বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > প্রবল চাপে দিশারী কেরালা মডেলই, করোনা সংক্রমণের তোড়ে জারি নয়া বিধিনিষেধ
প্রবল চাপে দিশারী কেরালা মডেলই, করোনা সংক্রমণের তোড়ে জারি নয়া বিধিনিষেধ। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)
প্রবল চাপে দিশারী কেরালা মডেলই, করোনা সংক্রমণের তোড়ে জারি নয়া বিধিনিষেধ। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)

প্রবল চাপে দিশারী কেরালা মডেলই, করোনা সংক্রমণের তোড়ে জারি নয়া বিধিনিষেধ

  • বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য, সস্তার অ্যান্টিজেন টেস্টের মোহে আচ্ছন্ন আছে কেরালা। যা কম বিশ্বাসযোগ্য।

একটা সময় দেশের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছিল কেরালা মডেল। কিন্তু দেশের বিভিন্ন প্রান্ত যখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে, তখন ক্রমশ জটিল হচ্ছে কেরালার পরিস্থিতি। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যে একগুচ্ছ নয়া বিধিনিষেধ করা হল। রাতে যাতাযাতের চাপানো হয়েছে বিধিনিষেধ। উৎসব এবং জনসমাবেশের উপরও নজরদারির রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। 

কেরালায় করোনা পরিস্থিতি যে গুরুতর, তা স্বীকার করে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। তবে সরকারের তরফে কোনওরকম গাফিলতির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। ইউরোপের একাধিক দেশের উদাহরণ তুলে ধরে বিজয়নের দাবি, সেই দেশগুলিও করোনার দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্রোতে জর্জরিত। তাঁর আশ্বাস, করোনার সংক্রমণ রুখতে যা কিছু সম্ভব, তা করতে রাজি আছে রাজ্য সরকার। তিনি বলেন, ‘যে মানুষদের দরকার আছে, রাত ১০ টার পরে শুধুমাত্র তাঁদেরই যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে। নজরদারির জন্য আমরা ২৫,০০০ পুলিশকর্মী মোতায়েন করেছি। তৃণমূল স্তরের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো চালু করা হচ্ছে।’ সেই কর্মসূচি নাম ‘ব্যাক টু বেসিক’ (শুরুতেই ফিরে যাওয়া) দিয়ে বিজয়ন জানান, এই মুহূর্তে রাজ্যে সম্পূর্ণ লকডাউন একেবারেই সম্ভব নয়।

দেশের একমাত্র বামশাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জানান, দৈনিক নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানো হবে। তার অত্যন্ত ৭৫ শতাংশ হবে আরটি-পিসিআর পরীক্ষা। বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য, সস্তার অ্যান্টিজেন টেস্টের মোহে আচ্ছন্ন আছে কেরালা। যা কম বিশ্বাসযোগ্য। অথচ প্রায় ৬৬ শতাংশ ক্ষেত্রে অ্যান্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

তারইমধ্যে বৃহস্পতিবার কেরালায় ৫,৭৭১ জন নয়া করোনা আক্রান্তের হদিশ মিলেছে। সংক্রমণের হার ৯.৮৭। সেজন্য আমজনতার দায়িত্বহীন কাজকর্মকে দুষেছেন বিজয়ন। তিনি দাবি করেন, গত মাসে স্থানীয় স্তরের নির্বাচনের পর মানুষ সুরক্ষা বিধিতে ঢিলেমি দিয়েছেন। টিকা চলে আসার পর অনেকে হয়ত ভেবেছেন, করোনা-মুক্তি আসন্ন। তিরুবন্তপুরম মেডিক্যাল কলেজ এবং হসাপাতালের একটি সমীক্ষা (নিজেদের বাড়িতেই আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪ শতাংশ মানুষ) উল্লেখ করে কেরালার মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ঠিকভাবে নিভৃতবাস-পর্ব পালন করা হয়নি। বাইরে থেকে এসে অনেকেই নিজেদের পরিজনদের শরীরে করোনা ছড়িয়ে দিয়েছেন।

বন্ধ করুন