বাড়ি > ঘরে বাইরে > প্রয়াত ছত্তিশগড়ের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী অজিত যোগী
অজিত যোগী
অজিত যোগী

প্রয়াত ছত্তিশগড়ের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী অজিত যোগী

  • আমলা ছিলেন তিনি। পরে রাজনীতির আঙিনায় পা রাখেন।

প্রয়াত হলেন ছত্তিশগড়ের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী অজিত যোগী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। 

চলতি মাসের শুরুর দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর থেকে রায়পুরের একটি হাসপাতালে ভরতি ছিলেন। ক্রমশ জটিল হচ্ছিল তাঁর অবস্থা। কোমায় চলে গিয়েছিলেন। তারপর শুক্রবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

পরে হাসপাতালের তরফে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আজ দুপুর দেড়টা নাগাদ থেকে ছত্তিশগড়ের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী অজিত যোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। ওঁনার আবার হৃদরোগ হয়। চিকিৎসকের দু'ঘণ্টার চেষ্টার পরও ওঁনার হৃদপিণ্ডের গতি ফিরিয়ে আনা যায়নি। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানানো হচ্ছে যে দুপুর সাড়ে তিনটের সময় উনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।’

জননেতা হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয় হলেও একেবারেই অভাবনীয়ভাবে রাজনীতির ময়দানে পা রেখেছিলেন অজিত যোগী। রাজনীতিতে আসার কোনও শখ ছিল না। বরং এক পার্সি আইএএস অফিসারের ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়ে ছেলেবেলা থেকেই আমলা হতে চেয়েছিলেন। স্বপ্ন পূরণের জন্য পাশে পেয়েছিলেন এক মারাঠি ব্রাক্ষণ শিক্ষককে। তাঁর কাছে শিখেছিলেন ইংরেজি।

পড়াশোনায় বরাবরই ভালো যোগী পরবর্তীকালে ভোপালে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে ভরতি হয়েছিলেন। ১৯৬৪ সালে উজ্জ্বয়িনীর একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রথম হয়েছিলেন। কিছুদিনের মধ্যেই ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস (আইপিএস) পরীক্ষায় পাশ করে মুসৌরিতে ট্রেনিং শুরু করেছিলেন। কিন্তু প্রসিক্ষণের মাঝে নিজের মত বদলে শুরু করেছিলেন আইএএস পরীক্ষার প্রস্তুতি। ১৯৭১ সালে পাশ করেছিলেন আইএএস পরীক্ষায়। তাঁর র‍্যাঙ্ক ছিল আট।

পরে যোগী জানিয়েছিলেন, রায়পুরের কালেক্টর হিসেবে কাজ করার সময় রাজীব গান্ধীর সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়েছিল। সেই সময় পাইলট ছিলেন রাজীব গান্ধী। ২০১৮ সালে একটি সাক্ষাৎকারে যোগী বলেন, 'রাজীবজি পাইলট ছিলেন এবং তিনি যখন রায়পুর আসতেন, আমি ওঁনার সঙ্গে বিমানবন্দরে দেখা করতাম। রায়পুর বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে বসে আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতাম।'

এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেছিলেন রাজীব গান্ধী। সেই সময় রাজ্যসভায় প্রতিনিধিত্বের জন্য একজন আদিবাসী মুখের খোঁজ করছিল কংগ্রেস নেতৃত্ব। সেজন্য অজিত যোগীর নাম সুপারিশ করেছিলেন দিগ্বিজয় সিং। তারপরই বদলে গিয়েছিল দক্ষ আমলার চলার পথ। প্রশাসনিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে অনিশ্চিত রাজনৈতিক জীবনে পা রেখেছিলেন যোগী।

পরে নয়া রাজ্য ছত্তিশগড়ের কংগ্রেস সরকারের মসনদে বসেছিলেন প্রাক্তন আমলা। ২০০০ সালের নভেম্বর থেকে ২০০৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর পদে আসীন ছিলেন। তবে দলের মধ্যে কোন্দলের জেরে ধাক্কা খেয়েছিল যোগীর রাজনৈতিক ভবিষ্যত। ২০০৩ সালে নির্বাচনে হারের পর জীবনের শেষদিন পর্যন্ত বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন যোগী। সেই বছরই একটি অডিয়ো টেপ প্রকাশ করে বিজেপি অভিযোগ করেছিল, গেরুয়া শিবিরের বিধায়ক ভাঙাতে টাকার প্রলোভন দেখিয়েছিলেন যোগী। সেই কারণে তাঁকে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল। তবে কয়েকমাস পরে কংগ্রেসের টিকিটে ২০০৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে জিতেছিলেন। কিন্তু প্রচারের সময়ে একটি পথ দুর্ঘটনা সম্মুখীন হয়েছিলেন। তারপর থেকে হুইলচেয়ারেই বসে বাকি জীবন কাটাতে হয়েছে যোগীকে।

তারপরও অবশ্য যোগীর পিছু ছাড়েনি বিতর্ক। তাঁর আদিবাসী পরিচয় নিয়েও রাজ্য-রাজনীতিতে যথেষ্ট শোরগোল পড়েছিল। এরইমধ্যে একটি উপনির্বাচনে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল যোগী ও তাঁর ছেলের অমিতের বিরুদ্ধে। তার রেশ ধরেই ২০১৬ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিজের দল জনতা কংগ্রেস ছত্তিশগড় (জে) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যোগী। 

তাতে অবশ্য সাফল্য মেলেনি। বরং শেষ জীবন কিছুটা নিষ্প্রভভাবেই কেটেছিল। শুক্রবার তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক নেমে এসেছে ছত্তিশগড়ের রাজনৈতিক মহলে। সবারই একটা বক্তব্য, যতই বিতর্ক থাক, জীবনের শেষদিন পর্যন্ত যা করেছেন নিজের ক্ষমতায়, দক্ষতায়।

বন্ধ করুন