সম্পর্কিত সচেতনতা গড়ে তোলা।

সারা পৃথিবীতে সব মিলিয়ে ৩০০ মিলিয়ন মানুষ অ্যাজমায় আক্রান্ত। ১৪ শতাংশের কাছাকাছি শিশু আজ অ্যাজমায় আক্রান্ত। এই সংখ্যাটি দিনকে দিন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৬ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তথা WHO জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তালিকভুক্ত করেছে অ্যাজমাকে।

বলাই বাহুল্য, একবার অ্যাজমা ধরা পড়লে, এর থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া যাবে না। তবে অবশ্যই সীমার মধ্যে রাখা সম্ভব। দীর্ঘদিন অ্যাজমা থাকলে ফুসফুসের স্থায়ী ক্ষতি হওয়া সম্ভব। সাধারণত পাঁচ রকমের অ্যাজমা দেখা গিয়েছে মানুষের মধ্যে।

  • অ্যালার্জি অ্যাজমা
  • অ্যালার্জিহীন অ্যাজমা
  • সর্দি নির্ভর অ্যাজমা
  • রাত্রিকালীন অ্যাজমা
  • পেশাগত কারণ নির্ভর অ্যাজমা

অস্ট্রেলিয়া (২১.৫ শতাংশ), সুইডেন (২০.২ শতাংশ), ইংল্যান্ড (১৮.২ শতাংশ), নেদারল্যান্ডস (১৫.৩ শতাংশ), ব্রাজিলে (১৩.২ শতাংশ) দেখা গিয়েছে অ্যাজমার হার বেশি। দেখা গিয়েছে, অ্যাজমা আক্রান্তের ক্ষেত্রে সাধারণ ফ্লু খুব কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে। এর কারণ হল, অ্যাজমা হলে শরীরের ইমিউনিটি ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। ধূমপান, ধুলো বালি, বাড়ির বাইরে বায়ু দূষণ, বিভিন্ন কীটনাশকের মতো জিনিসগুলি থেকে সাবধানে থাকতে হবে কারণ এই প্রত্যেকটি অ্যাজমা বাড়িয়ে তোলে।

অনেকেই জিজ্ঞেস করেন যে অ্যাজমা থাকলে শরীরচর্চা করা চলে কি না। মনে রাখতে হবে যে স্বাস্থ্যের জন্য শরীরচর্চা খুব কার্যকারী। শুধু ফুসফুস নয়, সামগ্রিকভাবে যে কোনও অ্যাজমা আক্রান্তের ক্ষেত্রেই নিয়মিত শরীরচর্চার একাধিক উপকারিতা রয়েছে। নিয়মিত শরীরচর্চায় ফুসফুসে অক্সিজেন নেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। অনেকের মধ্যেই ধারণা রয়েছে, অ্যাজমার ক্ষেত্রে রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণের কোনও তারতম্য হয় কি না। অ্যাজমার টানের সময় কোনও মানুষের রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমতে পারে। রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ দেখা হলে বোঝা যাবে শরীরে ফুসফুস থেকে কোষ পর্যন্ত অক্সিজেন সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে কি না।

সামনের দিনে প্রতিটি দেশকেই অ্যাজমার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গঠনমূলক ভূমিকা নিতে হবে। নইলে, অচিরেই ফুসফুসে ক্যানসারের মতো রোগ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে পারে। এর সঙ্গে বায়ুদূষণ লাগাম দেওয়ার ক্ষেত্রেও সদর্থক ভূমিকা নিতে হবে।

বন্ধ করুন