বাংলা নিউজ > টুকিটাকি > World Password Day: আপনার পাসওয়ার্ড আপনি ছাড়া সত্যিই কি আর কেউ জানেন না? কবে এ আতঙ্ক শেষ হবে
কেন পালন করা হয় বিশ্ব পাসওয়ার্ড দিবস?
কেন পালন করা হয় বিশ্ব পাসওয়ার্ড দিবস?

World Password Day: আপনার পাসওয়ার্ড আপনি ছাড়া সত্যিই কি আর কেউ জানেন না? কবে এ আতঙ্ক শেষ হবে

  • বৃহস্পতিবার বিশ্ব পাসওয়ার্ড দিবস বা World Password Day। কীভাবে ধীরে ধীরে পাসওয়ার্ড আমাদের জীবনের অংশ হয়ে উঠল? কবে এ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে?

রণবীর ভট্টাচার্য

সময়টা নতুন শতাব্দীর প্রথম দশক। সোশ্যাল মিডিয়া কি হতে পারে তার স্বাদ মানুষ পাচ্ছে অরকুট থেকে। কিন্তু শুরুতে বিড়ম্বনা, একটা রকমারি শব্দ বেছে নিতে হবে, যেটা আবার আপনি ছাড়া কেউ আন্দাজ করতে পারবে না। আচ্ছা তারও একটু আগের কথা। ভারতীয় উপমহাদেশে সবার ইমেল আইডি নিয়ে একটু আধটু জ্ঞান হচ্ছে তখন। সেখানেও এক নিয়মের প্যাঁচ, একটা বিশেষ শব্দ দিতে হবে, যেটা বেশ আলাদা আবার আন্দাজ করা যাবে না। ভালো থাকার পাসওয়ার্ড সঙ্গে থাক বা না থাক, বাস্তব জীবনে একটা শক্তপোক্ত পাসওয়ার্ডের গুরুত্ব এখন সকলেই জানেন। চারিদিকে এখন তথ্য চুরির ভয় আর দুর্বল পাসওয়ার্ড মানে স্রেফ সাইবার জনগণের সামনে বেআব্রু হওয়া সময়ের অপেক্ষা।

আজ বিশ্ব পাসওয়ার্ড দিবস। সহজ, সরল, আরামসে মনে রাখা যায় এরকম পাসওয়ার্ডের জমানা আর নেই বটে! কিন্তু সত্যি কি কোন পাসওয়ার্ড খুব কঠিন হতে পারে যা আপনাকে ডিজিটাল রক্ষাকবচ দিতে পারে?

একটা সময় ছিল যখন গড়পড়তা মানুষ পাসওয়ার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি প্যাটার্ন ধরে এগোত। একটি সমীক্ষা অনুযায়ী খোদ ব্রিটেনে প্রায় ২৩ মিলিয়ন অ্যাকাউন্ট রয়েছে এখনও যারা '123456' পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করে। এছাড়া 'abc123', ‘password,’ ‘welcome,’ ‘admin,’ ‘Iloveyou,’ and ‘11111'। এছাড়া নিজের ভালোবাসার নাম বা পছন্দের কাজ বা পোষ্যর নাম তো রয়েছেই! অনেক সাইবার বিশেষজ্ঞ অবশ্য ভালো পাসওয়ার্ডের প্রেসক্রিপশন দিয়ে থাকেন সময় অসময়ে। কিন্তু এর কি কোন শর্টকার্ট রয়েছে আমজনতার জন্য?

একটি সুন্দর ডিজিটাল ভবিষ্যতের জন্য পাসওয়ার্ডহীন (passwordless) সমাজ চাই। অনেকেই বলবেন সে আবার সম্ভব কি করে। এর জন্য উদ্ভাবন চাই, আর ভাবনা চাই ডিজিটাল স্তরে যেখানে রকমারি পাসওয়ার্ড মুখস্থ করার থেকে একটু রেহাই পাওয়া যাবে। প্রযুক্তি যদি আপনার মুখাবয়ব চিনে নেয় বা আপনার বুড়ো আঙ্গুলের ছাপ চিনে ছাড়পত্র দেয়, তাহলে মন্দ নাকি? অনেকেই হয়তো বলবেন যে আজকাল বেশ কিছু ব্রাউজার দায়িত্ব নিয়ে বলেন যে আপনাকে আর আলাদা করে মুখস্থ করতে হবে না, তারাই মনে রাখবে। কিন্তু আদৌ কি তাদের বিশ্বাস করা যায়? খোদ গুগল বা ফেসবুকের উপর অভিযোগ উঠেছে তথ্য বিক্রি করে দেওয়ার। এখন যে লেখাটি আপনি সোশ্যাল মাধ্যমের মাধ্যমে পড়ছেন, সেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রয়েছে তো?

এক জীবনে আমরা সবাই শব্দছক খেলে আরাম পেয়েছি। কিন্তু শব্দছক যদি বাস্তব জীবনে বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে সেটা বোধহয় খুব আরামের নয়। তাই ভবিষ্যতে পাসওয়ার্ডের কচকচানি থেকে মুক্তি চাই।

বন্ধ করুন