বাড়ি > ঘরে বাইরে > ‘কোথায় লুকিয়ে গেলেন? ভয় পাবেন না’, BJP-র অস্ত্রেই মোদীকে কটাক্ষ রাহুলের
রাহুল গান্ধী (ফাইল ছবি, সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)
রাহুল গান্ধী (ফাইল ছবি, সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)

‘কোথায় লুকিয়ে গেলেন? ভয় পাবেন না’, BJP-র অস্ত্রেই মোদীকে কটাক্ষ রাহুলের

  • রাহুল বলেন, 'আপনি বাইরে আসুন। পুরো দেশ, আমরা সবাই আপনার সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছি।'

একটা সময় তাঁদের সরকারের বিরুদ্ধে নীরবতা পালনের অভিযোগ তুলে সরব হতেন নরেন্দ্র মোদী। আর প্রধানমন্ত্রী কুর্সিতে বসে তিনিই 'চুপ' করে আছেন। চিনের সঙ্গে সীমান্ত বিবাদ নিয়ে একটিও শব্দ খরচ করেননি। তা নিয়ে ‘নীরবতা’ অস্ত্র করে মোদীর বিরুদ্ধে সরব হলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী।

গত মাসে পূর্ব লাদাখে সীমান্ত উত্তেজনা বৃদ্ধির শুরু থেকেই মোদীর কাছে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর চেয়েছে কংগ্রেস। কখনও সেই উত্তর দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কখনও আবার লাদাখের সাংসদ জেমিয়াং শেরিং নামগেল রাহুলকে ইতিহাসের পাঠ পড়িয়েছেন। তবে মোদী নিজে কোনও মন্তব্য করেননি। এমনকী গালওয়ানে ভারত এবং চিন সেনার সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় জওয়ানের মৃত্যুর পর সরকারের তিন শীর্ষ মন্ত্রী কোনও মন্তব্য করেননি। তা নিয়ে বুধবার মোদীকে তীব্র কটাক্ষ করেন রাহুল (রাহুলের কটাক্ষের ঘণ্টাখানেক পর জওয়ানদের শ্রদ্ধা জানিয়ে টুইট করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং)।

সকালের একটি টুইটবার্তায় রাহুল বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী নীরব কেন? তিনি কী লুকোচ্ছেন? যথেষ্ট হয়েছে। আমরা জানতে চাই কী হয়েছে। আমাদের সেনা জওয়ানদের হত্যার সাহস কীভাবে পায় চিন? আমাদের ভূখণ্ড দখল করার সাহস হয় কীভাবে?'

তার আড়াই ঘণ্টা পর একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে আক্রমণের ঝাঁঝ আরও তীব্র করেন কংগ্রেস সাংসদ। ২৭ সেকেন্ডের সেই ভিডিয়োয় তিনি বলেন, 'দু'দিন আগে ভারতের ২০ জন বীর সেনা জওয়ান শহিদ হয়েছেন। পরিবারদের থেকে ওঁদের ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। চিন আমাদের জমি ছিনিয়ে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আপনি চুপ কেন আছেন? আপনি কোথায় লুকিয়ে গিয়েছেন? আপনি বাইরে আসুন। পুরো দেশ, আমরা সবাই আপনার সঙ্গে আছি। একসঙ্গে আপনার সঙ্গে আছে দেশ। বাইরে আসুন। দেশকে সত্যি কথাটা বলুন। ভয় পাবেন না।'

শুধু রাহুল নন, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, পি চিদম্বরম, রণদীপ সুরজেওয়ালারাও মোদী সরকারকে আক্রমণ নেমেছেন। পূর্ব উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিয়াঙ্কা বলেন, 'আমাদের ভূখণ্ড, আমাদের সার্বভৌমত্ব ঝুঁকির মুখে, আমাদের জওয়ান ও অফিসাররা শহিদ হচ্ছেন, আমরা কি শুধু চুপ করেই থাকব? ভারতের সত্যিটা জানার অধিকার আছে। ভারতের এমন একটি নেতৃত্বের দাবিদার, যারা নিজেদের ভূখণ্ড বাঁচাতে সবকিছু করতে পারে। দেখা দিন নরেন্দ্র মোদীজি, চিনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এটাই সময়।'

মোদীর নীরবতা নিয়ে সরব হন কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরমও। যে সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে (মনমোহন সিং) বিজেপি নীরব বলে হামেশাই কটাক্ষ করত, সেই সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ‘গত ৫ মে থেকে উদ্বেগজনকভাবে নীরবতা বজায় রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। আপনারা ভাবতে পারেন, কোনও দেশের প্রধান সাত সপ্তাহ একটাও শব্দ না বলে থাকতে পারেন, যখন বিদেশি সেনা সেই দেশে অনুপ্রবেশ করেছে!’

কংগ্রেসের পাশাপাশি অন্যান্য বিরোধী দলগুলিও মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। আর সেই পরিস্থিতিতে খানিকটা বাধ্য হয়ে আগামী ১৯ জুন মোদী সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক দিয়েছেন বলে অভিমত রাজনৈতিক মহলের।

বন্ধ করুন