বাংলা নিউজ > টুকিটাকি > World Athletics Day: অ্যাথলেটিকস নিয়ে কি কেরিয়ার তৈরি করা সম্ভব? কোথায় পিছিয়ে থাকছি আমরা
বিশ্ব অ্যাথলেটিকস দিবস

World Athletics Day: অ্যাথলেটিকস নিয়ে কি কেরিয়ার তৈরি করা সম্ভব? কোথায় পিছিয়ে থাকছি আমরা

  • খেলাধূলার এই ক্ষেত্রটিতে প্রচুর প্রতিভা থাকলেও, তাঁদের মধ্যে কত জন ঠিকঠাক সুযোগ পাচ্ছেন? মহিলাদেরই বা কতটা উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে? অ্যাথলেটিকস নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। 

রণবীর ভট্টাচার্য

শনিবার, ৭ মে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস দিবস। ১৯৯৬ সালের ১৭ জুলাই ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের (আইএএএফ) প্রেসিডেন্ট প্রাইমো নেবিওলো এই দিনটির কথা ঘোষণা করেন। বর্তমানে আইএএএফ ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকস নামেই পরিচিত। এই বিশেষ দিনটি উদ্‌যাপনের লক্ষ্যই হল তরুণ প্রজন্মকে আরও বেশি করে অ্যাথলেটিকসের দিকে আসার অনুপ্রাণিত করা।

সারা পৃথিবীতেই স্পোর্টস এবং গেমস নিয়ে আগ্রহ থাকে সমাজের প্রতিটি কোণে। অ্যাথলেটিকস নিঃসন্দেহে পৃথিবীর সহজতম ক্ষেত্র নয়। কিন্তু লড়াই যত কঠিন, আগ্রহ থাকে সেই রকম। তাই চার বছর পর পর যখন অলিম্পিক্স আয়োজন করা হয়, দেখা যায় অ্যাথলেটিকস নিয়ে আলাদা স্তরের আগ্রহ থাকে সকলের। তবে অন্যান্য খেলার থেকে এর ফারাক স্পষ্ট। এখানে ব্যাক্তিগত নৈপুণ্য সবকিছু, তাই পরিকাঠামোর প্রভাব সবচেয়ে বেশি থাকে। ভারতের মতো দেশে অনেক প্রতিভাবান ছেলেমেয়ে থাকলেও অ্যাথলেটিকসের দিকে এগানোর ক্ষেত্রে দেখা যায় খুব কম ছেলেমেয়েই আগ্রহী। তার অন্যতম একটি কারণ হল কোচিং এর অভাব। আমাদের দেশে এখনও আন্তর্জাতিক মানের পরিকাঠামোর থেকে কোচিং, দুইয়ের অভাব রয়েছে। অতীতে যারা সাফল্য পেয়েছেন, তাদের অনেকেই ব্যাক্তিগত স্তরে আলাদা করে কসরত করেন বিশ্বমানের সুযোগ সুবিধার জন্য। অর্থ অবশ্যই একটি সমস্যা বটে। বেসরকারি সংস্থার এগিয়ে আসার যেই দিক রয়েছে, সেটি এখনও প্রাথমিক স্তর অবধি এসে পৌঁছয়নি।

গত বছর অলিম্পিকে ভারতের নীরজ চোপড়া ইতিহাস তৈরী করেন জ্যাভেলিনে সোনা জিতে। ভুললে চলবে না যে একজন সেনা জওয়ান হিসেবে ভারতীয় সেনার পরিকাঠামো ব্যবহার করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। যদি চিন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়ার মত দেশকে দেখা যায় যারা বছরের পর বছর অ্যথলেটিসে নতুন নতুন রেকর্ড গড়ে তুলেছে, তাদের সবার কিন্তু তৃণমূল স্তর থেকে পরিকাঠামো তৈরি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক পরিকাঠামোসহ যেই সুব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে, সেখানে সাফল্য অনেক সময়েই স্বাভাবিক ভাবে আসে। তবে ভারতের ক্ষেত্রে ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, হকি, কবাডির মতো দেশে যতটা আর্থিক সুযোগ পাওয়া যায়, অ্যাথলেটিকসের ক্ষেত্রে যদি তার ছিটেফোঁটা পাওয়া যায়, তাহলে সাফল্যের রাস্তা খুলে যেতে পারে অচিরেই।

তবে ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠে আসে রোজগার নিয়ে। অ্যথলেটিক্সের মত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের আঙ্গিকে কি পেট ভরানো সম্ভব? এখানে মাথায় রাখতে হবে আফ্রিকা, ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের অনেক গরিব দেশ থেকে কিন্তু অসম্ভব প্রতিভাবান অ্যাথলিট উঠে এসেছেন— উসেইন বোল্ট তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। ভারতের মতো দেশে যদি আদিবাসী সমাজ থেকে প্রতিভা তুলে আনার ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দেওয়া হয়, তাহলে সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়বে। এছাড়া মেয়েদের মধ্যে এর প্রচার করা আরও দরকার। মেয়েদের আরও বেশি করে এর মধ্যে অন্তর্ভুক্তকরণ সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা আনতে পারে। তাই শুধুমাত্র মেডেলকেন্দ্রিক ভাবনা নয়, ছোটবেলা থেকে বড় হওয়ার মধ্যে অ্যাথলেটিকস যদি পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়, তাহলে দেশ হিসেবে ভারতের মস্ত বড় পাওনা হবে।

বন্ধ করুন