বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > কৃষকদের ‘রেল রোকো’ সামলাতে পশ্চিমবঙ্গ–সহ ৪ রাজ্যে মোতায়েন আরও ২০ কোম্পানি আরপিএফ
ভূবনেশ্বরে ‘‌রেল রোকো’‌। ফাইল ছবি সৌজন্য :‌ হিন্দুস্তান টাইম্‌স (HT_PRINT)
ভূবনেশ্বরে ‘‌রেল রোকো’‌। ফাইল ছবি সৌজন্য :‌ হিন্দুস্তান টাইম্‌স (HT_PRINT)

কৃষকদের ‘রেল রোকো’ সামলাতে পশ্চিমবঙ্গ–সহ ৪ রাজ্যে মোতায়েন আরও ২০ কোম্পানি আরপিএফ

  • গত সপ্তাহে সংসদে রেলমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, বিভিন্ন প্লাটফর্ম এবং সংলগ্ন রেলপথে দিনের পর দিন ধর্না, আন্দোলন ও ধর্মঘটের জেরে ২০২০–২১ অর্থবর্ষে ১৪৬২.‌৪৫ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে সরকারের।

অনিশা দত্ত

বিতর্কিত কৃষি আইন নিয়ে কৃষকদের বিক্ষোভ চলছেই। আর তা আরও তীব্র করতে বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে ৪ ঘণ্টা ব্যাপী ‘‌রেল রোকো’‌ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে কৃষক সংগঠনগুলি। এদিন দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হবে বলে ঘোষণা করেছেন কৃষকরা। এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের মোকাবিলা করতে একাধিক পদক্ষেপ করছে প্রশাসন তথা কেন্দ্রীয় সরকার।

একদিকে, পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ— এই চার রাজ্যের রেলপথে নিরাপত্তা আরও আটোসাটো করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। এর পাশাপাশি এই চার রাজ্যে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার অবরোধের আগে চারটি রাজ্য জুড়ে ২০টি অতিরিক্ত কোম্পানি মোতায়েন করেছে আরপিএফ।

রেলমন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘‌রেলের তরফ থেকে শান্তির বাতাবরণ বজায় রাখতে আবেদন জানানো হয়েছে। পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গে আরও ২০ কোম্পানি আরপিএফ বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। যাত্রীদের যাতে কোনওরকম অসুবিধা না হয় সে জন্য আমরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়ে সকলকে শান্তি বজায় রাখার আবেদন করছি।’‌

তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইনের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন আরও তীব্র করার জন্য বৃহস্পতিবার কৃষকদের সংগঠন ‘‌রেল রোকো’‌ আন্দোলনের আহ্বান জানিয়েছে। কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা সংযুক্ত কিসান মোর্চা ১৮ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত সারা দেশ জুড়ে রেল রোকো আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। পাশাপাশি এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিক্ষোভকারী কৃষকরা ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজস্থানের সমস্ত সড়ক টোল প্লাজা মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে কৃষি আইনের বিরোধিতায় গোটা রাজ্যে রেলপথ অরবোধ করে বিক্ষোভ দেখান পঞ্জাবের কৃষকরা। আর তার জেরে প্রায় দুই মাস ওই রাজ্যে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণভাবে স্তব্ধ হয়ে পড়ে। নভেম্বর মাসে রাজ্যে ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্র এবং পঞ্জাব সরকারের মধ্যে টানাপোড়েনের সময় ভারতীয় রেল দাবি করে, পঞ্জাবে রেল অবরোধের জেরে ভাড়াবাবদ রাজস্ব আদায়ে প্রায় ১২০০ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে। তাদের আরও দাবি, কৃষক বিক্ষোভের ফলে ২২২৫টির বেশি মালবাহী ট্রেন এবং প্রায় ১৩৫০টি যাত্রীবাহী ট্রেন স্থগিত করা হয় বা বাতিল করতে হয়। আর এর মধ্যে কিছু যাত্রীবাহী ট্রেনকে অন্য পথে ঘুরিয়েও দিতে হয়েছে।

গত সপ্তাহে সংসদে রেলমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, বিভিন্ন প্লাটফর্ম এবং সংলগ্ন রেলপথে দিনের পর দিন ধর্না, আন্দোলন ও ধর্মঘটের জেরে ২০২০–২১ অর্থবর্ষে ১৪৬২.‌৪৫ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে সরকারের। এর পাশাপাশি কৃষি বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের অংশ হিসেবে পঞ্জাব, হরিয়ানা এবং দিল্লির রাজধানী এলাকায় সমস্ত টোল পরিষেবা বন্ধ করে দেন কৃষকরা।

গত ২ ফেব্রুয়ারি ‘‌হিন্দুস্তান টাইম্‌স’‌–এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে কৃষকদের প্রবেশ রুখতে পঞ্জাব ও হরিয়ানা হয়ে দিল্লিতে আসা ১৫টি ট্রেন বাতিল করার জন্য উত্তর রেলকে আবেদন জানায় দিল্লি পুলিশ। যদিও উত্তর রেল কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে জানিয়েছেন, কিছু বিশেষ প্রক্রিয়াগত কারণে শুধুমাত্র তিনটি ট্রেন বিকল্প পথে চালানো হয়েছে।

সূত্রের খবর, ৩১ জানুয়ারি দিল্লি পুলিশ উত্তর রেলকে জানায়, পঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষকরা ১ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের সময় বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনা করছেন। দিল্লি পুলিশের দেওয়া দুটি চিঠিতে এটাও দাবি করা হয় যে, ২৬ জানুয়ারি লালকেল্লার ঘটনার মতো ১ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে সংসদ ভবনে নিজেদের সংগঠনের পতাকা তোলার চেষ্টা করতে পারেন বিক্ষোভরত কৃষকরা। তাই আগেভাগে উত্তর রেলকে পঞ্জাব–হরিয়ানা হয়ে দিল্লি আসা ট্রেনগুলিকে আটকানোর জন্য আবেদন জানায় দিল্লি পুলিশ।

বন্ধ করুন