বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > ডিভিসি-র বিল না মেটানোয় ঝাড়খণ্ড সরকারের থেকে ৭১৪ কোটি টাকা কেটে নিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক
ডিভিসির কাছে বিদ্যুৎ ক্রয়জনিত মোট ৪,৯৪৯.৫৬ কোটি টাকা দেনা রয়েছে JBVNL-এর।
ডিভিসির কাছে বিদ্যুৎ ক্রয়জনিত মোট ৪,৯৪৯.৫৬ কোটি টাকা দেনা রয়েছে JBVNL-এর।

ডিভিসি-র বিল না মেটানোয় ঝাড়খণ্ড সরকারের থেকে ৭১৪ কোটি টাকা কেটে নিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক

  • ত্রিপাক্ষিক চুক্তি থেকে রাজ্য সরকার বেরিয়ে এলেও সেই চুক্তির জেরেই বকেয়া বিলের অর্থ কাটা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনি পদক্ষেপ করতে পারে রাজ্য সরকার।

দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের (DVC) কাছে ঝাড়খণ্ড বিজলি বিতরণ নিগম লিমিটেড-এর (JBVNL) বকেয়া বিল বাবদ ঝাড়খণ্ড সরকারের অ্যাকাউন্ট থেকে ৭১৪ কোটি টাকা কেটে নিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। এর আগে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি থেকে রাজ্য সরকার বেরিয়ে এলেও সেই চুক্তির জেরেই বকেয়া বিলের অর্থ কাটা হয়েছে। 

বুধবার ঝাড়খণ্ডের মুখ্য সচিব সুখদেব সিং বিষয়টি স্বীকার করেছেন। জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রকের পরামর্শেই দুই দিন আগে ওই অর্থ রাজ্য সরকারের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে কাটা হয়েছে।

গত ৬ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ সচিব সঞ্জীব নন্দন সহায় আরবিআই গভর্নর শক্তিকান্ত দাসকে চিঠি লিখে ঝাড়খণ্ড সরকার ও ডিভিসির মধ্যে ২০১৫ সালের ৩১ মার্চ সম্পন্ন হওয়া বিদ্যুৎ ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তি সম্পর্কে জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে জানানো হয়েছে, ডিভিসির কাছে বিদ্যুৎ ক্রয়জনিত মোট ৪,৯৪৯.৫৬ কোটি টাকা দেনা রয়েছে JBVNL-এর। তার মধ্যে ৩,৫৫৮.৬৮ টাকার বিল নিয়ে কোনও সংশয় নেই। তাঁর অভিযোগ, বরাবরই বিদ্যুৎ বাবদ টাকা দিতে অনিয়ম করেছে ঝাড়খণ্ড সরকার। সেই কারণেই রাজ্।ের অ্যাকাউন্ট থেকে ৭১৪কোটি টাকা কেটে নিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।

গত ৭ জানুয়ারি বকেয়া বিল সম্পর্কে JBVNL-কে মনে করিয়ে দেয় ডিভিসি। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত মোট ১,৯৬০.২০ কোটি টাকার বিদ্যুৎ কেনা হয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ৮৯৩.১৮ কোটি টাকা মিটিয়েছে সংস্থা, চিঠি দিয়ে এই বিষয়টি জানান ডিভিসির মুখ্য ইঞ্জিনিয়ার। বর্তমানে ১,০৬২.০২ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে বলেও তিনি জানান। 

এর আগে ২০২০ সালের অক্টোবর মাসেও কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রকের অনুমোদনে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১,৪১৭কোটি টাকা ঝাড়খণ্ড সরকারের অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেয় আরবিআই।

অন্য দিকে, ঝাড়খণ্ডের বিদ্যুৎ সচিব তথা JBVNL-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর অবিনাশ কুমারের দাবি, ‘চুক্তি ভেঙে বেরিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও ঝাড়খণ্ডের অ্যাকাউন্ট থেকে এই টাকা কেটে নেওয়া উচিত হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনি পদক্ষেপ করতে পারে রাজ্য সরকার।’

রাজ্যের অর্থমন্ত্রী রামেশ্বর ওরাওঁ জানিয়েছেন, ত্রিপাক্ষিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকার ও রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে জানিয়েছিল ঝাড়খণ্ড সরকার। বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

বন্ধ করুন