স্বস্তি ভারতের (ছবি সৌজন্য পিটিআই)
স্বস্তি ভারতের (ছবি সৌজন্য পিটিআই)

'পাকিস্তানের উপর ভারতের বন্ধুদের জয়',ভোটাভুটি পিছিয়ে গেল CAA-বিরোধী প্রস্তাবের

নাম-পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক কূটনীতিবিদ বলেন, 'বেক্সিটের আগেরদিন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য শাফাক মহম্মদ ভারতের বিরুদ্ধে এই প্রস্তাবটি পাশ করিয়ে নেওয়ার যে প্রচেষ্টা করেছিলেন, তা পরাজিত হয়েছে।'

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে আনা প্রস্তাবের ভোটাভুটি আগামী মার্চ পর্যন্ত পিছিয়ে দিল ইউরোপীয় পার্লামেন্ট (ইইউ)। যা আন্তর্জাতিক মহলে নয়াদিল্লিকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিল বলে অভিমত কূটনৈতিকদের।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন -ভারত বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবে মার্চে ব্রাসেলসে যেতে পারেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। ১৩ মার্চ থেকে শুরু হতে পারে সেই বৈঠক। যাবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। সূত্রের খবর, প্রস্তাব নিয়ে ভারত যাতে ইইউ পার্লামেন্টের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে. সেজন্য ভোটাভুটি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার মধ্যরাত থেকে অবশ্য সিএএ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন পার্লামেন্টের সদস্যরা। এনিয়ে বিবৃতি দেবেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বিদেশ ও সুরক্ষা নীতির হাই রিপ্রেজেন্টেটিভস জোসেপ বোরেল।

মধ্যরাতে প্লেনারি সেশন শুরুর পর প্রস্তাবটি প্রত্যাহারের দাবি জানায় ডান-পন্থী আইডেন্টিটি অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আইডি) দল। তাদের তরফে যুক্তি খাড়া হয়, প্রস্তাবটি অত্যন্ত বাজে সময় আনা হয়েছে। কারণ সিএএ-কে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলাগুলি শুনছে সুপ্রিম কোর্ট। উল্লেখ্য, এই দলের সদস্যরা গত অক্টোবরে কাশ্মীর সফরে আসা ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের দলে ছিলেন। যে সফর নিয়ে প্রবল বিতর্ক হয়েছিল। তবে ভোটাভুটিতে সেই দাবি নাকচ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন : কাশ্মীর ও সিএএ নিয়ে দিল্লির বিরুদ্ধে প্রস্তাব আনছে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট

সিএএ প্রস্তাব সমর্থন করে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সবথেকে বড় দল ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টি (ইপিপি)। প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেও সওয়াল করে তারা। তবে আগামী ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সেশন পর্যন্ত ভোটাভুটির পিছিয়ে দেওয়া উচিত বলে জানায় ইপিপি। ভোটাভুটির পর সেই প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রস্তাবের পক্ষে পড়ে ২৭১ ভোট। বিপক্ষে পড়ে ১৯৯ ভোট।

কী কারণে ভোটাভুটি পিছিয়ে দেওয়ার জন্য সওয়াল করা হয়েছে, তা জানান এক ইপিপি প্রতিনিধি। তিনি জানান, সিএএ সংক্রান্ত কয়েকটি ইস্যু পরিষ্কার করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। পার্লামেন্টের সদস্যরা যাতে আইনটি ভালোভাবে মূল্যায়ন করতে পারেন সেজন্য তাঁদের কিছুটা অপেক্ষা করা উচিত।

এনিয়ে সরকারিভাবে নয়াদিল্লি মুখ না খুললেও বিষয়টিকে নিজেদের 'কূটনৈতিক জয়' হিসেবেই দেখছে ভারত। কূটনীতিবিদদের দাবি, ইউরোপীয় পার্লামেন্টে পাকিস্তানের বন্ধুদের উপর জয় এসেছে ভারতের বন্ধুদের।

নাম-পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক কূটনীতিবিদ বলেন, 'বেক্সিটের আগেরদিন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য শাফাক মহম্মদ ভারতের বিরুদ্ধে এই প্রস্তাবটি পাশ করিয়ে নেওয়ার যে প্রচেষ্টা করেছিলেন, তা পরাজিত হয়েছে। সিএএ ভারতের আভ্যন্তরীণ বিষয়। উপযুক্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা গৃহীত হয়েছে। নিরপেক্ষ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি সবদিক থেকে বুঝতে পারবেন বলে আমরা আশাবাদী।'

বন্ধ করুন