বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > রোজ দিনে ২-৩ বার ফোন করতেন অমিত শাহ, কেন? একান্তে জানালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (ফাইল ছবি)
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (ফাইল ছবি)

রোজ দিনে ২-৩ বার ফোন করতেন অমিত শাহ, কেন? একান্তে জানালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী

  • খোদ প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘যখন উত্তরপূর্বের দুই রাজ্যকে পরস্পরের মধ্যে লড়াই করতে দেখা যায় তখন গোটা দেশ যন্ত্রণা অনুভব করে’

গত ২৬শে জুলাই আন্তঃরাজ্য সীমান্ত সমস্যাকে কেন্দ্র করে কার্যত সংঘর্ষের চেহারা নিয়েছিল অসম ও মিজোরামের মধ্যে। বর্তমানে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের রাস্তা খুঁজছে দুপক্ষই। এনিয়েই সাক্ষাৎকারে অনেক প্রশ্নের খোলাখুলি জবাব দিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।

প্রশ্নঃ মিজোরামের সঙ্গে শান্তি অবস্থানের ব্যাপারে কিছু বলুন?

মুখ্যমন্ত্রীঃ মন্ত্রীরা আইজলে গিয়েছিলেন। তারপর আমরা যৌথ প্রেস বিবৃতি জারি করেছিলাম। ঠিক হয়েছে, কোনও রাজ্যই সীমান্তে পুলিশ মোতায়েন করবে না। শান্তপূর্ণভাবে সমস্যা মেটানো হবে। যতক্ষণ না শান্তি পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা হচ্ছে ততক্ষণ সিআরপিএফ থাকবে সীমান্তে।

প্রশ্নঃ আপনি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করেছিলেন। তাঁরা এনিয়ে কী বললেন?

মুখ্যমন্ত্রীঃ প্রথমত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথম থেকে বিষয়টি দেখছেন। পুলিশ পোস্টগুলিকে সিআরপিএফের হাতে দেওয়ার ব্যাপারে তিনিই বলেছিলেন। ওই দিন তিনি উভয়কেই ৪-৫ বার ফোন করেছিলেন।  ওই ৬-৭দিন ধরে তিনি উভয়ের সঙ্গেই ২-৩বার করে ফোন করেছেন, আমাদের বুঝিয়েছেন। তিনিই যৌথ প্রেস বিবৃতির খসড়া করেছিলেন। খোদ প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, যখন উত্তরপূর্বের দুই রাজ্যকে পরস্পরের মধ্যে লড়াই করতে দেখা যায় তখন গোটা দেশ যন্ত্রণা অনুভব করে।

প্রশ্নঃ আপনি বলছেন এটা দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা। কিন্তু আপনি দুবার সরকারে রয়েছেন। গত ৭০ বছরকে কি আপনি দোষ দিতে পারেন?

মুখ্যমন্ত্রীঃ এর সঙ্গে অনেক ইস্যু জড়িয়ে রয়েছে। যদি সমাধান করতে যান তবে প্রতিক্রিয়া শুরু হবে। মেঘালয়তে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা হচ্ছে আর রোজই অশান্তি হচ্ছে। 

প্রশ্নঃ আপনি যেভাবে বলছেন তাতে অনেকটা উপত্যকার সমস্যার মতো মনে হচ্ছে!

মুখ্যমন্ত্রীঃ সেভাবে তুলনা করা যায় না। এখানকার মানুষ দেশ বিরোধী নন। দুটি রাজ্যই দেশের প্রতি অনুগত। এটা দুটি রাজ্যের মধ্যে সমস্যা। দুজনেই মধ্যস্থতার জন্য কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। 

প্রশ্নঃ কীভাবে একটি রাজ্যের পুলিশ অপরের বিরুদ্ধে মেশিন গান উদ্যত করতে পারে?

মুখ্যমন্ত্রীঃ  দেখুন ১৯৮৯ সালে যখন অসম ও নাগাল্যান্ডের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল তখনও আমরা অনেককে হারিয়েছিলাম, কিন্তু কোনও দেহ দেখা যায়নি। সুতরায় এই সমস্যা অনেক গভীরে। তবে ৬দিনের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা গিয়েছে এটা সৌভাগ্যের।

প্রশ্নঃ মুখ্যমন্ত্রী হিসাবেও আপনি কার্যত হিন্দুত্বের লাইনে রয়েছেন। মিজোরামে কী এর কোনও প্রভাব পড়বে?

মুখ্যমন্ত্রীঃ অসমে কোনও পলিসি নেওয়া হলে, অন্য রাজ্যে তার প্রভাব পড়বে বলে আমি মনে করিনা।

প্রশ্নঃ শোনা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গেও আপনার আলোচনা হয়েছে?

মুখ্যমন্ত্রীঃ লোয়ার অসম ও মধ্য অসম জঙ্গিমুক্ত হয়ে গিয়েছে। আমার বন্ধুরা পরেশ বড়ুয়ার সঙ্গেও কথা বলেছেন। তিনি সার্বভৌমত্ব ইস্য়ুতে কথা বলতে চাইছেন। আমি বলছি আমরা সব বিষয়ে কথা বলতে পারি কিন্তু এটা বাদ দিয়ে। কারণ আমাদের একটাই কমন গ্রাউন্ড, সেটা অসম। 

 

বন্ধ করুন