বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > ন'বছরের অবিরাম প্রয়াস সেনা অফিসারের, কীভাবে আত্মসমর্পণ আলফা-আইয়ের ডেপুটি কমান্ডারের?
আত্মসমর্পণের পর দৃষ্টি রাজখোয়া। (ছবি সৌজন্য এএনআই)
আত্মসমর্পণের পর দৃষ্টি রাজখোয়া। (ছবি সৌজন্য এএনআই)

ন'বছরের অবিরাম প্রয়াস সেনা অফিসারের, কীভাবে আত্মসমর্পণ আলফা-আইয়ের ডেপুটি কমান্ডারের?

  • প্রায় ১২ ঘণ্টা অভিযানের পর আত্মসমর্পণ করে দৃষ্টি।

উৎপল পরাসর এবং ডেভিড লাইতফ্যাঙ্গ

ন'বছর ধরে লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন ভারতীয় সেনার সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের এক আধিকারিক। অবশেষে মিলল সেই পরিশ্রমের দাম। গত বুধবার মেঘালয়ে আত্মসমর্পণ করেছে আলফা-আইয়ের ডেপুটি কমান্ডার-ইন-চিফ দৃষ্টি রাজখোয়া ওরফে মনোজ রাভা। সাংগঠনিক দিক থেকে আলফা-আইয়ের পরেশ বড়ুয়ার পরেই ছিল দৃষ্টি।

চার সঙ্গীর সঙ্গে সেই দৃষ্টির আত্মসমপর্ণে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে বলে মত গোয়েন্দাদের। অসমের সার্বভৌমত্বের জন্য যে সংগঠন ১৯৭৯ সাল থেকে ‘লড়াই’ করছে। পরে ১৯৯০ সালে সেই সংগঠনকে নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

পরে অজানা জায়গা থেকে ফোনে গুয়াহাটির একটি চ্যানেলকে পরেশ দাবি করে, সংগঠনের ‘বিশ্বস্ত’ কর্মী ছিল দৃষ্টি। কিন্তু পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির জন্য আলফা-আইয়ের অনুমতি নিয়েই সে আত্মসমর্ণ করেছে। একইসঙ্গে স্ত্রীয়ের শারীরিক অবস্থাও তার আত্মসমর্পণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে দাবি করেছে পরেশ। দৃষ্টির স্ত্রী ক্যানসারে ভুগছেন।

ভারতীয় সেনার সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের সূত্র অনুযায়ী, ২০১১ সালে রাজখোয়া এবং তার স্ত্রীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদমযার্দার এক আধিকারিক। সেই সময় শিলংয়ে ক্যাপ্টেন হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। তারইমধ্যে আলফায় ভাঙন ধরলে সেই বছরের নভেম্বরে দৃষ্টিকে আলফা-আইয়ের ডেপুটি কমান্ডার-ইন-চিফ করা হয়। ওই সূত্র বলেন, ‘উত্তর-পূর্ব ভারতে পোস্টিংয়ের সময় থেকে (দৃষ্টির) সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন তিনি (ওই আধিকারিক)। নিজের ঝুঁকি এবং সুরক্ষা (বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকার) সত্ত্বেও গত ন'বছর ধরে ক্রমশ তার (দৃষ্টি) সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন।’

সূত্রের খবর, নিজের রাজ্য এবং সেখানকার মানুষকে সাহায্য করতে সমাজের মূলস্রোতে ফিরে আসার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দৃষ্টিকে বোঝান ওই আধিকারিক। দৃষ্টির নিকটাত্মীয়দের সঙ্গেও সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তার ফলে মেলে সাফল্য। প্রাথমিকভাবে অনড় থাকলেও পরে রাজি হয় দৃষ্টি।

তারপরই শুরু হয় পরিকল্পনা। গত মঙ্গলবার ভারতীয় সেনার সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের পাহাড়ি ডিভিশনের ডিরেক্টর-জেনারেলকে (ডিআইএমআই) সেই তথ্য জানানো হয়। তারইমধ্যে ওই আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে দৃষ্টি। নিজের চার দেহরক্ষীর সঙ্গে আত্মসমর্পণের কথা জানায়। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মেঘালয়ের দক্ষিণ গারো হিলস জেলা থেকে নিজের লুকানো জায়গা থেকে গুয়াহাটি পর্যন্ত সুরক্ষিতভাবে আসার জন্য ভারতীয় সেনার সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের গাড়ির বন্দোবস্ত করতে বলে। 

ভারতীয় সেনার সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের সূত্রের বক্তব্য, ‘ডিআইএমআইকে সেই তথ্য জানানো হয়। তারপর কলকাতায় ভারতীয় সেনার ইস্টার্ন কমান্ডের সদর দফতরে জানানো হয়। দৃষ্টিকে সেনার হেফাজতে নেওয়া এবং তার আত্মসমর্পণের জন্য পুরো অভিযানের সমন্বয় করেন ওই আধিকারিক। যা শুরু হয়েছিল বুধবার রাত দুটোর সময়।’

প্রায় ১২ ঘণ্টা অভিযানের পর আত্মসমর্পণ করে দৃষ্টি। একইসঙ্গে একটি একে-৮১ অ্যাসল্ট রাইফেল, দুটি ম্যাগাজিন এবং দুটি পিস্তলও জমা দেয়।

বন্ধ করুন