বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > উনিশ বছর ধরে পলাতক, দিল্লি থেকে গ্রেফতার সিমির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা
গ্রেফতারির পর সিমি অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা (ছবি সৌজন্য এএনআই)
গ্রেফতারির পর সিমি অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা (ছবি সৌজন্য এএনআই)

উনিশ বছর ধরে পলাতক, দিল্লি থেকে গ্রেফতার সিমির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা

  • পুলিশ জানিয়েছে, আদতে উত্তরপ্রদেশের মৌ জেলার বাসিন্দা দানিশ আলিগড়ে থাকছিল। ‘ভারতের ওসাামা-বিন-লাদেন’ হিসেবে পরিচিত আবদুলের মগজধোলাই করেছিল। 

উনিশ বছর ধরে পুলিশের জাল এড়িয়ে যাচ্ছিল। অবশেষে শনিবার নিষিদ্ধ সংগঠন সিমির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। 

২০০১ সালে দিল্লিতে তার বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ), রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা রুজু করা হয়েছিল। দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (স্পেশাল সেল) প্রমোদ সিং কুশওয়াহা জানিয়েছেন, ওই মামলায় ২০০২ সালে ৫৮ বছরের আবদুল্লাহ দানিশ নামে ওই সন্দেহভাজন সিমি সদস্যকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেছিল দিল্লির একটি আদালত। শনিবার জাকির নগর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

স্পেশাল সেলের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সিমির প্রাক্তন চাঁই সফদার হুসেন নাগোরি এবং আবদুল সুভান কুরেশি ওরফে তৌকির-সহ অসংখ্য মুসলিম যুবকের মগজধোলাইয়ের ক্ষেত্রে দানিশের হাত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। ২০০৮ সালে গুজরাতের ধারাবাহিক বিস্ফোরণে জড়িত ছিল ‘ভারতের ওসাামা-বিন-লাদেন’ হিসেবে পরিচিত আবদুল। যে ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। সেই জঙ্গি সংগঠন ২০০৮ সালে মে এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে জয়পুর, আমদাবাদ এবং দিল্লিতে একাধিক বিস্ফোরণে জড়িত ছিল। 

কুশওয়াহা জানিয়েছেন, ২০০১ সালে দিল্লির জামিয়া নগরের সদর দফতরের সাংবাদিক বৈঠকের সময় পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছিল। গ্রেফতার করা হয়েছিল অনেক সিমি সদস্যকে। তবে দানিশ-সহ কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল। সেখান থেকে প্রথমে উত্তরপ্রদেশের আলিগড় এবং পরে আজমগঢ়ে পালিয়ে যায়। গ্রেফতারি এড়াতে বারবার জায়গা পরিবর্তন করতে থাকে। তারইমধ্যে গত এক বছর ধরে উত্তরপ্রদেশের একাধিক শহর থেকে রাজধানীতে দানিশের গতিবিধির বিষয়ে তথ্য পাচ্ছিলেন স্পেশাল সেলের গোয়েন্দারা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য জোগাড় করা হয়। বাড়ানো হয় নজরদারি। প্রাক্তন সিমি সদস্যদের উপরও নজর রাখতে থাকেন গোয়েন্দারা। সম্প্রতি গোয়েন্দারা জানতে পারেন, কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে দেখা করতে দিল্লির জাকির নগরে আসবে দানিশ। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ফাঁদ পাতা হয়। তাতেই আসে সাফল্য। 

দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (স্পেশাল সেল) বলেন, ‘তথ্য মোতাবেক, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জির বিরুদ্ধে মুসলিম যুবকদের মগজধোলাই, ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে হিংসা তৈরির জন্য কট্টরবাদের প্রচারের কাজে যুক্ত ছিল দানিশ। ভুয়ো ভিডিয়ো ছড়িয়ে দাবি করত, মুসলিমদের উপর শোষণ করছে ভারত সরকার।’

পুলিশ জানিয়েছে, ১৯৮৫ সালে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবিতে স্নাতকোত্তরের পড়াশোনা শেষ করেছিল দানিশ। তারপর সিমিতে যোগ দিয়েছিল। পরের চার বছর সে সিমির ম্যাগাজিনের হিন্দি প্রকাশনার দায়িত্বে ছিল। দিল্লি পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিককে উল্লেখ করে সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, আদতে উত্তরপ্রদেশের মৌ জেলার বাসিন্দা দানিশ আলিগড়ে থাকছিল।

বন্ধ করুন