বাড়ি > ঘরে বাইরে > সীমান্ত অতিক্রম করেনি চিন, কোনও পোস্টও দখল করেনি : মোদী
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (ছবি সৌজন্য এএনআই)
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (ছবি সৌজন্য এএনআই)

সীমান্ত অতিক্রম করেনি চিন, কোনও পোস্টও দখল করেনি : মোদী

  • বৈঠকে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পৌরহিত্যে শুক্রবার সর্বদলীয় বৈঠক হল। ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও।

বৈঠকে বিজেপি, কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, এআইএডিএমকে, ডিএমকে, টিআরএস, জেডি(ইউ), বিজেপি, এলজেপি, বসপা, সপা, শিবসেনা, এনসিপি-সহ ২০ টি রাজনৈতিক দলের সভাপতিরা ছিলেন। তৃণমূলের তরফে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবে অনুপস্থিত ছিলেন আপ এবং আরজেডি। শুক্রবার দুপুরে তারা জানিয়েছিল, তাদের সর্বদলীয় বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মতো সর্বদলীয় বৈঠক শুরুতে গালওয়ান সংঘর্ষে শহিদ জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নীরবতা পালন করা হয়।

বৈঠকে কে কী বললেন : 

১) গালওয়ান শহিদদের প্রতি সম্মান জানানোর পর শুরু হয় বৈঠক। প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী শরদ পাওয়ার বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ঠিক হয় সৈন্যরা অস্ত্র বহন করবে কিনা। এই সব সংবেদনশীল বিষয়গুলি আরও খেয়াল রাখা দরকার বলে জানান তিনি। প্রসঙ্গত এই নিয়ে অনেক জলঘোলা করেছে কংগ্রেস। 

২) এই বৈঠক আগে কেন ডাকা হয়নি, সেই প্রশ্ন করেন সনিয়া গান্ধী। তিনি বলেন, একমাস ধরে সরকার কী করছিল। এখন পরিস্থিতি কী, সেটাও জিজ্ঞেস করেন। এটা গোয়েন্দা ব্যর্থতা কিনা, সেটাও প্রশ্ন করেন তিনি। 

৩) টিআরএস নেতা কেসিআর বলেন, মোদীর আত্মনির্ভর ভারতের ডাকে ভয় পেয়ে গিয়েছে চিন। কাশ্নীরেের উন্নয়ন নিয়ে মোদী যা বলেছেন, এতে চিন্তায় পড়ে গিয়েছে চিন বলে জানান তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী। 

৪) এই ইস্যুতে সম্পূর্ণ ভাবে সরকারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডিএমকে নেতা এম কে স্ট্যালিন ও বিজেডির প্রতিনিধি পিনাকী মিশ্র। 

৫) গালওয়ানের ঘটনা কি গোয়েন্দা ব্যর্থতা নয়? মোদীকে প্রশ্ন করেছিলেন কংগ্রেসেক অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি সোনিয়া গান্ধী। জবাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানালেন, সেই ঘটনায় কোনওরকম গোয়েন্দা ব্যর্থতা নেই।

৬) মোদী বলেন, ‘ওরা (চিন) আমাদের ভূখণ্ডে না তো প্রবেশ করেছে, না আমাদের কোনও পোস্ট দখল করেছে। লাদাখে আমাদের ২০ জন জওয়ান শহিদ হয়েছেন। কিন্তু যাঁরা ভারতমাতার দিকে চোখ তুলে দেখেছেন, তাঁদের সবক শিখিয়ে দিয়ে গিয়েছেন।’

৭) মোদী : মোতায়েন হোক, অ্যাকশন হোক বা কাউন্টার অ্যাকশন হোক, জল-স্থল-বায়ুতে আমাদের সেনার যা করার দরকার তাই করছে। বর্তমানে আমাদের সেই ক্ষমতা আছে যে কেউই আমাদেরএক ইঞ্চি ভূখণ্ডের দিকেও তাকিয়ে দেখতে পারবে না। 

৮) মোদী : নিজেদের সীমান্ত সুরক্ষিত করার জন্য গত কয়েক বছরে সেইসব এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধবিমান, আধুনিক হেলিকপ্টার, মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম-সহ আমাদের সেনার অন্যতম প্রয়োজনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

৯) মোদী : নয়া পরিকাঠামোর ফলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর আমাদের টহলদারির ক্ষমতা বেড়েছে। ফলে সতর্কতাও বেড়েছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় কী কী গতিবিধি হচ্ছে, তা সময়ে নজরে চলে আসে। আগে যে এলাকাগুলিতে বেশি নজর রাখা হত না, এখন সেখানে ভালোভাবে নজরদারি চালাচ্ছেন জওয়ানরা। এখনও পর্যন্ত যাদের কেউ আটকাত না, জিজ্ঞাসা করত না, এখন আমাদের জওয়ানরা তাঁদের আটকাচ্ছেন। 

১০) মোদী : ভারত শান্তি এবং বন্ধুত্ব চায়। কিন্তু সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, গত মাসের গোড়ার দিক থেকে পূর্ব লাদাখ সীমান্তে চিনের সঙ্গে ভারতের বিবাদ শুরু হয়। তারপর সীমান্ত পরিস্থিতি, ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনা সেনা ঢুকে এসেছে কিনা ইত্যাদি প্রশ্নে কেন্দ্রের নীরবতা নিয়ে সরব হয় কংগ্রেস। অন্যান্য বিরোধী নেতারা খুচখাচ আক্রমণ করলেও মূলত সোনিয়া এবং রাহুল গান্ধীর থেকে বেশি প্রশ্ন আসছিল। এই পরিস্থিতিতে গত সোমবার গালওয়ান সংঘর্ষের পর আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়ে। লাগাতার প্রশ্নে জেরবার হয়ে গত বুধবার সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক দেন মোদী।

বন্ধ করুন