বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > বুলডোজারে ভাঙা পড়ল বিহারে প্রশান্ত কিশোরের বাড়ির একাংশ, নেপথ্যে কি রাজনীতি?
প্রশান্ত কিশোর এবং ভাঙা পড়ছে বাড়ি। (ছবি সৌজন্য পিটিআই এবং টুইটার)
প্রশান্ত কিশোর এবং ভাঙা পড়ছে বাড়ি। (ছবি সৌজন্য পিটিআই এবং টুইটার)

বুলডোজারে ভাঙা পড়ল বিহারে প্রশান্ত কিশোরের বাড়ির একাংশ, নেপথ্যে কি রাজনীতি?

  • যে বাড়ির একাংশ এভাবে ভাঙা পড়ল, তা তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের পৈতৃক বাড়ি।

জাতীয় সড়কের উপর ছিল ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের বাড়ি। দেওয়ালের খানিকটা অংশ জাতীয় সড়কের উপরেই পড়েছে। আর জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের জন্য সেই অংশটুকু ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল। ঘটনাস্থল বিহারের বক্সার।

বিহার প্রশাসনের দাবি, জাতীয় সড়ক চওড়া করতে জমি অধিগৃহীত জমি খালি করা হচ্ছে। প্রশান্তের বাড়ির কিছুটা অংশও তার মধ্যে পড়ছিল। তাই অধিগৃহীত অংশটুকুই ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসনের দাবি। যে বাড়ির একাংশ এভাবে ভাঙা পড়ল, তা তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের পৈতৃক বাড়ি। ফলে এই ঘটনায় স্বভাবতই রাজনৈতিক রং লেগেছে। নীতীশ কুমারের সঙ্গে এখন আর তাঁর মধুর সম্পর্ক নেই। সরাসরি প্রতিপক্ষ দলের হয়ে কাজ করছেন প্রশান্ত। আর বিহারে এখন এনডিএ জোট। যার মুখ্যমন্ত্রী হলেন নীতীশ কুমার। আর ঘটনাস্থল হল বিহারের বক্সারের আহিরৌলি গ্রাম। সেখানেই পৈতৃক বাড়ি জেডিইউ’র প্রাক্তন সহ–সভাপতি, বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজিস্ট প্রশান্ত কিশোরের। বাড়িটি তাঁর বাবা শ্রীকান্ত পাণ্ডের তৈরি।

স্থানীয় সূত্রে খবর, শুক্রবার সকালে ওই বাড়ির সামনে বুলডোজার এবং স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকদের দেখে এলাকায় ভিড় হয়। আর ১০ মিনিটের মধ্যেই বাড়ির পাঁচিল এবং মূল ফটকটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী নীতীশের সঙ্গে প্রশান্তের বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ৮৪ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজে হাত দিয়েছে সরকার। তাতে প্রশান্ত কিশোরের বাড়ির ওই অংশের জমিটি প্রয়োজন। তাই তা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বিনিময়ে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে প্রাক্তন জেডিইউ নেতাকে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত পিকে ওই ক্ষতিপূরণের টাকা গ্রহণ করেননি বলে সূত্রের খবর।

তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজিস্ট হওয়ার জন্যই কি কেন্দ্রের কোপ পড়ল তাঁর উপর?‌ প্রশ্ন উঠছে। কারণ জাতীয় সড়ক ও হাইওয়ে সম্প্রসারণের কাজ কেন্দ্রের প্রকল্পের মধ্যে পড়ে। যদিও প্রশাসনের দাবি, জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজে যা প্রয়োজন ছিল, সেটাই করা হয়েছে। এটার মধ্যে কোনও রাজনৈতিক যোগ নেই। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে লালুপ্রসাদের রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) এবং কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে নীতীশকে ক্ষমতায় বসানোর পিছনেও বড় ভূমিকা ছিল তাঁর। কিন্তু নীতীশ বিজেপির হাত ধরার পর দু’জনের সম্পর্কে অবনতি ঘটে।

বন্ধ করুন