বাংলা নিউজ > টুকিটাকি > আজ বিশ্ব হাইপারটেনশান দিবস, করোনা আবহে জেনে নিন হাইপারটেনশানের অ-আ-ক-খ
চলতি বছর এর থিম হল, ‘নিজের রক্তচাপ মাপো, নিয়ন্ত্রণ কর ও দীর্ঘায়ু হও’।
চলতি বছর এর থিম হল, ‘নিজের রক্তচাপ মাপো, নিয়ন্ত্রণ কর ও দীর্ঘায়ু হও’।

আজ বিশ্ব হাইপারটেনশান দিবস, করোনা আবহে জেনে নিন হাইপারটেনশানের অ-আ-ক-খ

ওয়ার্ল্ড হাইপারটেনশান লিগের তরফে এই দিনটি পালন শুরু হয়। প্রতি বছর মে মাসের ১৭ তারিখ এটি পালিত হয়।

উচ্চ রক্তচাপ, হাইপারটেনশান ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই কমায় না, পাশাপাশি নানান রোগ, বিশেষত হৃদরোগের সম্ভাবনাও বাড়িয়ে দেয়। ধীরে ধীরে ব্যক্তির শরীরকে ভিতর থেকে দুর্বল করে দেয়, তাই ‘সাইলেন্ট কিলার’ নামেও পরিচিত এই শারীরিক সমস্যা। এ সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মানুষকে বোঝানো হচ্ছে যে, এটি রোধ ও নিয়ন্ত্রণ— দুই-ই করা যায়। মে মাসে পালিত হয় বিশ্ব হাইপারটেনশান দিবস। অধিক অবসাদ, ওবেসিটি, নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন, ভুল খাদ্যাভাস অল্পবয়সিদের মধ্যে এই রোগ দানা বাঁধার অন্যতম কারণ। 

দীর্ঘদিন ধরে হাইপারটেনশানে আক্রান্ত থাকলে করোনারি আর্টারি ডিসিস, স্ট্রোক, হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে যাওয়া, আট্রিয়াল ফাব্রিলেশন, দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে যাওয়া, কিডনির রোগ, এমনকি ডিমেনশিয়া পর্যন্ত হতে পারে। 

তারিখ

ওয়ার্ল্ড হাইপারটেনশান লিগের তরফে এই দিনটি পালন শুরু হয়। প্রতি বছর মে মাসের ১৭ তারিখ এটি পালিত হয়।

ইতিহাস ও তাৎপর্য

২০০৫ সালের ১৪ মে এই দিবসটিকে সর্বসমক্ষে আনা হয়। ২০০৬ সাল থেকে মে মাসের ১৭ তারিখে এটি পালিত হতে শুরু করে। ২০০৫ সালে এর উদ্ধোধনী থিম ছিল, ‘উচ্চরক্তচাপের প্রতি সচেতনতা’। ২০০৬ সালে এর থিম ছিল ‘ট্রিট টু গোল’। এই দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর পৃথক পৃথক থিম নির্ধারিত হয়। হাইপারটেনশান সম্পর্কে শুধু সচেতনতা প্রসারই নয় বরং এই সমস্যা রোধের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। দেখা গিয়েছে, বিশ্বের ৩০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এর দ্বারা প্রভাবিত।

থিম

২০১৩-২০১৮ পর্যন্ত এই ৫ বছর বিশ্ব হাইপারটেনশান দিবসের থিম ছিল ‘নিজের সংখ্যা জানুন’। চলতি বছর এর থিম হল, ‘নিজের রক্তচাপ মাপো, নিয়ন্ত্রণ কর ও দীর্ঘায়ু হও’। মাঝারি আয় যুক্ত এলাকায় সচেতনতা প্রসার এ বারের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি রক্তচাপ পরিমাপের সঠিক পদ্ধতি জানানোর ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

করোনাকালে এর গুরুত্ব কতটা

মুম্বইয়ের অ্যাসিয়ান হার্ট ইনস্টিটিউটের সিনিওর কার্ডিওলজিস্ট ড: সন্তোষ কুমার ডোরার মতে, যাঁদের উচ্চরক্তচাপ, ডায়েবিটিস বা হৃদরোগ রয়েছে, তাঁরা করোনা আক্রান্ত হলে, তাঁদের মধ্যে কোভিডের গুরুতর লক্ষণ ও জটিলতা দেখা যাচ্ছে। ‘এই অতিমারীর কারণে সমস্ত বয়সের ব্যক্তিদের মধ্যে হাইপারটেনশনের প্রসার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অবসাদের স্তর বৃদ্ধি, আউটডোর এক্সারসাইজের অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাওয়া-দাওয়ার কারণে এই সমস্যা বৃদ্ধ পাচ্ছে।’, জানান চিকিৎসক ডোরা। করোনা সংক্রমণের যুগে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট অন্তরালের মধ্যে রক্তচাপ পরিমাপ করা উচিত। এর সংখ্যায় বৃদ্ধি দেখলে চিকিৎসা করাতে হবে এবং স্বাভাবিক স্তর বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে।’

প্রতিরোধ

ড: সন্তোষ ডোরার পরামর্শ অনুযায়ী প্রিহাইপারটেনশান ম্যানেজ করাই আসল। তাঁর মতে, ‘প্রিহাইপারটেনশান এমন একটি স্টেজ, যখন সিস্টোলিক ব্লাড প্রেশার থাকে ১২০ থেকে ১৩৯ এমএম এইচজি-র মধ্যে এবং ডায়াস্টোলিক ব্লাড প্রেশার থাকে ৮০-৮৯-এর মধ্যে। সিস্টোলিক ব্লাড প্রেশার ১৪০ এবং ডায়াস্টোলিক ব্লাড প্রেশার ৯০-এর ওপরে গেলে তা হাইপারটেনশান হিসেবে গণ্য হয়। প্রিহাইপারটেনশান স্টেজেই ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন।’

হাইপারটেনশান নিয়ন্ত্রণের কিছু পরামর্শও দিয়েছেন তিনি--

এক্সারসাইজ- সমীক্ষায় প্রমাণিত যে, সক্রিয় জীবনযাপন সিস্টোলিক ব্লাডপ্রেশার ৪-৯ এমএম এইচজি পর্যন্ত কমাতে পারে। এক্সারসাইজের ফলে সুস্থ ওজন ধরে রাখা যায়। তাই নিয়মিত এক্সারসাইজ করা উচিত। এ ক্ষেত্রে অ্যারোবিকস, ফ্লেক্সিবিটি, স্ট্রেন্থ ট্রেনিং এক্সারসাইজ সাহায্য করতে পারে। করোনা বিধিনিষেধের কারণে বাইরে গিয়ে এক্সারসাইজ করা সম্ভব না-হলেও, বাড়ির মধ্যেই যোগাসন, হাঁটাচলা, জুম্বা ডান্স করা উচিত। প্রতিদিন ৩০-৪৫ মিনিট ব্যায়াম করলে সুফল পেতে পারেন।

DASH ডায়েট- পুষ্টিকর খাবার-দাবার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এর ফলে হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং অন্যান্য রোগের সম্ভাবনাও কম হয়। DASH অর্থাৎ ডায়েটারি অ্যাপ্রোচ টু স্টপ হাইপারটেনশান প্যাটার্নের খাবার-দাবার হাইপারটেনশান নিয়ন্ত্রণ করার কার্যকরী উপায়। এই ডায়েটে গোটা শস্য, সিরিয়াল, ফল, সবজি, লেগাম ও ড্রাইফ্রুট থাকে। আবার লো ফ্যাট ডায়েটারি প্রোডাক্ট, যেমন লিন মিট, মাছ ও অল্প নুনও এতে সামিল। এক টেবিল চামচ (৫ গ্রাম)-এর চেয়ে বেশি নুন গ্রহণ করা উচিত নয়। আবার স্যাচুরেটেড ট্রান্স ফ্যাট এবং অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ করা উচিত নয়।

ওষুধ বন্ধ করবেন না- হাইপারটেনশান ধরা পড়ার পর খাবার দাবার ও ব্যায়ামের পাশাপাশি ওষুধ খাওয়াও অপরিহার্য হয়ে পড়ে। একবার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এলেই অনেকে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন। এর ফলে এর স্তর আগের মতোই হয়ে যায়। এমনকি অত্যধিক পরিমাণে বেড়ে গিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়।

ধূমপান বন্ধ করুন- ধূমপানের কারণে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়, এমন কোনও তথ্য সম্পূর্ণ ভাবে প্রমাণিত না-হলেও, ধূমপানের পর সাময়িক সময়ের জন্য রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। তাই সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর জন্য সমস্ত ধরণের তামাক এবং সেকেন্ড হ্যান্ড স্মোকিং কমিয়ে দেওয়া উচিত।

মদ্যপান করবেন না- অধিক পরিমাণে মদ্যপানের কারণে রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে পারে। একবারে ৩ গ্লাসের চেয়ে বেশি মদ্যপান করলে সাময়িক সময়ের জন্য রক্তচাপ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। বার বার মদ্যপান করলে দীর্ঘদিনের জন্য রক্তচাপ বাড়তে পারে। উচ্চরক্তচাপ থাকলে মদ্যপান ত্যাগ করাই শ্রেয়। 

বন্ধ করুন