বাড়ি > ঘরে বাইরে > জিডিপি বৃদ্ধির এই হার মেনে নেওয়া যায় না, বেহাল অর্থনীতি আসলে সমাজের প্রতিচ্ছবি- মনমোহন সিং
মনমোহন সিং (PTI)
মনমোহন সিং (PTI)

জিডিপি বৃদ্ধির এই হার মেনে নেওয়া যায় না, বেহাল অর্থনীতি আসলে সমাজের প্রতিচ্ছবি- মনমোহন সিং

ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে শ্লথ হারে বেড়েছে জিডিপি। এই নিয়ে মোদী সরকারকে একহাত নিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।

জিজিপি বৃদ্ধির হার ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে শ্লথ হয়েছে। কেন্দ্র এই তথ্য প্রকাশ করার পরই সরকারের তীব্র সমালোচনা করলেন মনমোহন সিং। বেহাল অর্থনীতির সঙ্গে বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতিও ওতোপ্রোতো ভাবে যুক্ত বলেও দাবি করেছেন তিনি।

এদিন মনমোহন সিং বলেন যে এই জিডিপি বৃদ্ধির হার উদ্বেগজনক এবং মেনে নেওয়া যায় না। সমাজে সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীকে দিয়েছেন মনমোহন। তাঁর মতে পারস্পরিক বিশ্বাস হলো অর্থনৈতিক উন্নতির ভিত্তি। কিন্তু সেই সামাজিক বন্ধন এখন নষ্ট হয়ে গিয়েছে, এবং এর ফলে একে ওপরের প্রতি কোনও আস্থা নেই বলে দাবি করেছেন মনমোহন সিং। তাঁর মতে অবিশ্বাস, হতাশা ও ভয়ের পরিবেশ গ্রাস করেছে সমাজকে এবং এর প্রভাব পড়েছে অর্থনীতির ওপরেও।

তিনি বলেন যে দেশের মানুষের আশা আকাঙ্খাকে মেটানোর জন্য ৮-৯ শতাংশ হারে জিডিপি-র বৃদ্ধি প্রয়োজন। সেখানে চলতি বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ৪.৫ শতাংশ বৃদ্ধি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করেন তিনি। বেহাল অর্থনীতি সামাজিক পরিস্থিতির প্রতিচ্ছবি বলে জানান মনমোহন।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেন যে অনেক ব্যবসায়ী তাঁকে বলেছেন যে হেনস্থার ভয় তাদের কুরে কুরে খায়। ব্যাংকগুলি কোনও ঋণ দিতে চায় না, পাছে এর জন্য তাদের নিশানা করা হয়। উদ্যোগপতিরা নতুন ব্যবসা শুরু করতেও ভয় পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

যারা সরকারের নীতি নির্ধারক তারাও অনেক সময় সত্যিটা বলতে ভয় পাচ্ছেন বলে দাবি মনমোহন সিংয়ের। সকলকে অবিশ্বাস করার এই পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসতে নরেন্দ্র মোদীকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। শুধু কিছু অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নয়, ভয়ের পরিস্থিতি থেকে সমাজে পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে না আনলে অর্থনীতির চাকা ঘুরবে না বলেই তাঁর অভিমত।

বেসরকারি পুঁজির জন্যই ভারতের অর্থনীতির উন্নতি হয়েছে বলে মনমোহনের দাবি। তিনি জানান কোনও ভাবেই পুঁজিপতিদের রক্তচক্ষু দেখিয়ে কোনও কাজের কাজ হবে না। একই সঙ্গে অর্থনীতি সম্বন্ধে তথ্য লুকিয়ে বাস্তবটাকে অস্বীকার করা যাবে না বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।


বন্ধ করুন