লড়াই জারি থাকবে, জানালেন নির্ভয়ার মা (ছবি সৌজন্য এপি)
লড়াই জারি থাকবে, জানালেন নির্ভয়ার মা (ছবি সৌজন্য এপি)

Nirbhaya Hanging: 'অবশেষে মেয়ে বিচার পেল,অন্য মেয়েদের জন্য লড়াই জারি থাকবে', বললেন নির্ভয়ার মা

নির্ভয়ার মা বলেন, 'মেয়ে বেঁচে থাকলে আজ চিকিৎসকের মা হিসেবে পরিচিত হতাম। নির্ভয়ার মা হিসেবে পরিচিত হয়ে গর্ববোধ করছি।'

তিহাড় জেল থেকে দ্বারকার বাড়ির দূরত্ব মেরেকেটে ৭.৫ কিলোমিটার। সেখান থেকে ফাঁসির খবরের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন নির্ভয়ার বাবা-মা। ভোর পাঁচটা ৩৩ মিনিট নাগাদ চার দণ্ডিতকে ফাঁসিতে ঝোলানোর খবর পাওয়ার পরই তাঁরা জানালেন, একটা লড়াই শেষ হয়েছে। তবে বাকি লড়াইটা চলবে।

আরও পড়ুন : ফাঁসি নির্ভয়াকাণ্ডে চার দণ্ডিতের

দ্বারকার বাড়ির নীচে নির্ভয়ার আশাদেবী বলেন, 'অবশেষে দণ্ডিতদের ফাঁসি হল। এটা দীর্ঘ লড়াই ছিল। আজ আমরা বিচার পেলাম। এই দিনটা দেশের মহিলাদের জন্য উৎসর্গ করা হল। অবশেষে বিচার পেল নির্ভয়া।'

আরও পড়ুন : Nirbhaya Hanging: নির্ভয়া দণ্ডিতদের ফাঁসি দিতে পেরে খুশি, মন্তব্য ফাঁসুড়ে পবনের

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বরের সেই নৃশংস রাতের পর থেকে এই দিনটার জন্য অপেক্ষা করে এসেছেন নির্ভয়ার মা। দাঁতে দাঁতে চেপে লড়েছেন। শত জট, টালাবাহানা সত্ত্বেও হাল ছাড়েননি। সাত বছর তিন মাস ৬ দিন পর অবশেষে নির্ভয়া গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে দোষীদের ফাঁসির পর সরকার ও বিচারব্যবস্থাকে ধন্যবাদ জানান আশাদেবী। তিনি বলেন, 'দেরি করে হলেও বিচারব্যবস্থা চারজনকে ফাঁসি দিয়ে প্রমাণ করল, মেয়েদের সঙ্গে এরকম ঘৃণ্য অপরাধ হলে তাঁরা বিচার পাবেন। দোষীরা সাজা পাবে। আজ দোষীদের ফাঁসির পর মহিলারা অবশ্যই নিজেদের বেশি সুরক্ষিত মনে করবেন।'

আরও পড়ুন : Nirbhaya case timeline: দীর্ঘ আইনি জটের শেষে ৪ আসামির ফাঁসি, একনজরে ঘটনাপঞ্জি

তবে দীর্ঘপথটা একেবারেই সহজ ছিল না। ২০১৩ সালে নিম্ন আদালত ফাঁসির সাজা ঘোষণার পরও দীর্ঘদিন ধরে ফাঁসি কার্যকর হয়নি। মৃত্যু পরোয়ানা জারি হলেও আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে গিয়েছিল চার দণ্ডিত। এমনকী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের একদিন আগেও আদালতে একাধিক শুনানি চলে। বিভিন্ন আদালতে একের পর এক আর্জি খারিজ হওয়ার পরও ফাঁসি পিছনোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল দণ্ডিতরা। রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ অবশ্য দণ্ডিতদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ফাঁসি কার্যকরের উপর সিলমোহর পড়ে। সেই সময় সুপ্রিম কোর্টে ছিলেন নির্ভয়ার মা। পরে তিনি বলেন, 'আমি সুপ্রিম কোর্ট থেকে ফিরে মেয়ের ছবি জড়িয়ে ধরি। ওকে বলি, আজ তুই ন্যায় পেয়েছিস।'

সামান্য স্বস্তির মধ্যেও যন্ত্রণা ফুটে ওঠে নির্ভয়ার মায়ের গলায়। তিনি বলেন, 'মেয়ে বেঁচে থাকলে আজ চিকিৎসকের মা হিসেবে পরিচিত হতাম।' কথাটা বলার সময় গলা ধরে আসে নির্ভয়ার মায়ের। সেই মনখারাপ, যন্ত্রণাকে সঙ্গী করেই আশাদেবী বলেন, 'নির্ভয়ার মা হিসেবে পরিচিত হয়ে গর্ববোধ করছি। ও খুব লড়াই করেছিল। এই দিনটা দেখার জন্য আমরা দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছি। আমাদের বিচারব্যবস্থার গলদ সামনে এসে গিয়েছে। তবে চারজনকেই একসঙ্গে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে। যা এই প্রথম।'

আরও পড়ুন : Nirbhaya case: দিল্লিতে ২০১২ সালের অভিশপ্ত রাতে কী ঘটেছিল, ফিরে দেখা একনজরে

আর বিচারব্যবস্থার সেই ফাঁকফোকর ভরাটের জন্য তাঁদের লড়াই চলবে জানান আশাদেবী। তাঁর কথায়, 'আমাদের মেয়ে আর নেই। ফিরেও আসবে না। ও আমাদের ছেড়ে যাওয়ার পর লড়াইটা শুরু করেছিলাম। এই লড়াইটা ওর জন্য ছিল। তবে আমাদের মেয়েদের জন্য এই লড়াই ভবিষ্যতেও চালিয়ে যাব।'

একই কথা বলেন নির্ভয়ার বাবা বদ্রীনাথ সিং। তিনি বলেন, 'নির্ভয়ার দণ্ডিতদের ফাঁসি হয়ে গিয়েছে বলে যে বাড়িতে বসে যাব, এরকম নয়। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে যে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করব। আইনের কোথায় কোথায় ফাঁক রয়েছে, তা বের করে সরকারের কাছে যাব। প্রয়োজনে মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করব।'

বন্ধ করুন