বাড়ি > ঘরে বাইরে > ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল 'ভারতরত্ন' বিসমিল্লা খানের বাড়ি,প্রশ্নের মুখে যোগী সরকার
বিসমিল্লা খানের বাড়ি গুড়িঁয়ে দেওয়া হল! 
বিসমিল্লা খানের বাড়ি গুড়িঁয়ে দেওয়া হল! 

ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল 'ভারতরত্ন' বিসমিল্লা খানের বাড়ি,প্রশ্নের মুখে যোগী সরকার

  • 'সানাই সম্রাট' বিসমিল্লা খানের বাড়ি ভেঙে ফেলল উত্তরসূরিরা। ভারতরত্ন এই শিল্পীর ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তার ঠিক আগেই ঘটল এমন মার্মান্তিক ঘটনা। 

কালের গর্ভে হারিয়ে গেল আরো এক ইতিহাসের সাক্ষী । বারাণসীর বুকে একরকম বিনা প্রতিবাদেই ভাঙা পড়লো ‘সানাই সম্রাট’ ওস্তাদ বিসমিল্লা খানের বসত ভিটা । শিল্পীর ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকীর ঠিক দু'দিন আগে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো তাঁর ঘর । উত্তরপ্রদেশের বেনিয়াবাগ এলাকার ভিখম সাহ লেনের এই সেই তিন তলার ঘর যেখানে ২০০৬ সালে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত প্রতিদিন রেওয়াজ করে কাটিয়েছেন 'ভারতরত্ন' বিসমিল্লাহ খান । এই ঘরের দেওয়ালে কিছুদিন আগেও শোভা পেতো বরেণ্য শিল্পীর জীবৎকালে পাওয়া যাবতীয় সন্মান, স্মারক, শংসাপত্র । বহু গুণীজনের বহু অনুরোধ উপরোধেও যে বাড়ি থেকে তাঁকে জীবদ্দশায় আলাদা করা যায়নি, সেই বাড়িই এখন চূড়ান্ত অস্তিত্ব সংকটে । ভারতরত্ন এই সঙ্গীতশিল্পীর আজীবনের সাধনাকক্ষ গুঁড়িয়ে দেয়া হলেও নির্বিকার রয়েছে যোগী প্রশাসন । যা নিয়ে অখিলেশ যাদবসহ বিরোধীদের তীব্র কটাক্ষের মুখে যোগী আদিত্যনাথ সরকার।

২০০৬ সালে তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ভক্ত অনুরাগীদের দাবি ছিল রক্ষনাবেক্ষন করে এই স্থানে একটি মিউজিয়াম গড়ে তোলা হোক । কিন্তু বারাণসীর উন্নয়নের পরিকল্পনার ফাইলের তলায় সে ফাইল চাপা পড়ে যায় ।তাছাড়া বর্তমানে শিল্পীর উত্তরসূরীদের পরিকল্পনায় সে ঠুনকো আবেগ গুরুত্ব পায়নি । জানা গিয়েছে তাঁর আবাসস্থলে মাথা চারা দিয়ে দাঁড়াবে একটি শপিং মল !

মাত্র ৬ বছর বয়সে বিহার থেকে বারাণসী চলে আসেন বিসমিল্লা । ১৯৩৬ সালে বেনিয়াবাগের কাছে বাড়িটি কিনে আমৃত্যু সেখানেই সাধনা করে গিয়েছেন এই ধ্রুপদী সঙ্গীত শিল্পী । বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে বর্তমানে উস্তাদের উত্তরসূরীরা তীব্র পারিবারিক কলহে জড়িয়ে পড়েছেন । তাঁর পাঁচ পুত্র মেহেতাব হুসেন , নাজিম হুসেন , কাজিম হুসেন , নাইয়ার হুসেন , জামিন হুসেন এবং দুই কন্যা জরিনা বেগম ও আজরা বেগম । মেহেতাব ও নাইয়ার মারা গিয়েছেন বেশ কিছু বছর হলো । বর্তমানে শিল্পীর পরিবারে সমস্ত মিলিয়ে মোট ষাট জন বংশধর জীবিত আছেন । নাজিম , কাজিম এবং দুই কন্যা এবং পৌত্র আফাক হায়দার এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন । হায়দারের মতে ,'উস্তাদের বাড়িটি মেরামতি করে স্মৃতি সৌধ হিসেবে চিহ্নিত করা হলে তবেই ওনার প্রতি যথাযথ সন্মান প্রদর্শন করা হতো '। বিসমিল্লার আরেক নাতি সিবতাইন হোসেন বর্তমানে বাড়ি ভেঙে শপিং কমপ্লেক্স করতে চান বলেই জানিয়েছেন হায়দার । অপর দিকে নাজিম ও কাজিম বাড়ি মেরামত করে মিউজিয়ামে রূপান্তরিত করার দাবিতে অনড় ।

অপরদিকে সিবতাইনের স্ত্রী নাজমি ফিরোজা জানান,' বর্তমানে বাড়ির যা পরিস্থিতি , যে কোনও দিন ভেঙে পড়তে পারে । উস্তাদজির সারাজীবনের যাবতীয় সম্মানকে রক্ষা করা মুশকিল হয়ে যাচ্ছিলো । তাই তাঁরা বাধ্য হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন '। এক তলায় যাবতীয় দোকান পাট তৈরী হলেও নতুন চার তলা বিল্ডিঙের দোতলায় একটি ঘরে মিউজিয়াম নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ফিরোজা । তবে এই কথায় আশ্বাস রাখতে পারছেন না অনেকেই । বছর তিনেক আগে তাঁর এক নাতি মাত্র ১৭০০০ টাকার বিনিময়ে তাঁর চারটি সানাই বিক্রি করে দিয়েছিলেন স্থানীয় গয়নার দোকানে । উত্তর প্রদেশ এসটিএফ -এর তৎপরতায় তার তিনটি অবিকৃত অবস্থায় উদ্ধার করা গিয়েছিল । 

সমাজবাদী পার্টি নেতা অখিলেশ যাদব টুইটারে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে প্রশাসনের পদক্ষেপ দাবি করেছেন । সঙ্গীতশিল্পী পদ্মশ্রী শ্রী রাজেশ্বর আচার্যও বাড়িটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন । সঙ্গীতশিল্পী অনূপ জালোটা টুইট করেন সেতার দর্শন যদি পণ্ডিত রবি শঙ্করকে স্মরণ করায় তবে সানাইয়ের ক্ষেত্রে পথিকৃৎ হলেন উস্তাদ বিসমিল্লা খাঁ ।

শেষ পাওয়া খবর অনুসারে বারাণসী ডেভেলপমেন্ট অথরিটির ( VDA ) পর্যবেক্ষক দল বুধবার বাড়িটি পরিদর্শন করেছেন এবং সিবতাইন হুসনের নামে একটি নোটিশ জারি করা হয়েছে। বিনা অনুমতিতে পুনরায় কোনো নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে না স্পষ্টতই বলা হয়েছে সেই নির্দেশিকায় । সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট রাহুল পাণ্ডে জানান আমাদের কর্মীরা গিয়ে কাজ বন্ধ করে এবং  এই সম্পর্কিত তথ্য দেওয়া হয়েছে বারাণসী নগর নিগমকে।

বন্ধ করুন